বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

Notice :

দুর্বৃত্তদের হামলা: মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন কৃষক নেতা আজাদ মিয়া – আটক ১

স্টাফ রিপোর্টার ::
গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত কৃষক নেতা আজাদ মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছেন। তিনি হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন, সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। আজাদ মিয়া হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ এলাকার কৃষকদের পক্ষে সবসময় সোচ্চার থাকতেন। এ কারণেই তাঁকে দুর্নীতিবাজ চক্র পরিকল্পিতভাবে হামলা করে হত্যা করেছে বলে মনে করেন তাঁর স্বজনরা। এদিকে রোববার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উকিল আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। সে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া গত কয়েক বছর ধরে সুনামগঞ্জ শহরে বসবাস করতেন। তবে প্রতিনিয়তই এলাকার কৃষকের স্বার্থে তিনি কথা বলতেন। ২০১৮ সালে দেখার হাওরের ৬টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার আহত হওয়ার আগেও তিনি এলাকায় হাওরের ফসলরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এই দুর্নীতিবাজ চক্রই আজাদ মিয়াকে সুনামগঞ্জ শহরের পিটিআইয়ের সামনের প্রধান সড়কে রাতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসী হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান।
আজাদ মিয়ার ভাই আফরোজ রায়হান বলেন, এলাকার প্রভাবশালী উকিল আলীসহ একটি চক্রের দুর্নীতির বিরোধিতা করায় আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, আমার ভাই এলাকার কৃষকের স্বার্থ নিয়ে সব সময় সোচ্চার থাকতেন। এ কারণে হাওরের ফসলরক্ষার কাজে নিয়োজিত দুর্নীতিবাজ চক্র তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। এই চক্রই আমার ভাইকে হত্যা করেছে।
এদিকে কৃষক নেতা আজাদ মিয়া নিহতের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষক নেতা আজাদ মিয়া হত্যাকা-ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উকিল আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী