,

Notice :
«» সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ কে বিদায়ী সংবর্ধনা «» বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে অবদানে পুরস্কার বিতরণ «» রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে –কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন «» পাকনা হাওরের : স্কিম গ্রহণ সংক্রান্ত জন-অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময় «» জামালগঞ্জে নাশকতার মামলায় ৪ জন গ্রেফতার «» প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর আলম «» পরিত্যক্ত গুদামঘরটি অপসারণ করুন «» বিএনপির রাজনীতি : আন্দোলনের ফাঁকে নির্বাচনী প্রচারণা «» ভিডিও কনফারেন্সে তাহিরপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী «» গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাহারে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল

ত্রিকালদর্শী প্রগতিশীল রাজনীতিক অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদকে নিয়ে কিছু কথা


মো. আব্দুল ওদুদ ::

ব্রিটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিশ্ব রাজনীতির অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পাটি (ন্যাপ)। এই সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ-কালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্ঠা, বাম প্রগতিশীল আন্দোলনের পাথিকৃত অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ৯৭ বছরে পা রেখেছেন। প্রায় আট দশক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিচরণ করছেন বীরত্বের সাথে। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী , মজলুম জননেতা ভাসানীর সংস্পর্শে রাজনীতি করেছেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পযার্য়ে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন।
উপমহাদেশের বষীর্য়ান রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্ঠা ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ১৯২২ সালের ১৪-ই এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম ভূঁইয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক আলহাজ্ব কেয়াম উদ্দিন ভূঁইয়া, মা আফজারুন্নেছা।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসহ অথর্নীতিতে এম. এ. এবং পরিবর্তী সময়ে ইউনেস্কোর ডিপ্লোমা (পরিসংখ্যান বিষয়ে) লাভ করেন। ১৯৫২ সাল সাল পর্যন্ত অথর্নীতি বিষয়ে কয়েকটি সরকারী কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন ও দেশের মানুষের সাবিক কল্যাণের জন্য স্বেচ্ছায় অধ্যাপনার চাকুরি ছেড়ে রাজনীতিতে চলে আসেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সরকারি চাকুরি থাকায় সেই সময় ঢাকার আজিমপুরে সরকারি কলোনির ফ্ল্যাটে থাকতেন। তাঁর সরকারি এই বাসায় ভাষা আন্দোলনের নেতাদের বাংলা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। ১৯৫৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লার দেবিদ্বার নির্বাচনী এলাকা থেকে মুসলিম লীগ প্রাথী ও তখনকার পাকিস্তান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মফিজ উদ্দিনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। প্রাদেশিক পরিষদে ১৯৫৭ ইংরেজির এপ্রিলে তিনিই প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ব-শাসনের দাবি উস্থাপন করেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির (ন্যাপ) সভাপতি হন তিনি। তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী এর যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন। পাকিস্তানের তখনকার সামরিক সরকারের প্রধান সৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্বদান করেন। ১৯৬৯ সালে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। যার জন্য তাকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার লক্ষ্যে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের সমন্বয়ে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। ১৯ হাজার গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে ভারত নতুন বাংলা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর দেশ-বিদেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। স্বাধীনতা পরবতি সময়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও আথর্সামাজিক বাস্তবতায় সমাজ প্রগতির আন্দোলনকে বেগমান করার জন্য সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে সংসদে নির্বাচিত হন। ন্যাপ, সিপিবি এ দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রীক শক্তির মনোনীত প্রাথী হিসেবে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিবাচনের প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। সৈরাচারী এরশাদ বিরোধি গণতান্ত্রীক আন্দোলনের প্রক্ষালে কারাবন্ধী হন।
অধ্যাপক মোজাফফর পৃথিবীর বহু সমাজতান্ত্রিক দেশ যেমন: সোভিয়েত ইউনিয়ন, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, দিক্ষণ ইয়েমেন, জামানি, ফ্রান্স, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বহুদেশ সফর করেন। জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন সমস্যার উপর তিনি অনেক বই পুস্তিকাও লিখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন। যেমন: ‘সমাজতান্ত্রিক এবং প্রকৃত গণতন্ত্র তথা সমাজতন্ত্র সম্পর্কে জানার কথা, মার্কসবাদী সমাজতন্ত্র, কিছু কথা, মুক্তির পথ, রাজনৈতিক পরিভাষা, সমাজতন্ত্রের সৈনিক হতে হলে’ ইত্যাদি। জনসচেতনতা বৃদ্ধি দেশপ্রেমিক নেতা ও কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার জন্য ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে প্রতিষ্ঠিত করেন উপমহাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও গবেষনা কেন্দ্র ‘সমাজিক বিজ্ঞান পরিষদ ’। এর জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন দেশ-বিদেশে। দেশের জন্য এটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নিজ গ্রাম এলাহাবাদে নিজস্ব সমস্ত ভূমি দান করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এলাহবাদ উচ্চ বিদ্যালয়। দেবিদ্বার উপজেলার সমস্ত মানুষ অনুরোধ করেছিলেন স্কুলের নাম উনার নামে করার কিন্তু তিনি সম্মতি দেন নাই।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও মানুষকে একান্ত ভালোবেসেছেন। সারাজীবন আন্দোলন করেছেন নিজ আদর্শে অবিচল থেকে। সবসময় তিনি ভবিষৎ প্রজন্মকে সৎ ও নীতিকর্ম রাজনীতির প্রতি উৎসাহিত করার চিন্তা করতেন। তিনি বলেছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে নেতৃত্ব প্রদান করলে রাজনীতি আরও সংশোধিত হবে। যুবক, যুবতী, তরুণ-তরুণীরাই সবসময় সমাজ প্রগতির চাকা এগিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে চরম অবক্ষয়ের দিনে তারাই আশার পথ সুগম করবে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ বর্তমানে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মাননীয় সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেবকে এ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠিয়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের শারিরীক অবস্থাার খোঁজ খবর নিচ্ছেন এক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছেন।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের আশা-আকাঙ্খা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার রাজনীতিতে বাস্তবায়িত হবে, এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: (মো. আব্দুল ওদুদ, সাধারণ সম্পাদক ন্যাপ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী