,

Notice :
«» সোমবার শহীদ সিরাজ লেকে ‘ইত্যাদি’র দৃশ্যায়ন «» জামালগঞ্জের দৌলতা ব্রীজ মরণ ফাঁদ «» রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অ্যাড. রুমেন «» আয়কর মেলা সমাপ্ত : ৪ দিনে কর আদায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা «» ‘নীলাদ্রি’ নয় শহীদ সিরাজ লেক নামে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে প্রচারের জন্য স্মারকলিপি «» নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : সহকারি রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ «» মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসংরক্ষণ কর্মকে প্রবল ও বেগবান করুন «» কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা «» নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা : প্রার্থীরা ঢাকায়, উৎকণ্ঠা উত্তেজনায় কাটছে প্রতি মুহূর্ত «» প্রশাসনের উদ্যোগ : প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যানার পোস্টার অপসারণ

গ্রেনেড হামলা : তারেকসহ সব আসামির ‘সর্বোচ্চ সাজা’ চায় রাষ্ট্রপক্ষ

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তি উপস্থাপনে সব আসামির বিপক্ষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
হামলার ১৪ বছর এবং বিচার শুরুর ছয় বছরেরও বেশি সময় পর মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি শেষে রায়ের তারিখ আসে।
ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ৪৯ জন আসামির বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন ১০ অক্টোবর।
আদালত এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি এই হামলাকে বর্বরোচিত, অপরাধ জগতের ইতিহাসে অনন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা পূর্বেও ব্যক্ত করেছি সম্মানিত আদালতের সম্মুখে। আজও বলছি আইনে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে সর্বোচ্চ সাজা যেন দেয়া হয়। আমরা ২২৫ জন সাক্ষীর মাধ্যমে সম্মানিত আদালতে সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।
রাষ্ট্রপক্ষ যাদের ফাঁসি দাবি করেছে তাদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ডিউক।
এই মামলায় ৫২ জন আসামির মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, জঙ্গিনেতা মুফতি মোহাম্মদ হান্নানসহ তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য মামলায়। ফলে ৪৯ জনের পরিণতি জানা যাবে ১০ অক্টোবর।
১৪ বছর আগে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয় শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য। নেতারা মানববর্ম বানিয়ে তাঁকে রক্ষা করলেও প্রাণ হারান ২৩ জন। আহত হয় শত শত, যাদের বহুজন এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
এই মামলাটি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলাটিতে প্রকৃত হামলাকারীদের বাঁচিয়ে নির্দোষ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টার প্রমাণ মেলে। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা ফাঁস হয়ে যায়।
২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এতে শেষে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনকে আসামি করা হয়। ওই বছর ২৯ অক্টোবর ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আখন্দ।
২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অধিকতর তদন্তে উঠে আসে হাওয়া ভবনসহ যেসব স্থানে এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছে, সেগুলোতে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। আর এ কারণেই হামলার পর মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে।
২০১২ সালের ১৮ মার্চ তারেক রহমানসহ নতুন তালিকাভুক্ত ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
বিএনপি বিশেষ করে তারেক রহমানকে আসামি করার সমালোচনা করে আসছে। দলের নেতা এবং এই মামলায় আসামিদের আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তাকে এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, আসামিপক্ষের এই বক্তব্য আমরা শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছি। এই দুই মামলায় একজন আাসমিও নেই যাদেরকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে স¤পৃক্ত করা হয়েছে। কাজেই আসামিপক্ষের এই বক্তব্য অসার, যুক্তিহীন।
তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সেটাও জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান এই আইনজীবী। বলেন, ষড়যন্ত্র, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গ্রেনেড সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণ, অর্থের যোগান এবং প্রশাসনিক সহায়তা। চারদলীয় জোটের সাহায্য-সহযোগিতা, বিএনপি-জামায়াত জোটের সাহায্য সহযোগিতা, আলামত ধ্বংস করার অভিযোগ ছিল, সেসব আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।
অপরাধ প্রমাণ হওয়ার বিষয়ে আসামিপক্ষের অস্বীকারের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় রেজাউর রহমানের। জবাবে তিনি বলেন, আসামিপক্ষের তারা তো প্রশ্ন তুলেতেই পারে। কিন্তু সে প্রশ্ন যুক্তির আলোকে, আইনের আলোকে ধোপে টেকে না।
এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং পুলিশের সাবেক তিন আইজিসহ আট আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের কথাও জানান রেজাউর রহমান। জানান, এই আবেদন তারাই করেছিলেন। আর আসামির আইনজীবীরা জামিন বহালের আবেদন করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী