মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৪ অপরাহ্ন

Notice :

লুটপাট বন্ধের কাজও সরকারকেই করতে হবে

সম্প্রতি প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় দু’রকমের সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। তারমধ্যে ভালোও আছে, মন্দও আছে। সংবাদগুলো তাই মনোকষ্টের কারণ যেমন হয়, তেমনি আশার আনন্দে মনকে কানায় কানায় ভরে তোলে, সোনালী স্বপ্নের টানে মন ভেসে যায় অদূরভবিষ্যতের দিনগুলোর ঝলমলে আলোকোজ্জ্বলতায়। আসলে মানুষের জীবনটাই এমন, আশায় বসতি।
পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত পূর্ববাংলার মানুষের আশা ছিল সুখ ও শান্তির, কিন্তু পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে মানুষ পেয়েছে নিছক নির্যাতন, যাকে বলে, স্বৈরশাসন ও আখকে ছিবড়ে করে দেওয়ার মতো আর্থনীতিক শোষণ ও সংস্কৃতিবিনাশী আক্রমণ। ৭১-য়ে এই দেশের মানুষ নতুন আশায় বুক বেঁধেছে, যুদ্ধ করেছে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে, শেষে ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে। স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের সে-আশায় ছাই দিয়ে পরাজিত শক্তির রাজনীতিক প্রতিনিধি রাজাকাররা ক্ষমতা দখল করেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। বাঙালির আশা পূর্ণ হলো না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এখন বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশ-অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনার সরকার আবার নতুন আশার আলোকবর্তিকা উঁচিয়ে ধরেছেন জাতির সমক্ষে। তাঁর সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রতিনিয়ত শুনাচ্ছেন আশার বাণী। গত শুক্রবার (৭ জুন) জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলছেন, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে চলেছে।’ ফিরিস্তিটা নিতান্ত সংক্ষেপে এরকম : মহাসড়কের ও হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন, প্রতিটি শহরে যানজট নিরসনে উড়ালসেতু নির্মাণ, আগামী বছরেই সুনামগঞ্জ-আউশকান্দি-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল শুরু ইত্যাদি অনেক কাজের পরিকল্পনা আছে সরকারের। এসব শ্রবণ করে বরাবরের মতোই আমরা দেশবাসী আশায় বুক বেঁধেছি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে।
কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বারবার ভেঙে যায়। ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার শিকারে পরিণত হয় জনগণের প্রতিটি স্বপ্নসাধ। হাওররক্ষাবাঁধের টাকা লুটপাটে লেগে যায় পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির ছত্রছায়ায় আশ্রিত কায়েমী স্বার্থবাদী লুটেরাশ্রেণি, কৃষক বারবার উৎপাদিত ধান কম দামে বিক্রয় করতে বাধ্য হয় ফড়িয়া ব্যবসায়ী কাছে। দেদার দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে উন্নয়ন অবকাঠামোর প্রায় প্রতিটি কাজ নির্মাণ শেষের পরপরই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা ভেঙে পড়ে, অকেজো হয়ে যায়। সড়কগুলো ছোটবড় গর্তখানাখন্দে ভরে ওঠে। বরাবরের মতো, বলতে গেলে, এখনও লুটপাটতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে এভাবেই চলছে দেশের উন্নয়ন কাজ। দেশের জনগণ তাই ঘরপোড়া গরুর মতো সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয়ার্ত হয়ে ওঠে। স্বপ্নভঙ্গের দৃষ্টান্তের বর্ণনা আগে হাজির করেছি, যার বিস্তৃতি পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত বহাল। এবার হাজির করতে চাই যে-স্বপ্নটা মানুষের মনে জাগানো হয়েছে, তা হোক সেটা ভবিষ্যতের। ২০৪০ সালের উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে-উন্নয়ন কাজ সরকার হাতে নিয়েছেন তার প্রতিটিতেই লুটপাটতন্ত্রীরা থাবা বসাতে চাইবে, যেমন অতীতে বসিয়ে এসেছে। উন্নয়নের কাজে এমন লুটপাটতন্ত্রের আধিপত্য জনগণের কাম্য নয়। তাই আগেভাগেই বলে রাখা দরকার যে, উন্নয়ন কাজ পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে লুটপাটতন্ত্রীদের ঠেকানোর পরিকল্পনাও সরকারকে প্রণয়ন করতে হবে, এ ব্যাপারে ছাড় দিলে দেশে কোনও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। জনগণের ভবিষ্যৎ সুখশান্তির আশা নৈরাশায় পর্যবশিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী