শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

রসুলপুর গ্রামের ৩ শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

অঞ্জন পুরকায়স্থ ::
জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সীমান্তের গ্রাম রসুল পুর। ৪ দশক আগে-মাত্র কয়েকটি পরিবার পাশ^বর্তী দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুর নগর গ্রামের বসতভিটা ছেড়ে বসতি স্থাপন করে জামালগঞ্জ উপজেলায়। নতুন গ্রামের নাম করণ হয় রসুলপুর। ২০ বছর আগে ৮১ জন ভোটার হয়ে ১৯৯৮ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে। বর্তমানে দেড় শতাধিক পরিবারে দেড় সহ¯্রধিক জনগোষ্ঠি বাস করে। কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ৩ শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত।
শিক্ষা বঞ্চিত শিশু কিশোররা সকালে বিল আর ঝিলে, শালুক, সামুক ও ঝিনুক আর সিংরা তোলতে ব্যস্থ থাকে, দুপুরে গরু চড়ানো মাঠে গোবর সংগ্রহ করে জ¦ালানী হিসেবে তৈরী ও বিক্রি করে চটা বা মুটিয়া নামক শালাকা। বিকেলে হৈ হুল্লুর করে মাঠ কাঁপিয়ে তোলে ওরা। ঐ গ্রামে অবিভাবকদের মধ্যে শিক্ষা বা সচেতনতা না থাকায় নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষার আলো। কৃষি আর মৎস্য আহরন ছাড়া অবিভাবকদের নেই কোন ভাবনা। আছে বাক, বিত-া, হিংসা, কলহ।এই অবহেলিত গ্রামে রয়েছে জীর্ন দুটি মসজিদ ও একটি অবহেলিত কবরস্থান। গ্রামের মুরুব্বি আবুধন, এবাদনুর বলেন,আমরা যে রকম মুর্খ।আমরার বাচ্ছারাও মুর্খ থাকব। ইস্কুল নাই, লেখা পড়া কোনানো করব।
মসজিদের মোতাওল্লি নুরুজ আলী, সাক্কাছ আলী ও আব্দুল হেকিম বলেন, “আমরার বাচ্চারারে মানুষ বানাইতাম পারতাম না। যদি একটা ইস্কুল না হয়। আমারারে জায়গা দিবার লাগি কইছে – আমরা দলিল কইরা দিছি কিন্তু ৪ বছর ধইরা ইস্কুল অইতাছে না”।
জাহানুর কাজী বলেন, আমরা বাড়ীত একটা ইস্কুল অইছে। মাত্র ৩০ জন ফুরুতারে ফড়ায়। এইডা বুঝি এঞ্জিয় ইস্কুল – আরডিআরএস। এই ইস্কুলে গেরামের বাঁচ্চারে ফড়ায়। সরকারি একটা ইস্কুল দিবার লাগি আমরার গেরামের মাতব্বর কজনরে পাডাইছি উপজেলাত। খালি কয় অনব, বালু, রড,সিমেন্ট, পাত্তর আইতাছে, বাইশ্যা মাসের মধ্যে অইব, নাইলে এমন্ত মাসে অনব। ইতা কত কথাই কয় । এমপি সাব কইছে কারেন্ট দিব, খুডা আইছে কিন্তু লেখাপড়া না জানলে কারেন্টে ফুইড়য়া মরি যাইব । আমরা চাই আগে একটা ইস্কুল অউক।এমনি আবেদন গ্রামের সকল নারী পুরুষের ।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন , একটি স্কুল গঠন করতে বা সরকারী অনুমোধন পেতে কমপক্ষ্যে ২ হাজার জন সংখ্যার প্রয়োজন যা রসুলপুর গ্রামে হয়নি। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের নামে জমি দানের বিষয়ে গড়মিল আছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, এই রসুল পুর গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের জন্য ৬ বার টেন্ডার হয়েছে। ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই নির্মানের কোন টিকাদার গ্রহণ করে নাই। বর্তমান সরকারের বিদ্যালয় বিহীন ১ হাজার গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের নতুন প্রকল্পের মধ্যে রসুল পুর গ্রামের বিদ্যালয় অন্তর্ভূক্ত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী