,

Notice :

প্রতœখননের গুরুত্ব কী মানুষজনকে বুঝিয়ে বলা হোক

দখলবাজ চক্রের প্রতœখনন কাজে বাধা। শুনতে কেমন জানি অদ্ভুত লাগে। এটা কেমন করে হয় মাথায় ঢুকতে চায় না। বাংলাদেশ সত্যি অদ্ভুত একটি দেশ। এখানে নদী দখল হয়ে যায়, রেলের জায়গা দখল করে বসে কেউ, বিল দখল করে মাছ মারা হয়, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা চলে, পাহাড় দখল করে বাড়ি বানানো হয়। দখলের কতো নমুনা। দখলে কেউ বাধা দেয় না। দখলের বিরুদ্ধে সরকারি তৎপরতাও পরিলক্ষিত হয় না। সরকারি মালিকানাধীন ভুমি অনায়াসে লোকে দখল করে নেয়। এটা কেমন করে হয়? অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে ছাড়তে বললে পুনর্বাসনের দাবী করে। সে এক অদ্ভুত মানসিকতা বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষের। তাই দেশজুড়ে দখলবাজি চলতেই আছে এবং বোধ করি আরও চলতে থাকবে। এবার শোনা যাচ্ছে, প্রতœখনন কাজের জায়গা দখল হয়ে গেছে সে অনেক আগেই।
একটি প্রতœস্থানের জায়গা দখল করে স্থানটি ধ্বংস করা প্রতœসম্পদ পাচার করা এবং প্রতœখনন কাজ শুরু হলে খননকাজে বাধা দেওয়া, কোনও বিবেচনায়ই সঙ্গত নয়। এইসব কুকাজের সঙ্গে জড়িত হওয়া কোনওক্রমেই দেশপ্রেমের পরিচয় বহন করে না। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সংরক্ষণ রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার মতো একটি বিষয়। প্রতœস্থানে যে-কোনও দখল অবশ্যই উচ্ছেদের যোগ্য, রাষ্ট্রীয় স্বার্থেই ।
হলহলিয়ায় প্রতœস্থান উন্মোচিত হলে এই স্থানটি দেশের ভেতরে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতœপর্যটনক্ষেত্রে পরিণত হবে। এতে দেশ যেমন লাভবান হবে তেমনি এখানকাল স্থানীয় লোকজনেরও তদানুসারে উন্নতি ঘটবে। বৃহত্তর এই স্বার্থটিকে বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ক্ষতিগুলোকে স্বীকার করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিতে না পারলে বৃহত্তর স্বার্থ অর্জিত হবে না। আজকের প্রজন্মের সামন্য স্বার্থক্ষা করতে গিয়ে আগামী প্রজন্মের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়ার কোনও সার্থকতা থাকতে পারে না, বরং প্রগাঢ় বিবেচনায় সেটা দেশদ্রোহীতা বলেই পরিগণিত হবে। প্রতœখনন কাজে বাধা দিয়ে নিজেদের ও সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নতিকে পায়ে ঠেলার কোনও মানে হয় না।
পত্রিকায় অভিযোগ করা হয়েছে, একটি বিশেষচক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রচীন সভ্যতার স্থাপত্যের ধ্বংসসাধনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন পাচার করে অর্থোপার্জনে রত আছে এবং বর্তমানে প্রতœসম্পদ লটেরা এই চক্রটিই খননের বিরোধিতায় তৎপর হয়ে উঠেছে। অথচ সরকারের ও প্রতœখনন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না, বরং খননকাজে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতœখনন কর্র্তপক্ষের পক্ষ থেকে সে-ক্ষতি পূরণের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রতœখনন কাজে যেখানে সবরকম সাহায্য কার কথা সেখানে তা না করে প্রতিরোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে । এতে বুঝাই যাচ্ছে কোনও একটি রাষ্ট্রবিরোধী ও দেশদ্রোহী দুষ্টচক্র হলহলিয়া প্রতœখনন বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে তৎপর আছে।
শিক্ষাদীক্ষা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানে পশ্চাৎপদ একটি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতœখননের বিষয়টির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকতেই পারে। স্বাধীনতার পর তিন বছর কম অর্ধশতাব্দী পেরেুনোর দেশে এতোট সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এখনও সম্ভব হয়নি যে, এখানে প্রতœখননের বৈশ্বিক গুরুত্ব সাধারণ লোকে বুঝে ফেলবে। প্রতœখননের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ্যে অজ্ঞতা যে আছে সেটার প্রমাণ হলো হলহলিয়ার স্থানীয় মানুষজনকে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রতœখননের বিরোধী করে তুলতে পেরেছে। বুঝাই যাচ্ছে তাঁরা নিজের বা দেশের স্বার্থ কোনওটাই বুঝেন না।
বাধা প্রদানের প্রসঙ্গ নিয়ে সংবাদপ্রতিবেদন করা হয়ে পত্রিকায়। একটা কথা না বলে পারছি না : যদি প্রতœখনন কাজে জনগণের পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করা হয়, তবে বুঝতে হবে জনগণের সাংস্কৃতিক মান খুব একটা উচ্চ স্তরে পৌঁছায়নি। বোধ করি বাংলাদেশেই এমন সৃাষ্টছাড়া কর্মকা- সংঘটিত হতে পারে। পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে তা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে বাংলাদেশ ছাড়া এমন কোনও দেশ হয়তো নেই, যে দেশের লোকেরা এমন অদ্ভুত কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।
এমতাবস্থায় কেবল এই বলতে পারি যে, যিনি বা যাঁরা সাধারণ মানুষকে প্রতœখনন কাজের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেছেন, তিনি বা তাঁদেরকে খোঁজে বের করা হোক এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ সংহতকরণে বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে কঠোর হতে দ্বিধা করা চলবে না। সাধারণ মানুষকে প্রতœখননের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হোক। ভুলে গেলে চলবে না, দেশের উন্নতি ব্যক্তি স্বার্থের জন্য ব্যাহত হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী