,

Notice :

ঝুঁকিপূর্ণ গুদামঘর : যে-কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে পথচারীর উপর


শহীদ নূর আহমেদ ::

এক দশক সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের মহাসিং নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি সরকারি গুদামঘর। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও এটি অপসারনে কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। যেকোন সময় গুদামঘরটি ভেঙে পড়তে পারে পথচারীর উপর । কেননা এই গুদামঘরের পাশ দিয়েই তিন গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে থাকেন। ফলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিভিন্ন মহল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ গুদামঘরটি ভেঙে ফেলার দাবি উঠলেও দায়িত্ব নিচ্ছেননা কেউ। এমন অবস্থায় প্রানহানি ঘটনা ঘটলে এই দায় কে নিবে এমন প্রশ্ন করছেন স্থানীয়রা। তাই অভিলম্বে এই গুদামঘরটি ভেঙ্গে সরিয়ে ফেলার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিরা।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খুব নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে সরকারের পরিত্যক্ত এই গুদামঘরটি। মহাসিং নদীর ভাঙ্গনে নদী গর্ভে চলে গেছে ভবনের এক তৃতীয়াংশ। একপাশের ভীতের উপর শূন্যে আছে ভবনের মূল ছাদ। ছাদ ও পার্শ্ব দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। শূন্যে দাঁড়িয়ে থাকা গুদামঘরের নীচেই রয়েছে তিন গ্রামের একটি খেয়াঘাট। এই ঝঁকিপূর্ণ ভবনের রপাশ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন নারী -পুরুষ, শিক্ষার্থীসহ হাজারো জনতা। ভবনটির নিচে দাঁড়িয়ে খেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় অনেককেই। পারাপারের একমাত্র উপায় খেয়াঘাট হওয়ায় তাই বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ গুদামঘরের নিচ দিয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানান একাধিক পথচারী। সরকারি এই গুদামঘরটি ভেঙ্গে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুবাশ দাস, শংকর দাস, আব্দুল আলী, অধীর বর্মণ, রুবেল মিয়া সহ একাধিক পথচারি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে সরকারি এই গুদামঘরটি। যেকোন সময় গুদামঘরটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। নদী পাড়াপারে একমাত্র রাস্তা হওয়ায় বাধ্য হয়ে ভবনের নীচ দিয়েই চলাচল করি আমরা।
বীরগাঁও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মবু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি ভাঙ্গার জন্যে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। কিন্তু কেউ এর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। যেকোন মহুর্তে ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নূর কালাম বলেন, ভবনটি ভাঙ্গার জন্যে উপজেলা প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়েছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এখন দেখছি স্থানীয়দের নিয়েই এই ভবনটি ভাঙ্গতে হবে।
এই ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মো. সফিউল্লাহ বলেন, আমি নতুন আসছি, গুদামঘরের অবস্থা আমার জানা নেই। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী