মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

Notice :

জেলার ৮ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল : চেয়ারম্যান পদে আ.লীগ ৪, বিদ্রোহী ৩, স্বতন্ত্র ১


শহীদ নুর আহমেদ / মোসাইদ রাহাত ::

সুনামগঞ্জের ৯ উপজেলায় একযোগে রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থী লড়েন। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অনেকটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে, এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম। এদিকে ৯ উপজেলার মধ্যে শাল্লার ৩ কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় ওই উপজেলার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। রোববার রাতে বাকি ৮ উপজেলার ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় চেয়ারম্যান পদে ৪ উপজেলা আ.লীগ প্রার্থী, ৩ উপজেলায় আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ১ উপজেলায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) জয়লাভ করেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুল হুদা চপল নৌকা প্রতীকে ৪০ হাজার ৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাড. মনিষ কান্তি দে মিন্টু ২৭ হাজার ৩৭৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৭ ভোট এবং আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাসিদ বখত নজরুল মোটরসাইকেল প্রতীকে ৯৩৭ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাড. আবুল হোসেন তালা প্রতীকে ২১ হাজার ৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন শাহীন চশমা প্রতীকে ১৫ হাজার ৫৮৬ ভোট পান। এছাড়া টিউবওয়েল প্রতীকে মো. বাবলু মিয়া ১৩ হাজার ৯৮০, মাইক প্রতীকে মো. সাইফুল ইসলাম মুবিন ১০ হাজার ৭৪৫ ও শহীদুল্লাহ উড়োজাহাজ প্রতীকে ৭ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হওয়ার কারণে নিগার সুলতানা কেয়া ও সাদিয়া বখত সুরভীর ভোটের ব্যবধান কাছাকাছি হওয়ায় ওই কেন্দ্রগুলোতে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মপাশা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোজ্জাম্মেল হোসেন রুকন ঘোড়া প্রতীকে ৩৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম আহমদ মুরাদ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৩৭২ ভোট। এ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ইয়াসমিন ৩৮ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শান্তা চৌধুরী পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪২৫ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিল্লাল হোসেন ২১ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল হাই তালুকদার ১৮ হাজার ২২৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর আলম চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে ২০ হাজার ৯২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রদীপ রায় নৌকা প্রতীকে ২০ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মঞ্জুর মাত্র ৬২ ভোটে প্রদীপকে পরাজিত করেন। এদিকে চেয়ারম্যান পদে রঞ্জন কুমার রায় ঘোড়া প্রতীকে ২০ হাজার ১৯৮ ভোট ও মো. আলতাব উদ্দিন আনারস প্রতীকে ১৬ হাজার ৯২৮ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে মোহন চৌধুরী চশমা প্রতীকে ২৮ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নূরুল হক উড়োজাহাজ প্রতীকে ১০ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিপা সিনহা ৪৬ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছবি চৌধুরী ২০ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফারুক আহমেদ আনারস প্রতীকে ৩৫ হাজার ৪০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম নৌকা প্রতীকে ২১ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নূর হোসেন ২২ হাজার ২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোবারক হোসেন জাকির চশমা প্রতীকে ১৪ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুলন রানী পদ্মফুল প্রতীকে ১৯ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকা মহির ফুটবল প্রতীকে ১৬ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
ছাতক উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ ফজলুর রহমান নৌকা প্রতীকে ৬৬ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অলিউর রহমান বকুল কাপ-পিরিচ প্রতীকে ২৭ হাজার ২৮৩ ভোট পান। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু সাদাত লাহিন টিউবওয়েল প্রতীকে ২৪ হাজার ৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহীন চৌধুরী টিয়া পাখি প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৫১৫ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লিপি বেগম কলস প্রতীকে ৪৯ হাজার ১৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিখা রাণী পদ্মফুল প্রতীকে ২৬ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সফর উদ্দিন আনারস প্রতীকে ২৩ হাজার ২৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে রফিকুল ইসলাম তালুকদার ১৭ হাজার ৬০১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাজ্জত হোসেন মাইক প্রতীকে ২২ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহ দেলোয়ার হোসেন ১৩ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহফুজা আক্তরার রীনা কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মদিনা আক্তার ফুটবল প্রতীকে ১২ হাজার ১১৭ ভোট পেয়েছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম ৩১ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেওয়ান তানভীর আশরাফী কাপ-পিরিচ প্রতীকে ২০ হাজার ১২১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়াম্যান পদে রফিকুল ইসলাম চশমা প্রতীকে ১০ হাজার ১৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল করিম পালকী প্রতীকে ৯ হাজার ৫০৬ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালেহা বেগম ১৮ হাজার ২৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দা পারভিন কলস প্রতীকে ১৮ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আওয়ামী লীগ প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল নৌকা প্রতীকে ৫০ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা আনিসুল হক ২৪ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার ২১ হাজার ৮৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর খোকন চশমা প্রতীকে ১৬ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে খালেদা বেগম প্রজাপতি প্রতীকে ৪১ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেনা আক্তার পদ্মফুল প্রতীকে ৯ হাজার ৯৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী