,

Notice :

বৃক্ষকর্তনকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক

জলজংলার দেশ বাংলাদেশ। ময়মনসিংহ গীতিকা পড়লে সেটা বুঝা যায়। তখনকার প্রকৃতির যে বর্ণনা তাতে তার নিদর্শন মেলে। বনবসতি আর জলের দেশের বর্ণনা মেলে মনসামঙ্গল পড়লে। কিন্তু অতীতে যেমন বনজঙ্গল ছিল এই দেশে সে-বনজঙ্গলের চিহ্ন এখন প্রায় মুছে গেছে। ক্রমে মানুষ বেড়েছে, সে-অনুপাতে বসতির পরিসর বড় হয়েছে। বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বনকেটে বসতি গড়ার কারণে বন কমেছে। আর এখন বলতে গেলে বন এক রকম নিশ্চিহ্নই হয়ে গেছে। লোকবসতির আশেপাশে এখন কোনও জঙ্গলের অস্থিত্ব নেই বললেই চলে। লোকের বাড়ির আশেপাশে দুয়েকটি কাষ্ঠল কিংবা ফলজ বৃক্ষ থাকলেও প্রায়শ সেগুলো বেশিদিন মানুষের কুঠারকরাতের আক্রমণের বাইরে থাকতে পারে না। রাস্তার পাশের সরকারী বৃক্ষগুলো প্রায়ই বিশেষ মহলচক্রের অপতৎপরতার সুবাদে কর্তনযজ্ঞের উপকরণে পরিণত হয়। এমনকি মাঝে মাঝে সরকারি ভবনগুলোতে পরিকল্পিতভাবে লাগানো বৃক্ষগুলোকেও কোনও কোনও কুচক্রী কোনও না কোনও অজুহাত তৈরি করে কর্তন করে ফেলে।
গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ জামালগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের পুকুরপাড়ের ৫টি মেহগনি বৃক্ষ অবৈধ কর্তনের শিকার হয়েছে। একজন ওয়ার্ড বয় একজন অতিরিক্ত প্রধান সহকারি কাম হিসাবরক্ষকের নির্দেশে বৃক্ষনিধনের কর্মটি সুসম্পন্ন করেছেন, একজন নিরাপত্তা প্রহরীর বাধা অগ্রাহ্য করে। বৃক্ষনিধন কর্মটি সুসম্পন্ন হওয়ার আগে কর্তপক্ষ কোনও কর্তব্য করতে না পারলেও বৃক্ষনিধন সম্পন্ন হওয়ার পরে একটি তদন্ত কমিটি করেছেন এবং একটা কীছু করার মানসিকতা নিয়ে এই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন এবং অপরদিকে প্রহরীর পরিবার বৃক্ষনিধনকারীর দ্বারা হুমকিধামকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এরপর মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। কীছু বলার আছে করে মনে হয় না। এখানে প্রায় ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ পর্যন্ত অপরাধীকে রক্ষার উত্তম অস্ত্র হয়ে ওঠে। জামালগঞ্জের বৃক্ষনিধনের এক্ষত্রে তেমনটি না হলেই হয়। মানুষ নিধন করে খুনি রেহাই পেয়ে যাওয়ার অনেক দৃষ্টান্ত এসমাজে একেবারে কম নয়। তবুও হতাশ হতে চাই না। বৃক্ষকর্তনকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতীক্ষায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী