সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ০২:২৩ অপরাহ্ন

Notice :

আওয়ামী লীগের ভেতরে পরিশুদ্ধ রাজনীতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতিক দল। সে জন্য স্বাভাবিকভাবেই দেশের মঙ্গল-অমঙ্গল, উন্নতি-অবনতি নির্ভর করে রাজনীতিক দলের চরিত্রের উপর। রাজনীতিক দলের চরিত্র নির্ভর করে সে দলের শ্রেণিচরিত্রের উপর। রাজনীতিক দলের শ্রেণিচরিত্র নির্ভর করে দেশের আর্থসামাজিক বিন্যাসের উপর। এইভাবে একটি দেশের সকল সামাজিক বাস্তবতা একটার সঙ্গে আর একটা অঙ্গাঙ্গিভাবে সংশ্লিষ্ট। এই সংশ্লিষ্টতানির্ভর বিবেচনাকে বৈচারিক মাপকাঠি ধরে নিয়ে তার নিরিখে ‘সরকারি কর্মকর্তাকে অফিসে ঢুকে মারধর ॥ যুব শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার’ এইরূপ একটি সংবাদশিরোনামের সামাজিক বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করলে সংশ্লিষ্ট দলে রাজনীতির নীতি বলে কোনও উত্তম কীছুর অস্তিত্ব আছে বলে অনুমিত হয় না।
আওয়ামী লীগ মানুষের কাছে কতোটা প্রিয় কিংবা অপ্রিয় সেটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে কোনও ভূমিকা রাখে না। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় জনপ্রিয়তা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নির্ণায়ক মাপকাঠি নয়। নির্দ্বিধায় বলি, আওয়ামী লীগ বর্তমানে আমাদের দেশের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষিত দল, যে-রাজনীতিক দলটি দেশের ও দেশের মানুষের সংকটমোচনে প্রকৃতপ্রস্তাবেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়তিনির্ধারিত প্রপঞ্চের মতো এটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে অনিবার্য নিয়ামক, এর কোনও বিকল্প আপাতত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তার কারণ ১৯৭৫-য়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, বলতে গেলে, দীর্ঘ ৪৪ বছর এই দল ক্ষমতার বাইরে ছিল। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ভিন্ন অন্য কোনও রাজনীতিক দল দেশের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলতে পারে না, উন্নয়ন তো নয়ই। অপরদিকে এ কথাও প্রমাণিত সত্য যে, দেশে কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্য অনেক দল আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনও রাজনীতিক দলের আপাতত বাংলাদেশকে ২০৪০ সালের উন্নত দেশে পর্যবশিতকরণের গুরুদায়িত্ব বহনে পারঙ্গমতা নেই।
এমতাবস্থায় যদি পত্রিকায় সংবাদ বেরুয় : কোনও জেলা শহরের জাতীয় যুব শ্রমিক লীগ সদর উপজেলা কমিটির সহসভাপতি জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যালয়ে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জেলা কর্মকর্তাকে মেরে আহত করেছেন, তবে এইরূপ সন্ত্রাসী কর্মকা- আওয়ামী লীগর ভাবমূর্তিকে কোথায় নিয়ে যায়? সুনামগঞ্জে এইরূপ একটি ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে। আপাতত এই ঘটনার এর বেশি বর্ণনা বা আলোচনা সঙ্গত কারণেই এখানে সন্নিবেশিত করতে চাই না। খারাপ ঘটনা নিয়ে বেশি মাতামাতি করা সমীচীন নয়।
কিন্তু আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আওয়ামী লীগের ২০৪০ সালের বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে তৃণমূলের অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনীতিক সততা ও জনসেবার প্রতি একনিষ্ঠতা প্রশ্নাতীত হতে হবে। আত্মীয়কে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি না করার কারণে (সেটি কোনও অপরাধ ছিল না) জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মকর্তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করার মধ্যে সততা ও জনসেবা করার মনোভাবের লেশ মাত্রও নেই, এমনকি নেই এক রতি রাজনীতিক সংস্কৃতির উপস্থিতি। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো এমন সন্ত্রাসী চরিত্রের হলে আমরা অদূর ভবিষ্যতে বড় জোর একটা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে দেখতে পাব, সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড়ানো, কোনও দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগকে নয়। এবংবিধ জনবিচ্ছিন্ন ও দুঃখজনক অবস্থায় আওয়ামী লীগকে আমরা দেখতে চাই না। পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগের কাছে দেশ ও জাতির এমনটা প্রত্যাশা নয়। এমন হলে, ২০৪০ সালে সম্ভাব্য উন্নয়নকে সফল করা যাবে না, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।
আমরা মনে করি অনতিবিলম্বে দলের ভেতরে অনুপ্রবিষ্ট এইরূপ স্বার্থান্বেষীদের বিরুদ্ধে পরিশুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হোক এবং আওয়ামী লীগের নীতিবিরোধী এইসব সংগঠনকে আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হাক। এমন ঘটনা দেশে দুর্লক্ষ্য নয় যে, আওয়ামী লীগের নেতার ছাড়পত্র নিয়ে কোনও রাজাকার কোনও না কোনও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের থেকে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভেতরে পরিচালিত রাজনীতিক দলের মধ্যে দুর্নীতির ছায়া পড়বেই। সেটা ঠেকানো সহজ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের দুর্নীতিমুক্ত দলের পরিণত হওয়া এই জন্য জরুরি যে, তা নাহলে যথাযথ মাত্রায় দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব হবে না এবং এই উন্নয়ন না হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণেই এই দলটি কালের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে হারিয়ে যাবে অথবা আবার ৪৪ বছরের জন্য ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে রাজনীতিক নির্বাসনে যেতে হবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের একমাত্র রক্ষাকবচ স্বঘোষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তদেরকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের একমাত্র শর্ত হলো সততা অর্থাৎ দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি। তাই সামগ্রিক অর্থে আওয়ামী লীগের ভেতরে এখন চাই একটি পরিশুদ্ধ রাজনীতিক পরিবেশ। মনে রাখতে হবে, রাজনীতিক দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান যেমন দেশের উন্নয়নকে নিশ্চিত করে তেমনি দলকে করে ইস্পাৎ কঠিন ও ধারালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী