রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

Notice :

ঈদ মোবারক আসসালাম

মাও. কাজী মো. শাহেদ আলী
১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র ঈদুল ফিতরকে জানাই ঈদ মোবারক আসসালাম। পবিত্র রমজান শরীফের মাস বিদায়ের শেষে আসছে খুশি ও আনন্দের ঈদ। ঈদের নামাজ প্রথম শুরু হয়েছে এবং কেন পড়ার হুকুম হয়েছে এ ব্যাপারে গায়াতুল আওতার কিতাবে সুনামে আবু দাউদ শরীফ হইতে লিখিত আছে- হযরত আনাস (রা.) বলিয়াছেন- যখন হযরত নবী করীম (সা.) মক্কা শরীফ হইতে হিজরত করিয়া মদিনা শরিফে গিয়াছিলেন, তখন তিনি দেখিতে পাইলেন যে, মদিনার লোকেরা বৎসরে দুই দিন একত্রিত হইয়া খেলাধুলা করিয়া থাকে। তখন আঁ হযরত (সা.) জিজ্ঞাসা করিলেন, কি জন্য এরূপ খেলাধুলা করা হয়? তাহারা বলিল হুজুর! আমরা যখন বেদ্বীন ছিলাম, তখন আমরা বৎসরে দুই দিন এরূপভাবে খেলাধুলা ও আমোদ করিতাম। ইহা শ্রবণে হুজুর পাক (সা.) এরশাদ ফরমাইয়াছিলেন, আল্লাহ তায়ালা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামাজের দুই দিনকে আমাদের জন্য খুশি অর্থাৎ আনন্দের দিন দান করিয়াছেন। দুররুল মোখতার ও তাহযাবী কিতাবে আছে- ঈদের নামাজ প্রথম হিজরিতে মদিনা শরিফেই পড়া আরম্ভ হইয়াছে। তরীকুল ইসলাম পৃ. ৮৩। ঈদুল ফিতরের ফজিলত ও বরকত এবং বিধিবিধান ব্যাপারে বহু সংখ্যক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হযরত বুরায়দা আসলামী (রা.) বলেন, হুজুর পাক (সা.) রোজার ঈদের দিনে কিছু না খেয়ে নামাজে বের হতেন না এবং কোরবানির ঈদের দিনে নামাজ আদায় না করে কিছু খেতেন না। (তিরমিজি)। বোখারী শরিফের এক বর্ণনায় রয়েছে- হুজুর পাক (সা.) কয়েক দানা খেজুর খেতেন আর খেজুর তিনি বেজোড় সংখ্যায় খেতেন। ঈদুল ফিতরের দিন সুন্নত আমলসমূহ যথা শরিয়তের সীমাস্থলে গ-িবদ্ধ থাকিয়া যথাসাধ্য সুসজ্জিত হওয়া, গোসল করা, মিসওয়াক করা, অতিপ্রত্যুষে বিছানা থেকে ওঠা ও ফজরের নামাজের পর সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া, আতর ইত্যাদি সুগন্ধি ব্যবহার করা, ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া এবং ছদকায়ে ফিতরা আদায় করা, ঈদগাহে হাঁটিয়া এক রাস্তায় যাওয়া অন্য রাস্তায় আসা অর্থাৎ রাস্তার ডান পার্শ্বে দিকে যাওয়া ও ডান দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
ঈদের খুতবা শুনা ওয়াজিব। ঐ সময় হট্টগোল করা বা চাঁদা উঠানো ইত্যাদি ঠিক নয়। আস্তে আস্তে তাকবীর পাঠ করিতে করিতে ঈদগাহে যাওয়া। তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ ইমামের পিছনে আদায় করা উচিত।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) সদকায়ে ফিতর এজন্য নির্ধারিত করেছেন যে, এ ফিতরা রোজাদারদেরকে বেহুদা কাজ কর্ম এবং অশ্লীলতার একটি বিচ্যুতি থেকে পাক করবে এবং সে সাথে অভাবগ্রস্তদের খানাপিনা ও ঈদ করবে তাহার ব্যবস্থার জন্য।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহ.) বলেন, ঈদের দিন খুশির দিন। এ দিনে মুসলমানগণের এক বিরাট জনসমাবেশের মাধ্যমে ইসলামের শান-শওকত প্রকাশ পায় এবং সদকায়ে ফিতরের দ্বারা এ উদ্দেশ্য পূর্ণ করা। তাছাড়া সদকায়ে ফিতর রোজার পূর্ণতারও কারণ হয়।
যে ব্যক্তি সদকায়ে ফিতর নামাজের পূর্বে দিয়ে দেয় সেটা হবে আল্লাহর নিকট গৃহিত সদকা। আর যে, ঈদের নামাজের পরে দিবে তার সদকা হবে দান-খয়রাতের মতো একটি সদকা। রমজান শরিফের মাসের রোজার পর ১লা শাওয়াল তারিখে রোজা ভঙ্গ করতঃ ফিতরা দেওয়া উপলক্ষে সকলে যে খুশি ও আমোদ করে এবং আল্লাহপাকের শুকুর গোজারির জন্য সমস্ত মুসলমানগণ একত্রে মিলিয়া-মিশিয়া আজান ও একামত ব্যতীত দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ইমামের পিছনে আদায় করে তাহাই মোটকথায় পবিত্র ঈদুল ফিতর।
পবিত্র রমজানুল মোবারকের মাসে ছিল, রোজা, সাহরি, ইফতার, তারাবিহ, কিয়ামূল লাইল, তাহাজ্জুদ, পবিত্র কোরআন শরিফ তেলাওয়াত, প্রত্যেক মসজিদে বাতি, আলোর ব্যবস্থা এবং প্রত্যেক মসজিদে মসজিদে শেষ ১০ দিনের জন্য ইতিকাফ, তাছবিহ, তাহলীল, জিকির আজকার দরূদ শরিফ, ফিতারা আদায় ও গরিব দুখী মানুষের মধ্যে অন্ন বস্ত্র ফিতরা জাকাত লিল্লাহ ছদকা আদায়ের মাস।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে ফরিয়াদ, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা যেন দুনিয়ার সকল মোমিন-মুসলমানদিগকে পবিত্র সিয়াম সাধনার উছিলায় ইহার পূর্ণ বদলা আল্লাহতায়ালা তার নিজ কুদরতের হাতে দান করেন এবং ঈদুল ফিতরের দিন সকল ইবাদত বন্দেগী কবুল করেন এবং বেহেস্তের রাইয়্যান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার তৌফিক দান করেন। আমিন, ছুম্মা আমিন।
[মাওলানা কাজী মোহাম্মদ শাহেদ আলী, সাবেক সুপার (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত), ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদরাসা, মীরের চর, মঙ্গলকাটা, সদর, সুনামগঞ্জ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী