শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দু’পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরকে ধন্যবাদ জানাই, তাঁর জনহিতকর উদ্যোগের জন্য। তিনি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব সকাশে আবেদনপত্র পেশ করেছেন। তিনি তাঁর আবেদনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ০ (শূন্য) কিলোমিটার থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আবেদন করেছেন।
গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক সংবাদপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বিস্তৃতির দু’পাশে প্রায় তিন শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং বলা বাহুল্য, এইসব স্থাপনার কোনওটিরই কোনও সরকারি অনুমোদন নেই। অবৈধ এইসব স্থাপনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন যাবৎ একে একে গড়ে উঠেছে এবং ক্রমাগত জনভোগান্তির মাত্রা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তোলেছে। এমনই চলে আসছে এবং চলতে চলতে বিষয়টা দেশের সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিতে এমন স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ও জনগণের দৃষ্টিতে মনে হয় এমন তো হতেই পারে, এতে কোনও অন্যায়, অবৈধতা নেই কিংবা কার্যত আইনের লঙ্ঘনের মতো কোনও ঘটনা ঘটছে না। এগুলো মাঝে মাঝে কোনও কোনও সময় কোনও কোনও কারণে হয় তো নির্মমভাবে কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রযতেœ উচ্ছেদ করা হয়, তখন কেউ টুশব্দটি পর্যন্তও করে না। করে না এজন্য যে, এর পেছনে কোনও আইনি বৈধতা থাকে না, বরং পুরোটাই অপরাধযোগ্য অন্যায়, কিন্তু সে-ন্যায়ের প্রতিবিধানস্বরূপ শাস্তি প্রদানের কোনও উদ্যোগও কোনও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গৃহীত হতে দেখা যায় না। তৎপ্রেক্ষিতে কীছু দিন পরে আবার ব্যাঙের ছাতার মতো এইসব অবৈধ স্থাপনা গজিয়ে উঠে। এই গজিয়ে উঠার বিষয়টা সকল পর্যায়ের মানুষজনের চোখে যেমন পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চেখে পড়ে না এমন নয়, কিন্তু বাস্তব অবস্থা এমন যে, তাঁরা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন, কোনও ধরনের প্রতিরোধ তোলেন না। সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান ও উচ্চনিচ মহলের সকলেই এই বিষয়ে অনবগত এটাও ভাবার কোনও অবকাশ নেই, বরং এটাই প্রকৃত সত্য যে, সকলেই কমবেশি এ সম্পর্কে অবগত আছেন ও বিষয়টি অপ্রতিহতভাবে অব্যাহত থাকে এবং শেষ পর্যন্ত একজন মালেক হুসেন পীরকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে সচিবালয়ে আবেদন করতে হয়।
আমরা মনে করি এখন সময় এসেছে, সড়কের পাশে এইরূপ স্থাপনা বছরের পর বছর রেখে না দিয়ে সড়ককে যান চলাচলের জন্য আরও প্রশস্ত করার। এতে করে সম্ভাব্য স্থানে আসবাবপত্র নির্মাণের উপযুক্ত ও ছায়াদার কাষ্ঠল বৃক্ষ রোপণের সুবিধাকে ব্যবহার করে সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানো যাবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাবার সঙ্গে সঙ্গে জনদুর্ভোগ আর হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী