রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

Notice :
«» শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত : বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ «» জেলা প্রশাসনের অনন্য উদ্যোগ : দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিজয় শুভেচ্ছা জানানো হল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ স্বজনদের «» শাল্লায় যুদ্ধাপরাধী সাকা’র নামফলক : মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ «» সড়ক সংস্কারের দাবিতে ভাটিপাড়ায় মানববন্ধন «» খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ «» জগন্নাথপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে : এমপি রতন «» শর্ত সাপেক্ষে খুললো তামাবিল ইমিগ্রেশন «» সংগ্রাম সম্পাদক তিন দিনের রিমান্ডে «» মোশতাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন ক্ষমতায় না আসে : প্রধানমন্ত্রী

সহজ হলো সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বল্প সুদে গৃহঋণের আওতায় আনাসহ কয়েকটি শর্ত শিথিল করে পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
গত ৬ মার্চ অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার স্বাক্ষরিত এ বিষয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি ৭ মার্চ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর আওতায় সরকারি কর্মচারীরা ৫ শতাংশ সরল সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ-নির্মাণ পাবেন।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসকে গত বছরের ৩০ জুলাই জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে এ ঋণের আওতায় না রাখলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আগের প্রজ্ঞাপনে ঋণ নেয়ার যোগ্যতা হিসেবে কর্মচারীদের বয়সসীমা চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর সর্বনি¤œ ৫ বছর ও সর্বোচ্চ ৫৬ বছর করা হলেও পরিবর্তিত প্রজ্ঞাপনে সর্বোচ্চ ৫৬ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৮ বছর করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ থেকে গত ৩০ জুলাই ইতোপূর্বে জারিকৃত পরিপত্রটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে উক্ত পরিপত্রের আওতায় ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যব্যবস্থা বহাল থাকবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো অ¯পষ্টতা দেখা দিলে তা সরকার, তথা অর্থ বিভাগ এবং বাস্তবায়নকরী ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নি®পত্তি করা যাবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও আবেদনপত্র যাচাই ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে গৃহনির্মাণ ঋণ সেলের কার্যক্রম ঠিকমতো শুরু না হওয়ায় তাতে বিলম্ব হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর দুই ব্যক্তিকে মনোনীত করে এই ঋণের কার্যক্রম শুরু করে মন্ত্রণালয়। এরপর ২৩ ডিসেম্বর থেকে গত ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ ঋণের জন্য মনোনীত হয়েছেন মাত্র ৮ জন। তাই এই ঋণকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য বেশকিছু শর্ত শিথিল করলো সরকার।
তবে ৩০ জুলাই জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য নিয়ম-কানুন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা ৫ শতাংশ সুদহারে গৃহঋণ পাবেন। প্রজ্ঞাপনের আওতায় জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনি¤œ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে। এ ঋণের মোট সদুহার ১০ শতাংশ। তবে এর মধ্যে ৫ শতাংশ দেবে সরকার এবং বাকি ৫ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন। ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধ শুরুর সময়) ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনি¤œ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হবে।
এর আওতায় উপ-সচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডভুক্তরা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন। সর্বনি¤œ ১৮তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে তারা এ ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত এ ঋণ নেয়া যাবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃণনির্মাণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সব তফসিলি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে এই ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে সরকার অন্য যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় বেতনকাঠামোর পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন স্কেল ৪৩ হাজার বা এর বেশি তারা প্রত্যেকে ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরে গৃহনির্মাণে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। জেলা সদরে এর পরিমাণ হবে ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা।
বেতনকাঠামোর নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বা যাদের মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, তারা ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৫৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।
দশম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত যাদের মূল বেতন ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা তারা ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৪০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।
১৪তম থেকে ১৭তম গ্রেড বা ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা বেতন স্কেলে ঢাকাসহ সব সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৪০ লাখ টাকা, জেলা সদরের জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১৮তম থেকে ২০তম গ্রেড বা ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পান এমন কর্মচারীরা ঢাকাসহ সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ পাবেন ৩০ লাখ টাকা। জেলা সদরে এটি হবে ২৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য পাবেন ২০ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী