,

Notice :

নিয়ম না মেনে প্রকল্প প্রণয়ন দেশের উন্নতিকে ব্যাহত করে

হাওর এলাকায় হাওররক্ষাবাঁধ বিনির্মাণ একটি সহজে সমাধানযোগ্য সমস্যা। অন্তত আমরা তা-ই মনে করি। কিন্তু বাস্তবে কাজ করতে গিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজটি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠে। সহজে সমাধানযোগ্য আর থাকে না। সমস্যা কী করে জটিল ও সমাধানের অযোগ্য কিংবা দুষ্কর হয়ে উঠে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের হাওররক্ষাবাঁধ প্রকল্প প্রণয়নের পদ্ধতি।
গতকালের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের এক সংবাদপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে : সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌলশী (এসও) অসরাফুল ইসলাম ১৪টি প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি করে দাখিল করেছেন। তাঁর দাখিল করা প্রকল্পের অনেকগুলোর বাস্তবে কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই বলে সাধারণ্যের ধারণা। হাওরের ম্যাপ ও চেইনেজ অনুযায়ী প্রকল্পের অবস্থানও যথাযথভাবে উপস্থাপন তিনি করেননি এবং অতিবৃষ্টি হলে বিভিন্ন নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করা রোধ করার কারণ নির্দেশ করে কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরি করেছেন। তা ছাড়া হাওরের বাঁধের ডিজাইন লেবেল বেশি ধরা হয়েছে। প্রকারান্তরে দাখিল করা প্রকল্পগুলো মূলত হাওরের বাস্তব বা প্রকৃতিগত পরিস্থিতির পুরোপুরি বিপরীত। তাই প্রকল্পগুলো পুনরায় সংশোধন করে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে সহজে সমাধানযোগ্য হাওরসমস্যা আসলেই জটিল হয়ে উঠে। বলা যায় এমনটা করা হয়েছে অনেকটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই।
কৃষকরা হাওরের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বেশি ওয়াকিবহাল। তাই হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণে সরকার নির্ধারিত নিয়ম হলো, হাওরের কোথায় ও কীভাবে বাঁধ নির্মিত হবে তা নির্ধারণ করা হবে সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাধারণ কৃষকের মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু যাঁরা হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প তৈরি করেন তাঁরা সরাসরি কৃষকের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি না করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মহলের স্বার্থরক্ষার প্রকল্প তৈরি করেন। ফলে যথাস্থানে বাঁধনির্মাণের স্থান নির্ধারিত হয় না এবং অপ্রয়েজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মিত হয়। এ প্রক্রিয়া অবলম্বনে এমন হতে পারে, দেখার হাওরের বাঁধ নির্মিত হবে দেখার হাওরের বাইরে সুরমা নদীর তীরে, কোনও বোরো ক্ষেতের নয় কোনও গ্রামরক্ষার বাঁধ। এমনটি হতে পারে কেবল তখনই, যখন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিশেষ সুবিধাবাদী মহলের মতামত গ্রহণ করে কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে প্রণীত হবে প্রকল্পগলো এবং প্রকারান্তরে এইসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির মহোৎসবে পরিণত হবে এবং কৃষকের কোনও স্বার্থ সংরক্ষণ না করে ব্যক্তি বা মহল বিশেষের অর্থ লুটপাটের সুবিধা তৈরি করবে। পত্রিকার প্রতিবেদনের মর্মানুসারে বলা যায় যে, এবারের প্রকল্প প্রণয়ন দুর্নীতির মহোৎসব সংঘটনের ব্যবস্থাকেই সুগম করবে, যদি সেগুলো অভিজ্ঞ মহলের পরামর্শানুসারে সংশোধন কিংবা পরিবর্তন করা না হয়।
সরকারের জনহিতকর প্রকল্পগুলোকে সরকারের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে যাঁরা প্রকল্প প্রণয়ন করেন এবং প্রকারান্তরে জনগণের ক্ষতিকে নিশ্চিত ও দেশের উন্নতিকে ব্যাহত করেন তাঁদের অপকর্মকে সর্বাগ্রে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা চাই। অন্যথায় দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হতেই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী