মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ন

Notice :

সরেজমিন খরচার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ : অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে সিকিভাগ কাজ হয়নি

শামস শামীম ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার খরচার হাওরের ৫নং প্রকল্পটিকে সরেজমিন ঘুরে এসে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়েছিলেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের যে তালিকা দিয়েছিলেন সেটিতেও এই প্রকল্পটি ছিল। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন .২৬৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই কাজে বরাদ্দ দেয় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। প্রাক্কলন অনুযায়ী এই প্রকল্পে যে কাজ হওয়ার কথা ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৪ দিন সময় বাকি থাকলেও এখনো সিকি ভাগ কাজ হয়নি। বাঁধের উচ্চতা, স্লোপ, প্রস্থ কিছুই সঠিকভাবে করেনি সংশ্লিষ্ট পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)। এই প্রকল্পে কাজ হয়নি মর্মে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। পাশাপাশি ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কেও অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন শুক্রবার দুপুরে গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ৫নং ওই প্রকল্পে যৎসামান্য কাজ করিয়ে কাজ শেষ করেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬ ভাগ কাজ হওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও বাস্তবে ৩০ ভাগের বেশি কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। নিয়মানুযায়ী বাঁধের উচ্চতা ৫-৬ ফুট, প্রস্থ ১২ফুট এবং স্লোপ (ঢাল) উচ্চতার দ্বিগুণ হওয়ার কথা থাকলেও কোনটাই করেনি পিআইসির লোকজন। মাটি কাটা হয়েছে বাঁধের গোড়া থেকে। দুই-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি রেখে কাজ শেষ হয়েছে মর্মে পুরো বিল উত্তোলনের জন্য তদবিরও শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কাজ যথাযথ না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিকে শোকজ করেছেন। তিনদিন আগে উপজেলা কমিটির সভাপতি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। নিয়মানুযায়ী কাজ না করানোয় গতকাল শনিবার নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উচ্চতা, প্রস্থ, স্লোপ, ঢেলা ভাঙ্গা, কমপেকশন, ঘাস লাগানোসহ কিছুই করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এই চিঠির অনুলিপি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরেও পাঠানো হয়েছে।
এলাকার যুবক আলমগীর বলেন, শুধু আমাদের এলাকার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজেই অনিয়ম হয়না। জেলার বেশিরভাগ বাঁধের কাজেরই একই অবস্থা। আমাদের এলাকার দু’টি বাঁধেই গোড়া থেকে মাটি কাটা হয়েছে। স্লোপ, উচ্চতার ঠিক নেই। ঘাস ও কমপেকশন কিছুই হয়নি। সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে তার সিকিভাগও ব্যয় করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ পুরোপুরি ব্যয় করা গেলে বাঁধগুলো দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হতে পারে।
একই এলাকার গোলাম জিলানী বলেন, আমাদের খরচার হাওরের ৩নং প্রকল্পে গতবারও দায়সারা কাজ করানো হয়েছে। এবার পুরনো বাঁধেরই কিছু অংশে সামান্য মাটি ফেলেছে। কিছু অংশে একেবারে গোড়া থেকে মাটি ফেলেছে। স্লোপ নেই। বৃষ্টি হলে যে কোন সময় বাঁধটি ধসে পড়বে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে মিলেমিশে বরাদ্দ লোপাট করার চেষ্টা চলছে। ৫নং প্রকল্পেও যৎসামান্য কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৫নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শওকত আলী বলেন, আমার অংশে ৫টি ক্লোজার। কাজ বেশি। এসও সাহেব ভুল করে আমাকে কম বরাদ্দ দিয়েছেন। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন কাজ হচ্ছেনা বলে বারবার তাগাদা দেওয়ায় আবারও কাজ ধরিয়েছি।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, সদর উপজেলার ৫নং প্রকল্পটি অপ্রয়োজনীয় একটি প্রকল্প। আমরা অপ্রয়োজনীয় প্রল্পের তালিকায় এই বাঁধটির নামও দিয়েছিলাম। ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজ হয়নি তিন ভাগের একভাগ। সরকারি বরাদ্দ অপচয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কমিটির উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় আমি শোকজ করেছি। নির্দেশ দিয়েছি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে। যথাসময়ে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া বলেন, ৫নং প্রকল্পে নামকাওয়াস্তে কাজ হয়েছে। ৩নং প্রকল্পেরও স্লোপ ও কমপেকশন হয়নি। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী