মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

Notice :

শাল্লায় গুরুত্বপূর্ণ হাওরে নেয়া হয়নি প্রকল্প : অরক্ষিত চার হাওরের ফসল

স্টাফ রিপোর্টার ::
বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ না করায় অরক্ষিত রয়েছে শাল্লা উপজেলার চার হাওরের বোরো ফসল। স্থানীয় কৃষকরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মুক্তাদির হোসেন দাবি করেছেন শাল্লায় কোনো অরক্ষিত হাওর নেই।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষার জন্য ১১৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে এ থেকে বাদ পড়েছে জোয়ারিয়া, কৈয়ারবন, বড়বন ও বাঘার হাওর। ফলে এই হাওরগুলোর বোরো ফসল হুমকির মুখে রয়েছে। ঢল আসলে নিমিষেই তলিয়ে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকার সোনাধান।
উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও ও রঘুনাথপুর এবং যাত্রাপুর গ্রামের মধ্যে রয়েছে জোয়ারিয়া হাওর। গত বছর প্রায় ১৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল ওই হাওরের ফসলরক্ষার জন্য। কিন্তু এ বছর সেখানে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জোয়ারিয়া হাওরে প্রায় ৪শ’ একর জমির বোরো ফসল অরক্ষিত।
অন্যদিকে শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কৈয়ারবন হাওরেও কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করায় এই হাওরটি অরক্ষিত। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৈয়ারবন হাওরে ২শ’ একরের মতো ফসলি জমি রয়েছে। গত বছর এই হাওরের ফসলরক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১১ লাখেরও বেশি টাকা।
শাল্লা সদরের দক্ষিণ দিকে বড়বন হাওরটিও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে জানালেন এলাকাবাসী। ওই হাওরে ফসলি জমি রয়েছে প্রায় ৫শ’ থেকে ৬শ’ একরের মতো। এছাড়া বাহাড়া ইউপি’র খল্লি গ্রামের পশ্চিম-দক্ষিণে বাঘার হাওরের প্রায় ৫শ’একর জমির ফসল অরক্ষিত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শ্যামাপদ সরকার বলেন, জোয়ারিয়া ও কৈয়ারবন হাওরটি রক্ষা করার জন্য অবশ্যই প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত ছিল। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও শিবগাছ তলা হতে কলাকান্দি গ্রাম হয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত বড়বন হাওর রক্ষার জন্য বাঁধের প্রয়োজন ছিল। জোয়ারিয়ার জন্য রঘুনাথপুর গ্রাম হতে শাল্লা ব্রিজ পর্যন্ত বাঁধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কি কারণে এসব হাওরে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়।
কৃষক ধনঞ্জয় দাস বলেন, বাঘার হাওরকে বামে ফেলে কান্দায় বাঁধ নির্মাণ করায় ঢল এলেই হাওরটি সবার আগে তলিয়ে যাবে।
উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, কৈয়ারবন হাওরে বাঁধ না হওয়ায় নদীতে পানি আসলেই হাওরটি তলিয়ে যাবে। ওই হাওরে অনেক ফসলি জমি অরক্ষিত রয়েছে।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন, শাল্লা উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, শাল্লা উপজেলায় বাঁধের কাজে শুরু থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হাওরে প্রকল্প গ্রহণ না করায় বোরো ফসল হুমকির মুখে। ঢল এলেই কৃষকের চোখের সামনে সোনার ফসল তলিয়ে যাবে, এসময় কারো কিছু করার থাকবে না। প্রয়োজনীয় স্থানে প্রকল্প গ্রহণ না করে এই উপজেলায় অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জোয়ারিয়া, কৈয়ারবন, বড়বন ও বাঘার হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো জমির ফসল অরক্ষিত। ঢল এলে এগুলো নিমিষেই তলিয়ে যাবে। ফসলহানির দায় পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।
এ বিষয়ে পাউবো’র এসও সমশের আলীর মুঠোফোনে একাধিবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মুক্তাদির হোসেন বলেন, শাল্লায় কোনো অরক্ষিত হাওর নেই। যেগুলো ছিল তা পুনরায় প্রাক্কলনের মাধ্যমে নতুনভাবে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী