বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

Notice :

ধর্মপাশায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি : চাল কম দেয়ার অভিযোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের একটি বসতঘরের ভেতর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ৫০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে, ওই ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিয়োজিত ডিলার আলাল উদ্দিন ও তার সহযোগী তরিকুল ইসলাম এই দু’জনে মিলে হতদরিদ্র কার্ডধারীদের মধ্যে ৩০ কেজি চালের স্থলে ২৬ থেকে ২৮ কেজি করে চাল বিতরণ করে এই চাল ওই বসতঘরে নিয়ে রেখে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় এলাকার মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আলাল উদ্দিনকে ১০টাকা কেজি দরে ওই ইউনিয়নের হতদরিদ্র কার্ডধারী প্রত্যেকের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই ডিলারের সহযোগী একই ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম এই ইউনিয়নের ৪৬২জন কার্ডধারীদের বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া চাল চলতি বছরের ৭ এপ্রিল উত্তোলন করেন। পরদিন সকাল ১০টা থেকে উপজেলার বংশীকু-া চৌরাস্তা বাজারে ডিলারের দোকানঘর থেকে কার্ডধারীদের মধ্যে ১০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করেন। প্রত্যেক কার্ডধারীদের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ না করে ২৬ থেকে ২৮ কেজি করে চাল বিতরণ চলে আসছে। ডিলার ও ডিলারের সহযোগীর সহায়তায় বুধবার রাতে ডিলারের দোকান থেকে শ্রমিক নিয়োজিত করে রাতের আঁধারে ৫০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা চাল পাশের হামিদপুর গ্রামের কৃষক ইসলাম উদ্দিনের (৩৫) বসতঘরে নিয়ে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁরা রাতে ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানান। ইউএনও’র নির্দেশে বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিম মাহমুদের নেতৃত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হামিদপুর গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের বসতঘরে গিয়ে ৫০ কেজি ওজনের ১৮বস্তা চাল দেখতে পান। পরে ইউপি চেয়ারম্যান বসতঘরের মালিককে এই চাল কে রেখেছে জানতে চাইলে ঘরের মালিক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে এই চাল হামিদপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম এনে এখানে রেখেছেন বলে উপস্থিত লোকজনদের জানান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই বসতঘর থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১৮বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় এনে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়ার এই ১৮বস্তা চালই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল। হতদরিদ্র কার্ডধারীদেরকে চাল ওজনে কম দিয়ে ডিলার ও ডিলারের সহযোগী এই চাল আত্মসাৎ করে বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের নিয়োজিত ডিলার আলাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী তরিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়ার ৫০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা চাল আমাদের নয়। ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগটিও ভিত্তিহীন। তাঁরা দাবি করেন এলাকার একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদেরকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেলিম হায়দার বলেন, বংশীকু-া দক্ষিণ ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আলাল উদ্দিনের বিক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে তাঁর স্টক রেজিস্টার সঠিক রয়েছে বলে দেখতে পেয়েছি। এই চালগুলো ওই ডিলারের নয়।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবু তালেব বলেন, উদ্ধার হওয়া এই চালগুলো সরকারি চাল বলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমাকে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী