,

Notice :

গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত অংশগ্রহণ শীর্ষক কর্মশালা – সকলের সহযোগিতায় বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : জেলা প্রশাসক

মোসাইদ রাহাত ::
“গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ শীর্ষক” প্রকল্পের আওতায় এসডিজি সম্পৃক্ত নীতি ও কর্মসূচী নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষদের সাথে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (এসডব্লিউএফ) এর আয়োজনে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, সত্যেন্দ্র নাথ মিত্র পরিচালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সফিউল আলম, জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান খান, অক্সফ্যাম, বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মোস্তফা আলী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
কর্মশালায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (এসডব্লিউএফ) পরিচালক সামসুন নাহার বেগম। কর্মশালার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন সিপিডি সিনিয়র রিসার্চ এ্যাসোসিয়েট মোস্তফা আমির সাব্বি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জের উন্নয়ন জন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষার দিক থেকে সুনামগঞ্জ অনেক পিছিয়ে আছে। এখানে অনেক এলাকা আছে বিশেষ করে হাওরাঞ্চল এলাকাগুলোতে বৃষ্টির সময় বাচ্চারা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাই আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ঐ এলাকাগুলোতে আবাসিক শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা। তাছাড়া স্যানিটেশন ব্যবহারের আমাদের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কৃষি ও মৎস্য সুনামগঞ্জের প্রান। হাওরের যদি কোনো কারণে বন্যায় এই জেলার একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যায় তাহলে এখানের কৃষকদের না খেয়ে থাকতে হবে। অপর দিকে সুনামগঞ্জ মাছের জন্যও বিখ্যাত। এখানে জেলেদের হাওর থেকে মাছ শিকার করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আমাদের প্রয়োজন তাদের উন্নয়নে কাজ করা।
সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্প নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সুনামগঞ্জের যে সকল পর্যটন স্থান আছে তা যদি আমরা রক্ষনাবেক্ষণ ও সংরক্ষন করি তাহলে আমাদের এই সুনাগঞ্জের পর্যটন থেকে আমরা লাভবান হবো। তাছাড়া সুনামগঞ্জের একটি বড় সমস্যা হলো এখানের বেকারত্ব। এখানে এককালীন ফসল হওয়ায়। কৃষকদের ধান কাটার পর বেকার থাকতে হয়। তাই তাদের যদি পর্যটন খাতে ব্যবহার করা যায় তাহলে তাদের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া এখান কার মহিলাদের যদি হস্তশিল্পের প্রতি ধাবমান করা যায় তাহলে পর্যটকরা এখানে ঘুরতে এসে তা ক্রয় করলে তাদের সংসার চলবে।
মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রয়েছে এখন। খুব শ্রীঘই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাবো। আমাদের কয়েকটি দিকে উন্নয়ন খুব দ্রুততার সাথে করতে হবে সেখানে যদি আমরা উন্নয়ন করি তাহলে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হবে। সকলের সহযোগিতায় বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হবে। কারণ সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকে একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিতে হবে।
বিষয়বস্তু উপস্থাপনে বলা হয় সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগীতার লক্ষ্যে অক্সফাম ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র অংশীদারিত্বে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর আর্থিক সহযোগীতায় স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (এসডব্লিউএফ) রি-কল ২০২১ প্রকল্পের কর্মকৌশলে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ (এসডিজি) সম্পর্কিত নীতি ও কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিপদাপন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সুশীল সংগঠন এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠন সমূহকে শক্তিশালী করার উদ্যেশ্যে “গণতান্ত্রিক সুশাসনে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ(Enhancing the participation of community based organizations (CBOs) and CSOs in democratic governance in Bangladesh) শীর্ষক প্রকল্পটি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নে (তাহিরপুর, দক্ষিণ বড়দল ও দক্ষিণ শ্রীপুর) বাস্তবায়ন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী