বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

Notice :

ছুরিকাঘাতে আ.লীগ নেতা খুন

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আহমেদ জয় (৩২) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে ধলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মো. জয়নাল আহমেদ জয় ইসলামপুর গ্রামের মৃত মুসলেম উদ্দিনের পুত্র।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে একজনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। আটককৃতরা হল- ধলাইপাড় গ্রামের সেলিম আহমদ (৩৫), শাহেন শাহ (৩২), সাগর আহমদ (৩২) ও রবি আহমদ (৩০)।
সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সোমবার রাতে সেলিম আহমদ, শাহেন শাহ, সাগর আহমদ ও রবি আহমদ এবং আ.লীগ নেতা জয়নাল আহমেদ জয় একসঙ্গে ছিলেন। পরে তারা ধলাইপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এলাকায় যান। সেখানে সেলিম ও আ.লীগ নেতা জয়নাল একসঙ্গে হাঁটছিলেন ছিলেন। তাদের পেছনে ছিলেন অন্যরা। সেলিম ও জয়নাল হঠাৎ একটি বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে যান। এসময় সেলিম সঙ্গে থাকা ছুরি বের করলে জয়নাল তার হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। ছুরিটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টাকালে সেলিমের উরুতে আঘাত লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম সঙ্গীদের সহায়তায় ছুরি দিয়ে জয়নালের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জয়নাল। জয়নাল লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেলিমসহ অন্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। সারা রাত লাশটি গাছের নিচে পড়ে থাকে। ভোরবেলা স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় রক্তের ছোপ দেখতে পান। এর কিছু দূরেই একটি আমগাছের নিচে রক্তাক্ত জয়নাল আহমদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান মুকসেদ আলী, ইউপি মেম্বার বিল্লাল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। তারা এসে লাশ শনাক্ত করে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।
আ.লীগে নেতার খুনের খবরে পুলিশের কয়েকটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সকাল সোয়া ৯টায় পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, ঘটনার জড়িত থাকার সন্দেহে চার জনকে আটক করা হয়েছে। পরে পুলিশ আটককৃত চারজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে সেলিম অন্য তিনজনের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানায় তার ছুরিকাঘাতেই জয়নালের মৃত্যু হয়েছে। পরে তার দেয়া তথ্য মতে, ঘটনাস্থলের পাশ থেকেই হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের আ.লীগের জনপ্রিয় নেতা জয়নাল আহমদের খুনের খবর পেয়ে সদর হাসপাতাল মর্গে ভিড় জমান আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ, সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম বজলুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে জয়নাল আহমেদের মরদেহ ইসলামপুর গ্রামে নিয়ে যান স্বজনরা। গ্রামের বাড়িতে লাশ নেয়ার পর সেখানে হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ইসলামপুর গ্রামের বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই সৈকতুল ইসলাম শওকত বলেন, আমার ভাই আ.লীগের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ বের করে। এই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুকসেদ আলী বলেন, জয়নাল ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। তার কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত অথবা রাজনৈতিক বিরোধ ছিল কিনা জানা নেই। মঙ্গলবার ভোর রাতে স্থানীয় লোকজন জানায় তার লাশ স্কুলের পাশে পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থল গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম অন্যদের সহযোগিতায় জয়নালকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সেলিম জয়নালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা দায়ের করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী