,

Notice :

শেখ হাসিনা আমাকে নয়, আপনাদেরকে নৌকা দিয়েছেন : এম এ মান্নান

হোসাইন আহমদ ::
সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি ৩য় বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আগমনে লাখ জনতার ভালবাসায় সিক্ত হলেন এম এ মান্নান।
মঙ্গলবার সকালে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সড়ক পথে জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ বাজারে আসলে এখানে আগে থেকেই অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করেন নির্বাচনী এলাকার সাধারণ জনগণ সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। এসময় নেতা কর্মীরা এম এ মান্নানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এম এ মান্নান এসময় আবেগ আপ্লুত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। পরে রানীগঞ্জ বাজারে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন এম এ মান্নান।
এর পরে দুপুরে জগন্নাথাপর পৌর শহরে এসে পৌঁছলে আপামর জনসাধারণ আবেগ আপ্লুত হয়ে নৌকার পক্ষে এম এ মান্নানের সমর্থনে রাস্তায় মিছিলে-মিছিলে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে হাজারো জনতার ঢল নামে। পরে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে এমএ মান্নানের নির্বাচনী প্রধান অফিস উদ্বোধন শেষে বক্তব্য রাখেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ স¤পাদক রেজাউল করিম রিজু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ স¤পাদক মো. আতাউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক স¤পাদক এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ,জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, সহ-সভাপতি সিরাজুল হক, জেলা পরিষদ সদস্য মাহতাবুল হাসান সমুজ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক হাজি ইকবাল হোসেন ভূইয়া, প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসেন, অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন দুলন, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ প্রমুখ।
এরপর তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার মজিদপুর পয়েন্টে এমএ মান্নান এসে পৌছলে জনতার ভালবাসায় সিক্ত হন। রাস্তায় অনেক নারী সমর্থকদের দেখা যায়। তারাও এম এ মান্নানকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
পরে তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া পয়েন্ট, খাশিলা পয়েন্ট, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ছয়হাড়া পয়েন্ট, আক্তাপাড়া মিনা বাজারে, সিচনী পয়েন্ট, ডাবর পয়েন্ট হাজার হাজার জনতার ভালবাসায় সিক্ত হন এমএ মান্নান। আগে থেকেই এই সব এলাকার জনসাধারণ এমএ মান্নানের আগমনের খবর পেয়ে রাস্তা নেমে আসেন তারা। এসময় এম এ মান্নান অনেকের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
পরে বিকাল দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে পাগলা আসলে এই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও হাজার হাজার সাধারণ জনগণ এম এ মান্নানের নামে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কে মিছিল বের করে এলাকা প্রক¤িপত করেন। পরে এক পথ সভায় এম এ মান্নান এলাকাবাসীর উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন।
পরে এম এ মান্নান উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারে এসে পৌঁছলে শান্তিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটিসহ এলাকার অপেক্ষমান হাজার হাজার জনসাধারণ হাতে ফুল ও মালা নিয়ে এম এ মান্নান ও নৌকা স্লোগানে এলাকা প্রক¤িপত করেন। এসময় হাজারও জনতা এম এ মান্নানকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
বিকালে উপজেলা নোয়াখালী বাজারে এম এ মান্নান ঐ এলাকার অপেক্ষমান জনতার সাথে কুশল বিনিময় করেন, পরে এক পথ সভায় বক্তব্য রাহেন তিনি। পরে গনিগঞ্জ বাজারে কুশল বিনিময় করে এমএ মান্নান উপজেলার পাথারিয়া বাজারে গিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন। পরে পাথারিয়া বাজারে এক পথ সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এদিকে এমএ মান্নানের আগমন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর উপজেলার একেবারে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তরিকত ফেডারেশন, খেলাফত মজলিস, জাতীয়পার্টির নেতা-কর্মীরা এমএ মান্নানকে বরণ করতে ব্যাপক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল। পথে পথে, পয়েন্টে-পয়েন্টে হাজার হাজার জনতাকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি খায়রুল কবির রুমেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী তহুর আলী, মাও. আব্দুল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছিত সুজন, শিমুলবাক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সফিকুল ইসলাম, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সাকির আহমদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর আলম সহ প্রমুখ।
এম এ মান্নান বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্যে বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নয়, আপনাদেরকে নৌকা দিয়েছেন। এ নৌকা আপনাদের নৌকা, আজ আমি আপনাদের ভালবাসায় আবেগ আপ্লুত। ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আপনারা আমাকে আবারও ঋণী করে রাখলেন। আমি আপনাদের ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো অতীতের মতো আগামীতেও আপনাদের খেদমত করে যাবো। এলাকার উন্নয়নের কাজ করে যাবো।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে এলাকায় অনেক কিছু করেছি। আগামীতে আরও বেশি কাজ করতে চাই। আমার প্রথম কাজ হবে। সুনামগঞ্জে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। যেখানে দেশের ছেলে-মেয়েরা বিশ্বের সর্বশেষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সেই সাথে অনেক বড় বড় ব্রীজ, কালভার্ট স্থাপন করে এলাকায় সাঁকুর নামটি চিরতরে মুছে ফেলবো। পাশা-পাশি এলাকার যতো স্কুল-কলেজ আছে সবকটিকে এমপিও ভুক্ত করবো। এগুলোকে আরও সম্প্রসারণ করবো। আমি আপনাদের সন্তান, আমার চাওয়া পাওয়া কিছু নাই। অতীতেও ছিলনা সেটা আপনারা জানেন। আগামীতেও আমার কোন চাওয়া পাওয়া নাই। তবে আমি যতদিন বেঁচে আছি আপনাদের ভালবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
অপরদিকে, এমএ মান্নান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী রির্টানিং অফিসারের কাছে পৃথক পৃথক ভাবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। পরে এম এ মান্নান জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব থাকা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল আলম মাছুম’র কাছে মনোয়নপত্র দাখিল করেন। বিকালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সহকারি রির্টানিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ’র কাছেও মনোনয়নপত্র জমা দেন এম এ মান্নান।
উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আগামী বছরের নুতন কাজ হবে সুনামগঞ্জে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। সুনামগঞ্জে একটি অত্যাধুনিক বিশ্বমানের বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নুতন বছরে শুরু করা হবে। যে বিশ্ব বিদ্যালয়ে বিশ্বের সর্বশেষ জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করা হবে। সর্বশেষ জ্ঞান প্রযুক্তির চর্চা করা হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সাংবাদিকদের এম এ মান্নান বলেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রতি আস্থা রাখায় আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী সভায় বিগত ৫ বছর আমি কাজ করেছি। তিনি আমার প্রতি পুনরায় আস্থা রেখেছেন। তিনি আমার কাজের মূল্যায়ন করেছেন। আমি চেষ্টা করেছি সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জনগণের সেবা করার। সেবা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে পিছিয়ে পড়া মানুষজন। কৃষক,শ্রমিক, শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী, নিুআয়ের মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি।এজন্য আমাকে নির্বাচনি এলাকার জনগণ সহযোগিতা করেছেন। আমি জনগনের প্রতি বিশ্বাস রাখি তারা আবারও ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাবে।
এম এ মান্নান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে যে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন তার সঙ্গে এলাকার ভোটাররা একাত্ম হয়েছেন। আমি দরিদ্র পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী