বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

Notice :

ফখরুলের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন হানিফের

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব-উল-আলম হানিফ।
তিনি বলেছেন, মির্জা ফখরুলের বাবা একাত্তরে ‘স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন’। আর তিনি এখন ‘মুক্তিযোদ্ধার লেবাস’ দাঁড় করার চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগ একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাস করে না বলে ফখরুল মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি মহাসচিবকে এভাবে পাল্টা আক্রমণ করলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ।
শনিবার সকালে প্রয়াত কবি আল মাহমুদকে শহীদ মিনারে নিয়ে শ্রদ্ধা না জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আল মাহমুদ সাহেবকে শহীদ মিনারে নিয়ে সম্মান দেখানো হয়নি। এরা সম্মান দেখাবে কোত্থেকে? আমার সন্দেহ হয় যে, তারা কি সেই একুশের চেতনা বিশ্বাস করে? করে না। তারা কি একাত্তরের চেতনাতে বিশ্বাস করে? করে না। যে স্বাধীনতার কথা তারা বলতে থাকে তার কতটুকু তারা বিশ্বাস করে?”
বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিবের ওই কথার জবাব দেন মাহাবুব-উল-আলম হানিফ।
তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল সাহেব, বিভিন্ন সময় আপনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না। ধারণ করে কে?
“১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কারা ধ্বংস করেছিল? আপনার শরম লাগে বলতে? আপনার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর যারা কারাগারে আটক ছিলেন, দালাল আইন বাতিল করে তাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিল কে? কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল আলিমকে মন্ত্রী বানিয়েছিল কে? কারা স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছিল? নিষিদ্ধ যুদ্ধাপারাধী দল জামায়াতে ইসলামীকে কারা রাজনীতিতে সুযোগ করে দিয়েছিল? কুখ্যাত রাজাকার প্রধান গোলাম আজমকে কে দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছিল? এ সবগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের? সেটাই বিশ্বাস করেন আপনি।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে হানিফ বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব, আপনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন- এ রকম নজির নেই। আপনার পরিবার স¤পর্কেও আপনার এলাকায় অভিযোগ আছে। আপনার বাবাও স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। এখন নিজেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঝা-া ধরতে চান! আপনার শরম লাগে বলতে, আপনিও একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। নিজেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে, মুক্তিযোদ্ধার লেবাস দাঁড় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।”
প্রশ্ন রেখে মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না, চেতনা ধারণ করে বিএনপি? যারা পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।”
আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারছে না বলে বিএনপি মাহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, “২০০১ সালে নির্বাচনের পর আপনারা সারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল এর সঙ্গে একমাত্র গণহত্যা তুলনা করা যায়। তখন ২৬ হাজার নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের কথা বলেন কোন মুখে? ভিন্ন মত সহ্য করার কথা বলেন কোন মুখে? আজকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই আপনারা এখনও সরকারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। ভিন্ন মত সহ্য করেই বলে মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের মিথ্যাচার জাতি দেখছে।”
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ‘দুর্বার গতিতে’ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে হানিফ বলেন, “আপনাদের গাত্র দাহ হয়। তাই সুযোগ পেলেই ষড়যন্ত্র করেন। আর ধুয়ো তোলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন।”
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউসারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ডা. নুজহাত চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ স¤পাদক পঙ্কজ নাথ, সাংগঠনিক স¤পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী