শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ০৯:১০ অপরাহ্ন

Notice :

‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পে গড়িমসি

বাদল কৃষ্ণ দাস ::
শাল্লা উপজেলায় “জমি আছে ঘর নেই” প্রকল্পের আওতায় ৭২টি ঘরের নির্মাণকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তালিকাভুক্ত উপকারভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজের জমিতে গৃহ নির্মাণ” উপ-খাতের আওতায় শাল্লা উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ৭২টি গৃহ নির্মাণ ব্যয় নির্বাহে গত ২৪/০৫/২০১৮ইং তারিখে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) স্বাক্ষরিত পত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রেরণ করা হয় এবং এতে ৩০/০৬/২০১৮ইং তারিখের মধ্যেই নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার বাধ্যবাধকতা নির্দেশিত ছিল। গত ১৬ মে/২০১৬ পরিপত্র অনুযায়ী বলা আছে- ১৭৫ বর্গফুটের একটি সিআইসিট ঘর নির্মিত হবে যাতে একটি আলাদা টয়লেট থাকবে। এতে উপকারভোগীর ১-১০ শতাংশ জমির মালিকানা থাকতে হবে। নীতিমালায় উল্লেখ আছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে পিআইসি দ্বারা উপজেলা প্রশাসন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ঘর নির্মাণকাজ সম্পাদন করবে এবং পিআইসিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও আহ্বায়ক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সদস্য সচিব, উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি), উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সদস্য হিসেবে থাকবেন। এই কমিটির অংশগ্রহণে নির্ধারিত সময়ের ৪৫ দিনের মধ্যেই ঘর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আদৌ তা হয়নি। নির্ধারিত সময় পরে আরো এক বছর অতিক্রান্ত হলেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রকল্প কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ৭২টি ঘরের মধ্যে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নে রয়েছে ১৩টি, হবিবপুর ইউনিয়নে ১২টি, বাহাড়া ইউনিয়ন ২০টি, শাল্লা ইউনিয়নে ২৭টি। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত কোন কোন ঘর এখনো নির্মাণই করা হয়নি। কোন কোন ঘরের বেড়া, টুলি, দরজা, জানালা, টয়লেট নির্মাণ না করেই ঘরমিস্ত্রি লাপাত্তা রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সবক’টি ঘর নির্মাণকাজে কাঠ সরবরাহ করা হয়েছে নিম্নমানের। যে কারণে নিম্নমানের কাঠ ফেলে রেখে ঘর মালিকরা নিজেদের টাকায় বাজার থেকে মানসম্মত কাঠ এনে ঘরের কাজে লাগিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই ঘর পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে হবিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তখনকার পিআইও নজরুল ইসলাম থাকাকালে একবার এসংক্রান্ত একটি মিটিংয়ে তিনি ছিলেন। তবে কতটি ঘর তার ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না।
বাহাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে দেওয়া কয়েকটা ঘরের কাজ তিনি দেখেছেন। ঘরগুলোতে দেওয়া কাঠ ভাল নয় এবং সবকটি ঘরের কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি।
এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প যখন আসে তখনকার পিআইও এগুলোর কোন কাজ করাননি। ঘর নির্মাণের উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানসম্মত ঘর নির্মাণ সম্ভব নয় বলে তখনকার পিআইও নজরুল ইসলাম কাজ শুরু করেননি। আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর ইউএনও মহোদয়ের পরামর্শ মোতাবেক ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। তাই নির্মাণকাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে ৭২টি ঘরের মধ্যে ৬০টি ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মুক্তাদির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী