,

Notice :
«» সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ কে বিদায়ী সংবর্ধনা «» বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে অবদানে পুরস্কার বিতরণ «» রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে –কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন «» পাকনা হাওরের : স্কিম গ্রহণ সংক্রান্ত জন-অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময় «» জামালগঞ্জে নাশকতার মামলায় ৪ জন গ্রেফতার «» প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর আলম «» পরিত্যক্ত গুদামঘরটি অপসারণ করুন «» বিএনপির রাজনীতি : আন্দোলনের ফাঁকে নির্বাচনী প্রচারণা «» ভিডিও কনফারেন্সে তাহিরপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী «» গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাহারে বিএনপির কালো পতাকা মিছিল

অক্টোবর-নভেম্বরে কী কিছু হতে যাচ্ছে?


দীপক চৌধুরী ::

আমাদের রাজনীতিতে একমাত্র ইস্যু ক্ষমতা। সেখানে বৈধ-অবৈধ বিচার করতে চাই না, শুধু ক্ষমতা চাই। বিএনপি নামের দলটি তাদের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বাতিল করে আত্মস্বীকৃত ‘দেউলিয়া’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে নিজেদের। এটারও মূলে রয়েছে ক্ষমতার স্বপ্ন। এর মাধ্যমে বিএনপি নিজেরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়েও কথা ওড়াচ্ছে দলটির নেতারা।
বাংলাদেশের সামনের দিনগুলোয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানারকম খেলা ও ষড়যন্ত্র হবে বলে আশঙ্কা অনেকেই করছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নানা রকম আতঙ্কে রয়েছেন। অনুমান করছি যে, তাদের ভেতর নানা আশঙ্কা ভিড় করছে। নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আগাম পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তবে এটাও সত্যি, ভোটারদের মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে ভোট দেওয়ার। প্রশাসনের কাছে তারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার নিশ্চয়তা চান, নিরাপত্তা কামনা করেন।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে হররোজ ‘টকশো’তে নানা শঙ্কা-আশঙ্কার কথা আমরা শুনছি। এরপরও আমরা জানি, আগামী নির্বাচনে বড় দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবেই। এটি শুধু ধারণা নয়, বাস্তবতা। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ‘বিনা চ্যালেঞ্জে নির্বাচন ছাড়া যাবে না’ জাতীয় কথাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। যদিও খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারান্তরীণ হলে বিএনপির এই নেতা একবার বলেছিলেন, খালেদার জেলের কারণে প্রতিদিন বিএনপির দশ লাখ ভোট বাড়ছে। বাস্তবে এর উল্টোটা হচ্ছে। বিএনপির সমর্থক ও কর্মীরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। অবশ্য, এখন ‘হ্যাঁ-না’ কোনোটাই বলছেন না মওদুদ আহমেদ। তার দুর্নীতির বিচার শুরু হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এটা দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। এখন উচ্চ আদালত বলেছেন, বিচারে বাধা নেই। তার আয় বহির্ভূত স¤পদের হিসাব চায় দুর্নীতি দমন কমিশন।
এটা ঠিক, বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিতে চায় অনেকে মানুষ; কর্মী সমর্থকরা তো তাদের নেতাদের দিকে তাকিয়ে আছেই। দলটিরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একটি বড় দলের অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার মধ্যে নির্বাচন অবাধ বা শান্তিপূর্ণ হলো কিনা এর সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় কী?
নানা ষড়যন্ত্রের কথাও শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বাড়িয়ে বলেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। সামনে অক্টোবর-নভেম্বর। অবশ্য নির্বাচন এলেই শঙ্কা-আশঙ্কা বাড়ে। ২০১৩-১৪-এর কথা ভুলবার নয়।
মানুষ হত্যা, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ। ২ শতাধিক জীবন বিনাশ। কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছিল সেই তা-বে। ২০০১-এও নির্বাচনের আগে সেই বিএনপি যে কত মিথ্যাচার করেছে, কত গুজব ছড়িয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতন করেছিল তা কী ভুলে গেছেন দলটির নেতারা? আর এই বিএনপি এখন গণতন্ত্র আর ঐক্যের কথা শোনায়, শেখায়ও। গুজব ছড়ানো হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে তো? নির্বাচন যথারীতি না হওয়ার কী কোনো কারণ আছে?
‘অগণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলা বিএনপির অভ্যাস। দলের নেতারা বলেন দেশে গণতন্ত্র নেই এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একবার বলেছিলেন, ‘টেলিভিশনে বিভিন্ন ‘টকশো’ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলা হয়, তারপরও টক-শো থেকে ফেরার সময় কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। তবুও বিএনপি বলে দেশে গণতন্ত্র নেই।’ মন্ত্রী মহোদয়ের কথা কী মিথ্যা?
প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির তো অনেকে কিছু করার ছিল বা আছে। রাজনৈতিক গবেষকদের মতে, ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার মাশুল দিয়েছে, দিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ভুল বিএনপি করেছে। ২১ আগস্টের মামলা চলাকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরা। যদি আগস্টের নৃশংস ঘটনায় তারা কেউ জড়িত নাই থাকেন তাহলে ভয় কীসের? যতোরকম কঠোরতাই থাকুক না কেন, রাজনীতিতে জেল-দণ্ড থাকবেই।
রাজনীতির মতো কঠিন বিষয়কে আলিঙ্গন করতে চাইলে জেল-পুলিশকে ‘ভয়’ করা চলবে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপি নেতা তারেক রহমানের পলায়নপর রাজনীতি ও বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়ে বিএনপিপন্থী গবেষক বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা করার এখনই সময়।
সেই পুরনো কথাই বিএনপি নেতারা বলছেন। আশাবাদ জাগাতে পারে এমন নতুন কোনো কথা নেই বিএনপির কণ্ঠে। যেমন, ‘তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার পার্লামেন্টকে ধ্বংস করেছে ১৫৪ জন অনির্বাচিত সংসদ সদস্য দিয়ে, বিচার বিভাগ-প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণমাধ্যমকে জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে।’ এই কথাগুলা তাদের মুখ থেকে দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। সম্প্রতি প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তার এ বক্তব্যে ও বডি ল্যাংগুয়েজে এটাই মনে হয়েছে, বিএনপি যেন অসহায় হয়ে পড়েছে।
বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী এখন সুন্দর কথা বলেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ২০০১-এর নির্বাচন পূর্বে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘সাবাস বাংলাদেশ’ নামে টিভিতে ১১ পর্বের অনুষ্ঠান প্রচার করে রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ষোলকলা পূর্ণ করেছিলেন।
বিএনপি-জামায়াতকে এমন অনুষ্ঠান আরো সাম্প্রদায়িক হতে উৎসাহিত করে। পরিণতি কতো ভয়াবহ আকার ধারণ করে তা অবর্ণনীয়। সঠিক তথ্যের বদলে মিথ্যা তথ্য, অসত্য প্রচার, দিবালোকে মিথ্যাচার রাজনীতিকে নৃশংসমুখী করে তুলেছিল। ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। এরপর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর তো তার ভয়ংকর সময় কেটেছে? তিনি একটি দৈনিকে নিজেই বলেছেন, ‘দুঃসময় গেছে। পাথর মেরে মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তার কারখানার যেসব পণ্য রপ্তানির জন্য চট্টগ্রামে ছিল, জ্বালিয়ে দিয়েছে। তার বিভিন্ন কারখানায় আক্রমণ করা হয়েছে। মাহীর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দিয়েছে। আমার পেছনে পিস্তল দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে গেছে। তখনই বুঝেছি, নির্বাচন করে লাভ নেই। সেটাই হলো।’
সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেনও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সেই হিসেবে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে সংশয় পোষণ করছে। নানা ধরনের গুজব, অনিশ্চয়তার মধ্যেও জনগণ দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে জেলায়-উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি, পোস্টার, দেয়াল লিখনসহ নানা কর্মকাণ্ড চলছে। প্রার্থীরা জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। সভা-সমাবেশও করছেন কেউ কেউ। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও নির্বাচনী মাঠে সরব থাকতে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা মাঝে-মধ্যে আগামী নির্বাচনের চরিত্র কী রকম হবে তা নিয়েও সংশয়-সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
‘তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব’ ঘটতে পারে বলে অনেকে বলার চেষ্টা করছেন। সেই শক্তিটা কী তাও অস্পষ্ট জনগণের কাছে। এছাড়া তৃতীয় শক্তির নেতা হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসে তারা গণবিচ্যুত। দল থেকে পদচ্যুত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় এলে জনগণের যে ভাগ্যের উন্নতি হবে না তাও অনেকেই বিশ্বাস করেন। আবার কেউ কেউ বলেন, এগুলো কিছুই হবে না, নির্বাচন যথারীতি হবে। সাময়িক সময়ের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় মাত্র।
আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই উৎসব নয়। নির্বাচনের দিন উৎসবের আমেজে মানুষ ভোট দিতে পারে না। ২০১৩-১৪ সালে কী দেখেছি? নির্বাচন রোখার শক্তি দেখিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। যে যতই বলুক, বিদেশি শক্তি আমাদের দেশের নির্বাচনে প্রভাব খাটায়।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের কথা যদি বলি তাহলে দেখতে পাই, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি তখন সভা-সমাবেশে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ ভারতের কবজায় চলে যাবে। মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে। কুকুরের মাথায় টুপি পরানো হবে। অথচ এর কিছুদিন আগে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পথে আমরা হাঁটছিলাম। ওই সময়ে খালেদা জিয়ার কণ্ঠে এমন ভাষণ কীভাবে মানায়।
অতীত অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোও নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। প্রভাব খাটিয়ে হয়তো অনেক কিছুই করা যায়। ভারতও বিশাল ভূমিকা রাখে। তবে এবার ভারত একটি বিশেষ অবস্থানে আছে। রাজনৈতিকভাবে বিএনপি পুরোপুরি কোণঠাসা।
আমরা ভুলে যাইনি, ২০০৭ সালে রাজপথে খুনাখুনি, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটতে থাকে। একপর্যায়ে আসে ‘ওয়ান-ইলেভেন’। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তারা দুই বছর ক্ষমতায় থাকে। পরে কারো সমর্থন না পেয়ে সেই সময় অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। ২০০৮ সালে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। অবশ্য তারা উদ্যোগ না নিলে হয়তো ভোটার আইডি কার্ড কখনোই হতো না। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞরা বলছেন, আগামী নির্বাচনেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগবিরোধীদের মধ্যে। এই লড়াইয়ে আরেকটি বড় ফ্যাক্টর হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তি ইমেজ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক গুণগুলোর সবই শেখ হাসিনার আছে। তিনি স্পষ্টবাদী। তাই আপামর জনগণের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখছেন। সাধারণ মানুষের মনেও এমন ধারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চান, ভাই, নির্বাচন হবে তো! এর স্পষ্ট উত্তর কোথায়?
[লেখক : উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী