,

Notice :

নার্সারি ব্যবসায় ভাগ্য বদল বাদশাহ মিয়ার

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার পশ্চিম পাইকপাড়া গ্রামের বাদশাহ মিয়া নার্সারি ব্যবসা ও শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করে এখন সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ২০১২ সালে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় মাত্র ৬ শতাংশ জমি নিয়ে নার্সারি ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ৫০ একর জমিতে প্রসারিত হয়েছে তার এ ব্যবসা। নার্সারি ব্যবসায় বাদশাহ মিয়ার সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন এ পেশায় ঝুঁকছেন। স্বপ্ন দেখছেন এ ব্যবসার মাধ্যমে ভাগ্য বদলের। নার্সারির পাশাপাশি শীত কালীন সবজি চাষাবাদ করে বাদশাহ মিয়া একদিকে যেমন হয়েছেন স্বাবলম্বী, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন ওই এলাকার শতাধিক মানুষের।
বাদশাহ মিয়া জানান, যৌবনে জীবন জীবিকার তাগিদে তিনি চলে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। ১৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে সেখান থেকে ফিরে কৃষি কাজে আত্ম নিয়োগ করেন। প্রথমে বসত বাড়ীর আাঙ্গনায় তিনি নার্সারী করেন। এক বছরের মধ্যে তার সফলতা আসায় তিনি ধান চাষ না করে তিনি ব্যাপকভাবে নার্সারী করার চিন্তা করেন। পলিথিনের ব্যাগে গাছের চারা রোপণ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে মাত্র ৬ শতাংশ জমিতে পেয়ারাসহ কয়েক জাতের ফলদ গাছ রোপণ করেন তিনি। এভাবেই তার নার্সারি ব্যবসার সূচনা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাদশাহ মিয়া নার্সারি ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। দেড় বছর পর এক বিঘা জমিতে তিনি ফলদ বাগান করেন। ভালো লাভ হওয়ায় পর্যায়ক্রমে তিনি নার্সারির জমি এবং উদ্ভিদের জাত বাড়াতে থাকেন। নার্সারিতে তিনি ভালো মানের চারা রাখতেন। এ কারণে ক্রেতার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। আর এভাবেই এলাকায় অঙ্কুর নার্সারির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। নার্সারী ব্যবসার আয় থেকে তিনি এক ছেলে খোকন মিয়াকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। অপর ছেলে ফারুক মিয়া (শারীরিক প্রতিবন্ধী) নার্সারী ব্যবসার পাশাপাশী সবজি চাষ করে এখন সেও সাবলম্বী। ৬০ শতক ভূমিতে প্রতি বছর শীত কালীন সবজি শিম থেকে প্রায় দুই লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। বাড়ীর উঠানসহ আঙ্গিনায় লিচুর বাগান থেকে ১লক্ষ টাকা আয় হয়। এছাড়া প্রতি বছর নার্সারী খরচ বাদেও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন। বর্তমানে উৎপাদিত দেশীয় জাতের শিম বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১০ মন শিম বিক্রি করতে পারেন তিনি। প্রতি মন শিমের বাজার ধর এখন ২৪০০ টাকা।
এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আগাম সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি বিক্রিতে ব্যস্থ হয়ে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক-কৃষানীরা। উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের এবারও সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। সবজি বেচাকেনা ও পরিচর্যায় এখানকার কৃষক-কৃষানীরা বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওপাড়ের মানুষজন শষ্য চাষ করে স্ববলম্বী হয়ে উঠছেন। এছাড়া সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতকালীন সবজির আশাতীত ফলন হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় সবজির আবাদ আরো সম্প্রসারণ হয়েছে। কিন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ব্যবাসায়ীরা গ্রামাঞ্চল থেকে সবজি ক্রয় ও বাজারজাত করতে পারছেনা। এ জনপদে সবুজের বিপ্লব ঘটলেও হিমাগার না থাকায় এবং যাতায়াত অবস্থার করুন দশার কারণে টাটকা সবজির সঠিক দামও পাচ্ছেন না চাষীরা। এ ক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্তভোগী পাইকারী ক্রেতারা।
সবুজের আবাদ খ্যাত বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালকাপন, ঘরুয়া, ছনোগাঁও, পাইকপাড়া এলাকায় বিভিন্ন রকমের সবজির চাষাবাদ হয়েছে। বেগুন, শসা, করলা, বরবটি, শিম, চিচিঙ্গা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, আলুসহ বিভিন্ন রকমের টাটকা বাহারী সবজি উৎপাদন হয়েছে আলীপুর ও আশপাশের এলাকায়। প্রতিটি হাট-বাজারে এখন টাটকা সবজি বেচা কেনার ধুম পড়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিনিয়ত ট্রাক বোঝাই করে বিভাগীয় শহর সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে।
এছাড়া ওই ইউনিয়নের টেংরাটিলা, বৈঠাখাই, হাছনবাহার, নুরপুর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুরসহ হাওরপাড়ে ব্যাপক ভাবে এবছর সবজির চাষাবাদ হয়েছে। শীতকালীন আগাম সবজি চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন কৃষকরা। সবজি চষাবাদকৃত এলাকায় অনেক কৃষকরা জমিতে বছরে তিনটি সবজির আবাদ করে সংসারে ব্যয় নির্বাহ করার সক্ষম হয়েছেন। শুধু সবজি চাষাবাদ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, শষা, করলা সহ বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি আগাম সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে প্রতি বছরই অনাবাদি জমিতে সবজি আশাতীত ফলন হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী