,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

প্রসঙ্গ :ঘুষিতে ফেরিওয়ালা সুনীল নিহত

গত শনিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত একটি ঘটনার সংবাদের শিরোনাম ছিল, “ঘুষিতে ফেরিওয়ালা সুনীল নিহত”। ঘটনাটিকে একটি মামুলি ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করাই যায়। একজন হতদরিদ্র সুনীলচন্দ্র পাল অন্য একজন সমবয়স্ক বিলপ্রহরীর এলোপাথারি ঘুষিতে প্রাণপাত করেছেন। দুজনেরই বয়স ৬৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, সুনীলচন্দ্র পাল একজন ক্ষুদে ফেরিওয়ালা। গ্রামান্তরে অল্পস্বল্প জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রির আয়ে তার সংসার চলে। শনিবার সন্ধ্যায় তার কাছ থেকে একটি চাল কুমড়া জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতে চায় বিলপ্রহরী অব্দুর রউফ। সুনীল প্রতিবাদ করলে আব্দুর রউফ তাকে এলোপাথারি ঘুষি দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীর মতানুসারে ঘটনাস্থলেই মারা যান সুনীল। মৃত্যু সর্বাবস্থায় অপ্রত্যাশিত। সুনীলের এভাবে মৃত্যুও তাই। প্রতিনিয়ত আমরা মৃত্যু প্রত্যক্ষ করছি। ১৩৪ দিনে বন্দুকযুদ্ধে ২৫৫ জনের মৃত্যুর খবর পত্রিকায় আমার পাঠ করেছি। কিন্তু একটি কুমড়া ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর কি কোনও তাৎপর্য আছে? অনিবার্য এই প্রশ্নটা উঠতেই পারে। আসলে কুমড়া এখানে একটা সম্পদ। এই সম্পদটার দখল চাই যেনতেন প্রকারে আব্দুর রউফের। এই সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার এই লড়াইটাই চলছে মুক্তবাজার অর্থনীতির পরতে পরতে। এই জন্যেই চলছে দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে রাজনীতির চাল। বিচারপতি সিনহার ব্যাংকহিসাবে জমা পড়ছে ৪ কোটি টাকা, তিনি বিদেশে পাড়ি জমিয়ে লিখছেন বই। আরও চলছে বিশ্বজোড়া অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের কাঁধে রোহিঙ্গাদের চাপিয়ে দেওয়া কিংবা দেশের ভেতরে প্রতি ইঞ্চিতে ইয়াবাবাণিজ্যের বিস্তার। সব কীছু মিলে দেশের উন্নতিকে ঠেকিয়ে দেওয়ার এক মহাষড়যন্ত্র। আব্দুর রউফের কুমড়া খুব দরকার এবং সুনীলের কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নিতে হবে এবং ইয়াবাব্যবসার বিস্তার ও মাদকবিরোধী অভিযান সব ঘটনার সূত্র একটাই, সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া। সম্পদের পাহাড় গড়তে প্রয়োজনে দেশের সবকটি তরুণকে ইয়াবাসেবী বানিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতেও ইয়াবাব্যবসায়ী একটুকুও বিচলিত নয়। এই অবিমৃষ্যকর আর্থনীতিক ব্যবস্থাকে বদলে দিতে হবে। যে ব্যবস্থায় একজন বিলপ্রহরী আব্দুর রউফ একটি কুমড়ার অধিকারী হওয়ার লোভে একজন ফেরিওয়ালা সুনীলের উপর হামলে পড়ে ঘুষি মেরে তাকে মেরে ফেলে, তার কাছে একটি কুমড়া কেনার টাকা নেই। অথচ এই দেশের মাথা পিছু আয় বর্তমানে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এই দেড় লক্ষ টাকা রউফের হাতে পৌঁছে দেবার কোনও ব্যবস্থা নেই, বরং উল্টো আছে চিনিয়ে নেওয়ার অব্যর্থ ব্যবস্থা । এমতাবস্থায় কুমড়ার জন্য নির্মম একটি খুন সংঘটিত হওয়াই স্বাভাবিক। এই নির্মমতা কেবল রউফ ও সুনীলের মধ্যে বিস্তৃত নয়, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির হেনতেন একটি বিশ্লেষণ করলেও এই সত্য ধরা পড়বে যে, সেখানেও রউফজাতীয় মানুষেরা সুনীলজাতীয় মানুষদেরকে মেরেই চলেছে। এ দেশে হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপির কোনও অভাব নেই। আসলে আর কীছু পারা না যাক, সর্বাগ্রে কাজ করতে হবে মানুষের বেঁচে থাকার প্রযেজনীয় সামগ্রী মানুষের কাছে সহজ লভ্য করার উপায় অনুসন্ধানে। আপাতত এর কোনও বিকল্প নেই। অন্যথায় আবার কোনও এক রউফ কোনও এক সুনীলকে একটি কুমড়া লাভ করার লোভে মেরে ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী