বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

Notice :
«» কর্মসৃজনে শ্রমিকের বদলে মেশিন «» নর্থ-ইস্ট আইডিয়াল কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা «» নিরুত্তাপ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে কোন্দল «» রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক হলেন চপল «» সাংহাই হাওর : গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারে গ্রহণ করা হয়নি প্রকল্প «» আদর্শ জাতি গঠনে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই : মেয়র নাদের বখত «» সুনামগঞ্জে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী «» শেখ হাসিনায় আস্থা আছে ৮৬ শতাংশ নাগরিকের «» ১১ উপজেলায় নির্মাণ হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান «» হাওরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শিশুদের ঝরে পড়ার বাস্তবতা ও গৃহীত উদ্যোগ : ইয়াসমিন নাহার রুমা

কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি : প্রকল্প শুরুর আগেই লুটপাটের ব্যবস্থা

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্প জমাদানের এক মাস আগে কাজ শেষ করা হয়েছে! প্রকল্প জমাদানের এক সপ্তাহ পর উপজেলা পরিষদ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটিও নেওয়া হয়েছে মাত্র একজন ব্যক্তির উপকারের জন্য। এক ব্যক্তির চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটিতে উপজেলার সবেচেয়ে বেশি বরাদ্দ প্রায় ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে মেশিনে মাটি কেটে এখন শ্রমিক দেখিয়ে মাস্টার রোল চূড়ান্ত করে বিল তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির এই চক্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা (উপসহকারি প্রকৌশলী) ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তবে অভিযুক্তদের সবাই দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এদিকে বিষয়টি নজরে আসায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে বিল দিবেননা বলে জানিয়েছেন। এই ইউনিয়নের অপর আরেকটি প্রকল্প ৬ মাস আগে কাজ করিয়ে এটির বরাদ্দও লোপাটের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসৃজন প্রকল্প গত ২৫ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে দ্বিতীয় পর্যায়ে দুটি প্রকল্প জমা দিয়েছিল ১৮ এপ্রিল। ‘বাণিপুর নয়াহাটির মিজানের বাড়ির সামন থেকে শাহাব উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় সাত লাখ টাকারও বেশি। এটি বাস্তবায়িত হওয়ায় কেবল শাহাব উদ্দিনই উপকৃত হবেন। এই বরাদ্দই একটি প্রকল্পে উপজেলার সবচেয়ে বৃহত্তম বরাদ্দ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পটি একমাত্র শাহাব উদ্দিন নামের একজন ব্যক্তির উপকারেই আসবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তার বাড়ি ছাড়া আর কোন বাড়ি না থাকায় এর উপকারভোগী কেবল তিনিই। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের সহযোগিতায় কৌশলে ওই রাস্তাটি করে নেওয়া হয়েছে বলেও এলাকাবাসীর অনেকের অভিযোগ। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন গত জানুয়ারি মাসে শাহাব উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এস্কেভেটর মেশিনে খাল খনন করছে ঐশী এন্টারপ্রাইজ। খাল খননের সময় সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নামমাত্র খাল খনন দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী ওই রাস্তাটি নির্মাণ করিয়ে নেন। প্রকাশ্যে মেশিন দিয়ে মাটি কেটে এখন তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মানিক মিয়া ও উপসহকারি প্রকৌশলী তৌহিদ মিয়ার সহযোগিতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের শ্রমিকদের নামে মাস্টার রোল তৈরি করে বিল উত্তোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তবে এ বিষয়ে কর্মসৃজন প্রকল্পের কোন শ্রমিকই জানেননা। তদারকি কর্মকর্তা মো. তৌহিদ মিয়াও এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। ওই প্রকল্পে বড়জোর ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দই যথেষ্ট ছিল বলে মনে করেন এলাকাবাসী। মূলত নানাভাবে বরাদ্দ আত্মসাৎ করতেই বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
বাণীপুর গ্রামের মুরুব্বি মো. নূরুল আমিন বলেন, গত জানুয়ারি মাসে নৌকাখালি খাল খননের সময় খাল খনন না করে এখানে মেশিন দিয়ে এই রাস্তাটি করা হয়েছে। রাস্তাটির দুই পাশ থেকেই মাটি কাটা হয়েছে। গ্রামের সবাই দেখেছেন মেশিন দিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে মাটি কাটা হয়েছে। এখন শুনছি ৭ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্প জমা দিয়ে শ্রমিক দেখিয়ে বিল তোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে দুর্নীতির বড় চক্র জড়িত। এদিকে একই ইউনিয়নের এই প্রকল্পের পার্শ্ববর্তী আরেকটি প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজও হয়েছে ৬ মাস আগে। প্রকল্পভুক্ত ‘বর্মা উত্তর গ্রামের আব্দুন নূরের বাড়ির সামনের পুরাতন কর্মসৃজন রাস্তার মাথা পর্যন্ত’ নামের এই প্রকল্পটিতে আরো দুই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি সম্পূর্ণ ভালো থাকায় এখানে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও মনে করেন এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারের সহযোগী হাবুল চৌধুরী বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে মোহনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব মেশিন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে রাস্তাটি করেছেন। তবে এই মেশিনেই আমরা খাল খননও করেছি। তিনি কিভাবে মেশিন মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছেন সেটা আমাদের জানা নেই। তবে এই রাস্তা মেশিনে মাটি কেটেই বানানো হয়েছে।
তদারকি কর্মকর্তা মো. তৌহিদ মিয়া প্রথমে এই প্রতিবেদককে বলেন, ১৫ দিন আগে আমার সামনে কাজ করিয়েছেন চেয়ারম্যান। পরেরদিন তিনি বলেন, আমি কাজ দেখিনি। চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন তিনি কাজ করেছেন।
প্রকল্প জমাদান ও অনুমোদনের আগেই কিভাবে কাজ শেষ দেখানো হলো জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মানিক মিয়া বলেন, আমরা অনেক সময় দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ আগেই করিয়ে নেই। কারণ পানি আসলে কাজ করা যায়না। তবে এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে এ বিষয়ে জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা নেই। এটি তৌহিদ সাহেব বলতে পারবেন। তবে এই প্রকল্পটিই সদর উপজেলার বড় প্রকল্প বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, ওভারলেপিং হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিল দেবনা। আমি নিজেই সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী