বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

Notice :

সরকারের সাফল্য জনগণকে অবহিতকরণে প্রেসব্রিফিং


স্টাফ রিপোর্টার ::

সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা জনগণকে অবহিত ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সম্পৃক্তকরণে লক্ষ্যে প্রেসব্রিফিং করেছে জেলা তথ্য অফিস। বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন।
জেলা তথ্য অফিসের অফিস সহকারি শরিফ আহমেদের পরিচালনায় প্রেসব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক বিজন সেন রায় এবং দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ব্রান্ডিং’ বিষয়ক প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের আওতায় ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, নারী ক্ষমতায়ন কার্যক্রম, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিশু বিকাশ, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা।
তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক তুলে ধরে বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে মাধ্যমে সারা দেশে ৪০ হাজার ২১৪টি উন্নয়ন সমিতি গড়ে উঠেছে। এতে প্রায় ১ কোটি ২২ লক্ষ লোক উপকার ভোগ করছে। তাছাড়া শিক্ষা সহায়তার মাধ্যমে সরকার বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছে। এই বছর বিনামূল্যে ৬২ কোটি ৬৪ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে এ সরকার।
নারী ক্ষমতায়ন সম্পর্কে জেলা তথ্য অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের সামাজিক অবস্থান দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। দেশব্যাপী ১২ হাজার ৯৫৬টি পল্লী মাতৃস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মা ও শিশু যতœসহ যাবতীয় বিষয়ে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছাতে প্রতি ৬ হাজার মানুষের একটি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তুলা হয়েছে। এ ক্লিনিক থেকে ৩০ প্রকারের ঔষধ পাওয়া যায়।
আশ্রায়ন প্রকল্পে সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কে প্রেসব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ছিন্নমূল অসহায় পরিবারের পুনর্বাসন এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ৩টি পর্যায়ে ১৯৯৭ থেকে জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৯ হাজারের বেশি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। ৫০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০০২ সালে শুরু হয়েছে আশ্রয়ন-২ প্রকল্প। যার মাধ্যমে ৩৩ হাজারের বেশি পুনর্বাসিত হয়েছে। ২২৭টি প্রকল্পে জমি আছে ঘর নাই এর রকম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার।
জেলা তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সুখী-স্বনির্ভর সোনার বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সময়োপযোগী ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজিটাল কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ। ৪৫২৭ টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার বা তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে অনলাইনে ২০০ ধরনের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি ও ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৫ কোটি।
প্রেসব্রিফিংয়ে বক্তারা বলেন, কত সরকার আসলো আর গেলো। কিন্তু এই সরকারের মতো এতো উন্নয়ন কোনো সরকার করেনি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। একমাত্র শেখ হাসিনার অবদানে বাংলাদেশ নি¤œ আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। যা আমাদের জন্য গর্বের।
বক্তারা আরো বলেন, পদ্মা সেতু তৈরি করে বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের কারো সাহায্য প্রয়োজন হয় না। যখন বিশ্বব্যাংক টাকা দিয়ে অস্বীকার করে তখন বাংলাদেশ একাই করে দেখিয়েছে। সরকারের এ উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। যাতে প্রান্তিক গ্রামের লোকজনও জানতে পারে এই সরকার উন্নয়নের সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী