,

Notice :

সুনামগঞ্জ-৩ আসন : তিন প্রার্থী নিয়ে বিপাকে ঐক্যফ্রন্ট

মাহমুদুর রহমান তারেক ::
প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী শূণ্য হওয়ায় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুেেলার ওপরে ভরসা করতে হচ্ছে বিএনপিকে। তবে আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামা, গণফোরাম ও ইসলামি ঐক্যজোট একই সঙ্গে দাবি করায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জঠিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনটি দলের প্রার্থী হেভিওয়েট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপেেজলা নিয়ে গঠিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১০জন প্রার্থী। দল থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির কোষাধক্ষ্য এমএ ছাত্তারকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। যাচাই-বাছাইকালে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী ছাত্তারের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন বাতিল হলে আসনটিতে প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে বিএনপি। এমনবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে বিএনপিকে। যদিও নির্বাচনে কমিশনে আপিল করেছেন এমএ ছাত্তার।
অন্যদিকে জঠিলতা সৃষ্টি হয়েছে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন নিয়েও। জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ, গণফোরাম ও ইসলামি ঐক্যজোট আসনটি একই সঙ্গে দাবি করায় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জঠিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনটি দলের প্রার্থী হেভিওয়েট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
অংশ নেয়া গত তিনটি নির্বাচনেই জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন জেলা জমিয়তে উলামার সভাপতি মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী। এবার জোটের মনোনয়ন তার অনেকটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বিএনপি জোটের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট যোগ দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করে। আর গণফোরামে যোগ দিয়েই সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম এই আসনটিতে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন দাবি করছেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কর্নেল (অব) সৈয়দ আলী আহমদ দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন মাঠে থেকেও মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি যোগ দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শরিক ইসলামি ঐক্যজোটে। তাকে প্রার্থী করার জন্য ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ঐক্যজোট নেতৃবৃন্দ। দল তিনটি আসনটির প্রশ্নে সামান্যতম ছাড় দিতেও রাজি নয়। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন না পেলে শাহিনূর পাশা ও সৈয়দ আলী আহমদ নিজ নিজ দল থেকে নির্বাচন করারও ঘোষণা দিয়েছেন।
জমিয়তের উলামার বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী বলেন, এই আসনটিতে আমাদের প্রার্থী ২০০১ সাল জোটের মনোনয়ন পেয়ে আসছেন। নিজস্ব একটা ভোট ব্যাংক আছে আমাদের। আ. লীগের ভোট ব্যাংক একমাত্র আমরাই তছনছ করে দিয়েছি। ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নের আমরা পাবো আশা করি।
গণফোরামের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি কারণ হল, আমি বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার জন্য বলেছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের জোট আছে এটা স্বাভাবিক জিনিস, ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ যে সিদ্বান্ত নেবেন তাই আমরা মেনে নেব।
ইসলামি ঐক্যজোট সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইসহাক আমিনী বলেন, আমাদের জোট এবং ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের কাছে বলেছি আমাদের দুইটি আসন দেয়ার জন্য। এর মধ্যে একটি সুনামগঞ্জ-৩ আসনটি। আমাদের কাছে এই আসনটি খুব জরুরি। সৈয়দ আলী আহমদ একজন জিয়ার সৈনিক, নির্বাচনী মাঠে খুব শক্তিশালী প্রার্থী, তাকে মনোনয়ন দিলে সহজেই জয়লাভ করবো।
জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আসনটিতে প্রার্থীতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়নি, প্রতিযোগিতা আছে। বিএনপি প্রার্থী শূণ্য হলেও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ান দেয়া হবে তার পক্ষেই নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী