,

Notice :

৫ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে বর্তমান সাংসদদের


শহীদ নুর আহমেদ ::

আর কয়েকদিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৫ টি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যরা। যাদের মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও অন্যজন মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী। গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকায় পূর্বের চেয়ে সম্পদ বেড়েছে সংসদ সদস্যদের । কয়েকজনের সম্পদের পরিমাণ কোটির কোটায়। সংসদ সদস্যদের ২০১৪ সালের হলফনামার সম্পত্তির বিবরণ ও ২০১৮ সালের হলফনামার সম্পত্তির বিবরণ বিশ্লেষন করে উদ্বৃত সম্পত্তির পরিমাণ জানা যায়।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ-তাহিরপুর-ধর্মপাশা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। হলফ নামা থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের কৃষিখাতে বাৎসরিক আয় ছিলো ৯ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা । যা একাদশ নির্বাচনে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা। নগদ অর্থের পরিমাণ ছিলো ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬শত ৫৩ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮০ লক্ষ ৯১ হাজার ৫শত ৪৪ টাকা। অকৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ছিলো ৩৮ লক্ষ ৭ হাজার ৫ শত ৬১ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ২শত ২০ টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ পূর্বের মতো ৪০ তোলাই রয়েছে। জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৬শত ৮ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৪ লক্ষ ৬১ হাজার ৮শত ৩ টাকা হয়েছে। আগে তাঁর স্ত্রীর নামে পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটমহ বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনোয়েগের পরিমাণ না থাকলেও বর্তমানে তার পরিমাণ ৪৫ লক্ষ টাকার।
সুনামগঞ্জ-৩(দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর ) আসনের বর্তমান সংসদ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম এ মান্নান। ৫ বছর আগে এম এ মান্নানের ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিলো ৪০ লক্ষ ৮ হাজার ৯শত ৮৬ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িছে ৫৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮শত ২ টাকায়। নগদ টাকার পরিমাণ ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৮শত ৬৪টাকায়। ৫ বছর আগে শেয়ার ,সঞ্চয়পত্র,ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ ছিলো ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪ শত ৬৭ টাকা । যা বর্তমানে ৭ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬শত ২২ টাকার। পূর্বে পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণে সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতের বিনিয়োগ না থাকলেও বর্তমানে তা রয়েছে ৬৯ লক্ষ টাকার। বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর মাসিক আয় ছিলো ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭শত ১২ টাকা যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকায়। কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জিনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ও অকৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য আগের মতোই রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর- বিশ্বম্ভরপুর )আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মহাজোট মনোনীত প্রার্থী পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। ৫ বছর আগে তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ ছিলো ৪০ হাজার ৫শত ২টাকা ৩৯ পয়সা যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫শত ২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিলো ৪৭ হাজার ৪শত ৭১ টাকা ৬১ পয়সা। যা বর্তমানে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৩ শত ৮৪ টাকা। বন্ড,ঋণপত্র,স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় এমন কোম্পনীতে শেয়ার ও স্বর্ণের পরিমাণ পূর্বের মতোই আছে।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মহিবুর রহমান মানিক। ২০১৪ সালে মহিবুর রহমান মানিকের ব্যবসা থেকে মাসিক আয় ছিলো ৫০ হাজার টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৫ শত টাকা । আগে বাড়ী ভাড়া থেকে আয় না থাকলেও এখন তা থেকে বছরে তিনি ৪ লক্ষ ৭২ হাজার ৫শত টাকা আয় করেন । শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানতের পরিমাণ ছিলো ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ২ শত ৩৩ টাকা। যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ লক্ষ ১৪ হাজার ১শত ৪৭ টাকায়। পোস্টাল সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণে সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতের বিনিয়োগ ছিলো ২ লক্ষ টাকা। যা ৫ বছরে ৯৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬শত ১৪ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ছিলো ৬০ হাজার টাকার । যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়ছে ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯শত ৩৭ টাকায়। অকৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ছিলো ৩১ লক্ষ ২৬ হাজার ৪শত টাকা । যা বর্তমানে ৩২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৪শত টাকায়। নগদ টাকার পরিমাণ পূর্বের মতো থাকলেও কমেছে ব্যাংকে জমাকৃত টাকার পরিমাণ।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ আসনের জয়ী হয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত । ২০১৬ সালে সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যু হলে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার স্ত্রী জয়া সেন গুপ্তা। তিনি বর্তমানে এই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তাঁর কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ৯১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯শত ৬৯ টাকা ৩০ পয়সা, স্বর্ণ রয়েছে ১০ ভরি । কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ৬ লক্ষ টাকা, অকৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ২২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী