,

Notice :

ছাত্রদের কাছ থেকে বাতড়ি ফি নেওয়া বন্ধ করুন

শিক্ষা শান্তি প্রগতি। এটি একটি রাজনীতিক জিগির কিংবা বয়ান। সে যাই হোক, এর মধ্যে কিন্তু সমাজ প্রগতির আসল সত্যটি নিহিত আছে। কোনও সমাজে শিক্ষা নিশ্চিত হলে শান্তি, শান্তিÍ নিশ্চিত হলে প্রগতি নিশ্চিত হওয়ার একটা যোগসূত্র স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হতে পারে। সেজন্য পৃথিবীতে উন্নত সমাজ গঠনের একটি প্রাথমিক শর্ত বা লক্ষণ হলো নাগরিকের শিক্ষার্জনের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা। অর্থাৎ রাষ্ট্র শিক্ষাকে নাগরিকের জন্য একটি কমমূল্যের সহজপ্রাপ্য পণ্য করে তোলে কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে নিখরচায় শিক্ষার্জনের আর্থব্যবস্থা গড়ে তোলে। উন্নত রাষ্ট্র তৈরির প্রাথমিক শর্ত হলো শিক্ষিত নাগরিক তৈরি করা। নাগরিককে মূর্খ রেখে দুষ্ট রাজনীতি করা যায়, শোষণ ও নির্যাতন কায়েম করা যায় সহজে, কিন্তু আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র তৈরি করা যায় না। উন্নত রাষ্ট্রের জন্য চাই শিক্ষিত নাগরিক। তাই রাষ্ট্রের উচিত নাগরিকের শিক্ষাব্যয় উত্তরোত্তর কমিয়ে আনা ও এক পর্যায়ে এসে নিখরচায় শিক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষাব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, প্রকারান্তরে সমাজ শিক্ষাসংকোচনের শিকার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত মানুষের সংকট তৈরি হচ্ছে। তৎপ্রেক্ষিতে সমাজে বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়াশীলতার প্রাদুর্ভাব ঘটছে।
গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদপ্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ফি (খরচ) সরকার নির্ধারিত পরিমাণের থেকে বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা কেবল অন্যায়ই নয় আইনত একটি অপরাধও বটে। সরকার নির্ধারিত ফি অনেক গরিব শিক্ষার্থীর পক্ষে পরিশোধ করা কষ্ঠসাধ্য নয়ই কেবল বরং কারও কারও পক্ষে সামর্থ্যরে একবারেই বাইরে। সে বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকেই ফি কমানো উচিৎ, সাধারণত এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়ে থাকে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। আমাদের পত্রিকা অফিসে খবর আসছে এরকম অবস্থায় কোনও কোনও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা আদায় করছেন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি বাড়তি জুলুম তো বটেই, প্রকারান্তরে শিক্ষাকে দামী পণ্য করে তোলার নামান্তর, সোজা কথায় একটি লাভজনক ব্যবসায়, পরীক্ষার্থীকে বেআইনিভাবে জিম্মি করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগটিকে বিক্রি করে টাকা উপার্জন করা। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠার পরও বছরের পর বছর এমন অন্যায় চলতে পারে না একটি দেশে। ছাত্রদের কাছ থেকে বাতড়ি ফি নেওয়া অর্থাৎ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই লাভজনক ব্যবসায়টি বন্ধ করার জন্য আইনি তৎপরতা আবশ্যক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী