,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

হাওরে ‘ডুবন্ত পাকারাস্তা’ নির্মাণ অপরিহার্য

হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন অনাদিকাল হতে যেমন বিপদশঙ্কুল তেমনি সংগ্রামশীল। বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা, ফসলহানি এবং ফসল ফলানো ও কেটে ঘরে তোলার বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সঙ্গে লড়ে হাওরের কৃষকে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হয়। তাঁদের খাদ্যসঞ্চয়ের চক্রটি নিতান্ত ছোট ও সহজে উত্তীর্ণ হওয়ার মতো জীবনপ্রপঞ্চ নয়। খাদ্যসঞ্চয়ের চক্রের বাঁকে বাঁকে কৃষকের জন্য অপেক্ষা করে থাকে বিভিন্ন ধরণের কঠিন সব সংকটসমস্যা। যে-সংকটগুলো অনেক সময় বিপর্যয় রূপে আবির্ভূত হয়। এইসব সংকটবিপর্যয় কাটিয়ে উঠে তবে কৃষককে ঘরে তোলতে হয় সোনালী ফসল। জালার চার তৈরি করা, জালা বাইন, জালাক্ষেতে নিয়মমাফিক জলসিঞ্চন, বোরো ক্ষেতের দল বাছা, ক্ষেতে হাল দেওয়া, জালা রোপণ, ক্ষেতে বাছ দেওয়া, জলসিঞ্চন, সার দেওয়া, ধানের রোগবালাই প্রতিরোধ ও দমন, পাকা ধান কাটা, মাড়াই করা, গোলিধান শুকানো-উড়ানো, তারপর উগাড়ে তোলা। আরও কতো কী। সব চেয়ে বড় কথা অকাল বন্যার হাত থেকে ফসলরক্ষাবাঁধ নির্মাণ করে হওরডুবি থেকে ফসল রক্ষা করা।
এছাড়া আরও অনেক সমস্যা আছে। কৃষকরা প্রথমে ক্ষেতের ফসল কেটে আঁটি বাঁধে। সে-গুলোকে বলে ‘মুইঠ’। এই মুইঠ ক্ষেত থেকে তুলে এনে সে-গুলোকে মাড়াই করা হয়। ক্ষেত হতে এই মুইঠ মাড়াইস্থলে বহন করার কোনও ভালো বা সুবিধাজনক পথ প্রকৃতিগতভাবেই হাওরে নেই। সাধারণত অনাদিকাল হতে মুইঠ পরিবহণে যে-পথ কৃষকরা এতোকাল ব্যবহার করে আসছেন সেটা কেবল সেকেলেই নয় বর্তমানে ধানের প্রচুর ফলনের কালে একেবারেই অনুপযোগী ও অকেজু কিংবা বলা যায় সাম্প্রতিক কালের নিরিখে কোনও কাজের নয়।
গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠে কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমে ধানপরিবহণের নিমিত্ত্বে পরিবহণপথ নির্মাণ-মেরামতের একটি সংবাদপ্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে , ‘ছায়ার হাওরে উড়া, কোদাল নিয়ে বাউন্যা, তেইল্যা, উদা, কচমা, কেচুইরা, খালেরভাটি, বড়চার, জালাচারের গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামতের কাজে নেমে পড়েছেন।’ এই রাস্তার দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটারেরও বেশি, প্রায় ৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই রাস্তা মুইঠ ও ধান পরিবহণযোগ্য না হলে হাওর থেকে ধান গোলায় তোলা প্রায় অসম্ভব। মুইঠ খোলা পর্যন্ত এবং গোলিধান বাড়ি পর্যন্ত পরিবহণের এই রাস্তা সাম্প্রতিককালে পাকাকরণের রেওয়াজ প্রচলিত হয়েছে। এই পাকা সড়কগুলো বর্ষায় ক্ষেতের আলের মতোই ডুবে যায় এবং হেমন্তে লোকচলাচলসহ ধানের মুইঠ ও গোলি ধান পরিবহণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। হাওরের ভেতরের এই সড়কগুলো পাকা করা হলে সহজে ভেঙে যায় না, পথের মাঝখানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয় না, কাদা হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে না। সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের পক্ষ থেকে ‘ডুবন্ত পাকাকরণের’ (হাওরের সমতলের আলপথের উচ্চতায় আরসিসি রাস্তা তৈরির) জোর দাবি উঠেছে।
আসলে অতিসম্প্রতি হাওরে ‘ডুবন্ত পাকারাস্তা’ নির্মাণ কৃষিকাজ চালানোর একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এই ডুবন্ত পাকারাস্তা না থাকলে ধান পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়। হাওর উন্নয়নের পরিকল্পকদের উচিৎ হবে প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলে যেখানে যেখানে অপরিহার্য সেখানে ডুবন্ত পাকারাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করা এবং অচিরেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী