,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

মদপানের পরিণতির কথা লোকদেরকে ভাবতে বাধ্য করতে হবে

গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের এক প্রতিবেদেনে প্রকাশ সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার নারকিলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার লুকিয়ে দেশি চুলাই মদ তৈরি করে এলাকায় মদের ব্যবসা চালাচ্ছে । শাল্লা থানার কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি আসার পর তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এ নিয়ে গতকাল কিছু মানুষ প্রতিবাদ করায় মাদক কারবারিরা তাদের মারধর করেছে বলে শুনেছি। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এখানে গতকাল মানে শনিবার।
দেহপণ্যের মতোই পৃথিবীর যে-কোনও সমাজের একটি আদি পণ্যের নাম মদ। মদের ব্যবসায়ের চল বোধ করি দেশের ভেতরে সর্বত্রই কমবেশি বিদ্যমান আছে, গোপনে অথবা প্রকাশ্য। মদের ব্যবসায় দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। কারণ সরকার থেকে এই ব্যবসার জন্য ‘অনুমোদন’ (লাইসেন্স) দেওয়ার বিধান আছে। দেহকে যারা পণ্য করে তোলে ব্যবসায় করতে চায় তাদের জন্যও আইনি ব্যবস্থা আছে, তাদেরকেও ছাড়পত্র (লাইসেন্স) দেওয়া হয়। কথা হলো সরকারি অনুমোদ ছাড়া কোনও ব্যবসায়ই বৈধ নয়। দেশে এমন কোনও আর্থসামজিক বাস্তবতা বিরাজ করছে না যে, নারকিলা গ্রামে চুলাইমদের ব্যবসায়টি এখনই বন্ধ হয়ে যাবে, বরং সেটা ঘটতেই থাকবে এবং ব্যবসায়টি যতোই বিরোধিতার সম্মুখীন হবে ততোই সংঘর্ষ সংঘটিত হবে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। গত কীছুদিন আগে পত্রিকার এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে ১৩৪ দিনের মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫৫ জন মাদকব্যবসায়ী বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। কিন্তু বিপরীতে দেশে ইয়াবা আমদানী কমেছে বলে কোনও পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। অর্থাৎ এতোকীছুর পরও মাদকব্যবসা যেমন চলার তেমনি চলছে, প্রকাশ্যে অথবা গোপনে। তাতে কোনও প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে না। নারকিলা গ্রামে চুলাইমদ তৈরির বিরুদ্ধে যতো প্রতিরোধই তোলা হোক না কেন চুলাইমদের ব্যবসা কছিুতেই বন্ধ হবে না। সমাজের ভেতরে মদের চাহিদাকে জাগ্রত রেখে মাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করে কোনও ফলোদয় হবার নয়। মাদক ব্যবসা একটি আর্থনীতিক কার্যক্রম। পণ্য বিনিময়ের ব্যাপার এর সঙ্গে ওতপ্রোত। যতো দিন পর্যন্ত সমাজে মদের চাগিদা থাকবে ততোদিন পর্যন্ত এই ব্যবসাটিকে বন্ধ করা যাবে না। নিষেধ, অভিযোগ, থানা, পুলিশ, প্রতিরোধ, হামলামামলা কোনও কীছুই কার্যকর হবে না। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ইসলাম মদকে হারাম করেছে। এই দেশের লোকসংখ্যার নব্বই শতাংশের বেশি ইসলামধর্মাবল্বী। কিন্তু মদের ব্যবসা চলছে, এখানে মদপান বন্ধ করছে না লোকে। মদের ব্যবসায় কিংবা মদপান বন্ধের সিদ্ধান্তটা আসতে হবে সমাজের ভেতর থেকে, সমাজমানসতা থেকে। সমাজমানসতা মদ পরিহারে প্রস্তুত হলেই কেবল মদপানের অভ্যাসটা লোকে পরিহার করতে পারবে এবং প্রকারান্তরে সমাজে মদের চাহিদা থাকবে না, কাজেকাজেই মদের ব্যবসায়ও থাকবে না। “চোলাই মদ তৈরিতে বাধা দেয়ায় হামলা, আহত ১০” এইরূপ ঘটনা সংঘটনকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে হলে সামাজমানসতার পরিবর্তন চাই, সামিাজিক পরিবর্তনের সংগ্রামে বিজয় লাভ না করতে পারলে চোলাই মদের কারবার কোনও দিনও বন্ধ হবে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেবল এইটুকু বলা যায় যে, সামাজিক স্থিরতা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে অবশ্যই সতর্ক থাকত হবে এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষজনের পক্ষ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চোলাই মদের ব্যবসায়ের পক্ষে নই। এটা বন্ধ হওয়া সমাজের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক। সেদিক থেকে বিবেচনায় দেশে প্রচলিত মদ সংক্রান্ত আইন বদলের প্রস্তাব করা যেতে পারে। আইনটিকে এমন করা হোক যাতে লোকে মদপান করার আগে, তার পরিণতির কথা দশবার ভেবে দেখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী