রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

Notice :

ধর্ষিতা শিশুটি প্রতিকার লাভ করুক

সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুর এলাকায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে, এক বখাটে মেয়েটিকে চকোলেটের প্রলোভনে ফেলে তার নির্জন ঘরে নিয়ে গিয়ে এই অপকর্মটি করেছে নির্দ্বিধায় এবং যথারীতি কাউকে কীছু না বলার ভয় দেখিয়ে দিয়েছে। এরপর কী বলার থাকতে পারে? এমন একটি খারাপ অসংস্কৃত সমাজে আমরা বাস করছি যেখানে একটি পরিণত বয়সের তরুণ একটি ৫/৬ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে অবলীলায় ধমক লাগাচ্ছে কাউকে বলবে না। জানাজানি হলে অভিভাবকরা এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে সমাজপতিরা বখাটের পক্ষাবলম্বন করছে। ধর্ষণে অসুস্থ মেয়েশিশুটি চিকিৎসায় যেতে গেলে প্রকাশ্যে প্রতিরোধ তোলা হচ্ছে। মেয়েটি এই ধর্ষণের কারণে বিনাচিকিৎসায় মরে গেলে কারও কোনও আপত্তি নেই, কীছু যায় আসে না। এ লজ্জা রাখি কোথায়?
প্রকৃত অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে, স্বাভাবিক কারণেই অপরিণত বয়স্কা মেয়েটি এই বলৎকারের ধকল সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েটিকে তার মা হাসপাতালে নিয়ে আসতে চাইলে বখাটে ও তার অভিভাবকরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে ও হুমকি দিতেও কোনও কার্পণ্য করেনি। বাঁচোয়া এই যে, মেয়েটিকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করানো গেছে। আমরা মেয়েটির সুস্থতা কামনা করছি আর অপেক্ষায় আছি ও কামনা করছি সমাজ যেনো এই ধর্ষিতা মেয়েটির পক্ষে দাঁড়ায়।
সে যাই হোক কথা থেকেই যায়। কারও কারও মনে হতে পারে এই ঘটনাটি একটি তাৎপর্যহীন ঘটনা। কিন্তু এটি আসলেই তাৎপর্যহীন কোনও ঘটনা নয়। এই ঘটনাটিকে একটু হলেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হয় এ জন্যে যে, এটি সমাজের ভেতরে কতোগুলো বার্তা পরিবেশন করছে। বার্তাগুলোর ভাষিক অনুবাদ হতে পারে এরকম : ১. এখানে অন্যায় করা খুব সহজ, বিশেষ করে নিচুতলার মানুষের সঙ্গে। কারণ নিচুতলার মানুষেরা আইনের সহায়তা থেকে এখনও বিযুক্ত অবস্থানেই বসবাস করছে এবং বলতেই হয় যে, প্রকৃতপ্রস্তাবে সমাজ নি¤œবর্গের মানুষের পক্ষে সহজে দাঁড়ায় না। ২. সমাজ ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হয়েছে যে, এখানে অন্যায় করে সহজেই পার পাওয়া যায়, বড়জোর কীছু হুমকি-ধামকি দিয়ে রাখলেই কেল্লা ফতে। ৩. যতো অন্যায়ই হোক সমাজপতিদের সমর্থন পেতে কোনও বেগ পেতে হয় না, যৎসামান্য উৎকোচ সুবিধা দিলেই তা মেলে। সামাজিক বিচার, নীতি-নিয়ম-নৈতিকতা সবকীছুই পণ্য হয়ে গেছে, কেনা যায়, বিক্রি হয়। ঘটনাটি উপরোক্ত বার্তাগুলো পরিবেশনের সঙ্গে সবচেয়ে মারাত্মক যে বার্তা পরিবেশন করছে সেটি হলো : ধর্ষক মনে করছে ধর্ষণ করা তার অধিকার, ধর্ষণের কারণে ধর্ষিতা অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা পাওয়ারও কোনও অধিকার ধর্ষিতা স্বাভাবিকভাবেই হারায়, চিকিৎসার করার সে-অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে বাধা প্রদান করাও ধর্ষকের বৈধ কর্তব্য।
আমরা এর বেশি কীছু আপাতত বলতে চাই না। এই মুহূর্তে আমরা কেবল চাই : এই ধর্র্ষিতা মেয়েটি প্রতিকার লাভ করুক। ধর্ষকের যথোপযুক্ত শাস্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক। আমরা জানি, কোনও রহস্যজনক কারণ, বিশেষ করে রাজনীতিক পৃষ্ঠপোষকতা এড়াতে পারলে এবং আইন ও প্রশাসন ধর্ষকের প্রতি মমত্ব প্রদর্শন না করলে ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করা কোনও কঠিন কাজ নয়, বরং খুবই সহজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী