বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

Notice :

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি


রাজন চন্দ ::

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ইতোমধ্যে শেষ করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। তার প্রতীক হচ্ছে মোটর সাইকেল। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। আনিসুল হক জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন ধরনের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ নেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
উপজেলার ভোটাররা জানান, শিক্ষিত, সৎ ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসাবে দুই প্রার্থীরই উপজেলাবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই তাদের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে পরিচিত। সাবেক এই ছাত্রনেতা একজন সুবক্তা ও ত্যাগী নেতা। নেতা-কর্মী ও জনগণের সমস্যায় তিনি পাশে থেকে সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করেন। সচেতন ভোটাররা জানান, ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে এবং রাজনৈতিক দক্ষতায় তিনি এগিয়ে আছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে। তবে তারা আরো জানান, তাহিরপুর উপজেলায় করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুলের রাজনৈতিক তৎপরতা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। উপজেলার সচেতন নাগরিক ও নেতাদের সাথে তাঁর পরিচিতি থাকলেও সাধারণ মানুষের সাথে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পরিচিত কম।
অন্যদিকে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনিসুল হক উপজেলার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হলেও জীবনযাপন করেন সাদামাটা। তাহিরপুর উপজেলার সাধারণ জনগণের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতার জন্যই তিনি উপজেলার একটি ওয়ার্ডের যুবনেতা থেকে সুনামগঞ্জ জেলার নেতা হিসাবে জেলাজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছেন। ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে তিনি উপজেলা বিএনপি’র জন্য শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে দলকে সংগঠিত রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আনিসুল হক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। সততা, সাধারণ জীবন যাপন ও উপজেলার সাধারণ জনগণের বিপদে পাশে থাকেন বলেই আনিসুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন বলে জানান সাধারণ ভোটাররা।
আনিসুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ইতিমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলও নিজ দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামাতে পারেননি। তবে দুই প্রার্থীই বলছেন কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করেই তাঁরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। বিজয়ের ব্যাপারে দুই জনেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৫৫ জন। আর নারী ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৬৪ হাজার ৭৮৯ জন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪৬টি কেন্দ্রে ৩১৬টি ভোট কক্ষের মাধ্যমে ১০ মার্চ ভোট গ্রহণ হবে।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্তও কোন অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী