,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

মৃত্যুর পরে মিলে সরকারি বরাদ্দ


শামস শামীম ::

সমাজসেবা অধিদপ্তরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আবেদন করেও যথাসময়ে সহায়তা পাচ্ছেন না ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজডসহ হৃদরোগীরা। তবে হতদরিদ্রদের বদলে সচ্ছল রোগীরা তদবির করে তাদের অনুদান নিয়ে আসলেও হতদরিদ্ররা বঞ্চিতই থাকছেন। অসহায় রোগীরা অনুদান পেলেও জীবদ্দশায় সেই অনুদান ভোগ করতে পারেন না। তাই মৃত্যুর পরে তাদের নামে আসে সরকারি অনুদানের চেক। এই চেক নিয়েও পরবর্তীতে স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জানা গেছে, সরকার ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে জটিল রোগীদের সহায়তার জন্য ‘ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও স্ট্রোকে প্যারালাইজড রোগীর আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়ন ও জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট আবেদনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয় এই প্রকল্প থেকে। সরকার অসহায় রোগীদের জন্য বিশেষ এই উদ্যোগ নিলেও অভিযোগ রয়েছে নানাভাবে তদবির করে সচ্ছল রোগীরাই বেশিরভাগ সহায়তা পেয়ে থাকেন। অসহায় রোগীদের তদবিরের কেউ না থাকায় তারা সহজে সহায়তা পাননা। স্বাভাবিক নিয়মে কিছু অসহায় মানুষ সহায়তা পেলেও জীবদ্দশায় সেটা ভোগ করতে পারেন না। তাই সরকারি এই সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকার ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীর আর্থিক সহায়তায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জেলা সমাজ সেবা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস বা অনলাইন থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে রোগীরা সাধারণত আবেদন করে থাকেন। জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদ সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতি মাসের সভায় সেগুলো চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। তবে যারা সচেতন ও সচ্ছল তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তদবির করিয়ে সহজেই সহায়তা নিয়ে আসেন। অসচ্ছল, অসহায় ও অসচেতন লোকজনের তদবির করার কেউ না থাকায় তাদের সহায়তা পেতে বিলম্ব ঘটে। সহায়তা পাওয়ার আগেই তারা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন।
সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সমাজল্যাণ পরিষদ কর্তৃক চূড়ান্তকৃত ৯২টি আবেদন ও ১৫ নভেম্বর ৫৬টি আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি ৫৭টি, ৩১ জুলাই ৩৪টি এবং ৩১ মে আরো ৬২টি আবেদন পাঠানো হয়েছিল। উল্লেখিত আবেদনগুলোতে ক্যানসার, কিডনী, লিভার সিরোসিসসহ কঠিন রোগাক্রান্ত সহায়তা চাওয়া লোকজনও রয়েছেন। কিন্তু ওই আবেদনগুলোর একটিরও সহায়তা মিলেনি। আদৌ পৌঁছবে কি-না তা জানেননা স্থানীয়রা। এদিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সহায়তা সহজলভ্য করতে প্রতিটি হাসপাতালের বিপরীতে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ দিলে তারা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে দ্রুত সহায়তা পেতে পারতেন। এতে জটিল রোগীদের প্রতীক্ষা কমতো। কেন্দ্রীয়ভাবে লোকবলের সমস্যা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে সহায়তা পেতে বিলম্ব হয় বলে ওই সূত্র জানায়।
জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে সহায়তা আবেদনকারীদের ২২টি চেক এসেছিল। এর মধ্যে ২০ জনই মারা গিয়েছিলেন। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের ৬টি চেক ফিরিয়ে দিয়েছে। দিরাই উপজেলার চন্দপুর গ্রামের মাহমদা বেগম, ছাতকের কামারগাঁও গ্রামের ছালেখা খাতুন, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুনপাড়া এলাকার রীনা রাণী ভৌমিক, ছাতকের জাতুয়া গ্রামের মোছা. বেগম, তাহিরপুরের মধুয়ারচরের আবু ছায়েদ এবং দিরাই উপজেলার চন্দপুর গ্রামের রাজলক্ষ্মী দাস চৌধুরী মারা গেছেন। উক্ত নামগুলোতে ইস্যুকৃত ৬টি চেক ফিরিয়ে দিয়ে তাদের বৈধ উত্তরাধিকারীদের বরাবরে ইস্যু করার জন্য জেলা সমাজসেবা অফিস গত ১০ এপ্রিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু চার মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো উত্তরাধিকারীদের নামে কোন চেক আসেনি।
তাহিরপুরের মধুয়ারচর গ্রামের মৃত আবু ছায়েদের স্ত্রী আক্তারা খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা করিয়েছিলাম স্বামীকে। কিন্তু বাঁচাতে পারিনি। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে খবর জেনে সমাজসেবা অফিসে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তদবির করার কেউ না থাকায় আবেদনের প্রায় দেড় বছর এবং স্বামীর মৃত্যুর পর এক বছর পরে চেক এসেছে। এখন এই চেকের উত্তরাধিকারী হিসেবে আবেদন করেছি। কিন্তু কবে পাব জানিনা।
ছাতকের আবেদনকারী মৃত ছালেকা খাতুনের মেয়ে ফুলমালা বেগম বলেন, আমাদের তদবিরের কোন লোক নাই। মা মারা যাওয়ার পর আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। একদিন সমাজসেবা অফিসের লোকজন খবর দিলে তাদেরকে আমার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি অবগত করি। তারা আমাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে চেকের জন্য মনোনয়ন করে পাঠিয়েছে। কবে চেক আসবে জানিনা।
সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইব্রাহিম আল মামুন মোল্লা বলেন, স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে কিছু করার নেই। আমরা আবেদন পাবার পর জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্তগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেই। তবে বেশির ভাগ মানুষই মৃত্যুর পর সহায়তার চেক পেয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে সমাজসেবার মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়ে দিলে রোগীরা প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সহজেই ও দ্রুত চেক পেতে পারতেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, আমার কাছে যারা সহায়তা পেতে আসেন আমি যাচাই সাপেক্ষে তারা কিভাবে সহজে সহায়তা পেতে পারেন সেই চেষ্টা করি। তবে স্থানীয়ভাবে যে আবেদনগুলো যায় নানা জটিলতার কারণে পাস হতে সময় লাগে। এখন মন্ত্রণালয় দ্রুতই জটিল রোগীদের সহায়তার বরাদ্দ দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী