,

Notice :
«» সোমবার শহীদ সিরাজ লেকে ‘ইত্যাদি’র দৃশ্যায়ন «» জামালগঞ্জের দৌলতা ব্রীজ মরণ ফাঁদ «» রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অ্যাড. রুমেন «» আয়কর মেলা সমাপ্ত : ৪ দিনে কর আদায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা «» ‘নীলাদ্রি’ নয় শহীদ সিরাজ লেক নামে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে প্রচারের জন্য স্মারকলিপি «» নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : সহকারি রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ «» মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসংরক্ষণ কর্মকে প্রবল ও বেগবান করুন «» কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা «» নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা : প্রার্থীরা ঢাকায়, উৎকণ্ঠা উত্তেজনায় কাটছে প্রতি মুহূর্ত «» প্রশাসনের উদ্যোগ : প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যানার পোস্টার অপসারণ

জনসভায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ : পীর মিসবাহ প্রার্থী, তাকে বিজয়ী করুন


বিশেষ প্রতিনিধি ::

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রোববার সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভায় সদর আসনে বর্তমান এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেছেন, বিগত পাঁচ বছর সংসদ থেকে রাজপথে সে আপনাদের পাশে ছিল। শুধু সুখে-দুঃখে পাশেই থাকেনি, দাবি আদায়ে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিল। সততার সঙ্গে আপনাদের ভালবাসা অর্জন করেছে। আপনাদের পীর মিসবাহকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। এই জেলায় মহাজোটে সদর আসন আমি ছাড় দেব না। তাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের। সে বিজয়ী হলে আপনাদের পাশে থাকবে।
জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন হলেও কার্যত এটি ছিল সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রাক-নির্বাচনী শোডাউন। সকাল থেকে প্রচ- তাপদাহ উপেক্ষা করে ঢোলবাদ্য বাজিয়ে হাজারো নারী-পুরুষ মিছিলে মিছিলে চারদিক মুখরিত করে এই সমাবেশে যোগ দেন। তুমুল করতালি আর স্লোগানের মধ্যে এরশাদ পীর মিসবাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, এটিই আমার প্রথম দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা। এর আগে আমার এলাকাসহ কোথাও কোন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করিনি।
এরশাদের আগমন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ শহর তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুনে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছিল। জনসভাস্থল ছাপিয়ে হাজারো জনতার ঢেউ আলফাত স্কয়ার থেকে পৌরসভা, আবুল হোসেন মিলনায়তন, রিভারভিউ, উকিলপাড়া ছাপিয়ে ষোলঘর কাজির পয়েন্টে আছড়ে পড়ে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শ্বেতকপোত উড়িয়ে উদ্বোধন করে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে গুম, খুন, সন্ত্রাস এবং মাদক আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ এ অবস্থার পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তন এনে দিতে পারবে একমাত্র জাতীয় পার্টি। রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে আগামী নির্বাচনে লাঙ্গলে ভোট দিন।
এরশাদ বলেন, আমার আসনে আমি এখনো নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করিনি, কিন্তু পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে গেলাম, তাকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের।
সমাবেশে জনজোয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত এরশাদ বলেন, প্রচ- রোধে সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে আমি অভিভূত। এতো মানুষ আমাকে ভালবাসে এটা ভাবলে মনে হয় আমার বয়স কমে গেছে।
এরশাদ আরো বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা বলছেন, তারা ক্ষমতায় না গেলে দেশে এক লাখ মানুষ মারা যাবে। জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসুন, দেশে একজন মানুষও মারা যাবে না। কারণ জাতীয় পার্টি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
সমাবেশে বক্তব্য রখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহহিয়া চৌধুরী এমপি, জেলা জাপা নেতা সাবেক এমপি অ্যাড. আব্দুল মজিদ, মোহাম্মদ আলী খুশনূর, আব্দুর রশিদ, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাস্টার, সাইফুর রহমান সমছু, সাবেক প্যানেল মেয়র মনির উদ্দিন, হাজী হেলাল, ফারুক মেনর, জসিম উদ্দিন, সাজ্জাদুর রহমান সাজু, মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী প্রমুখ।
এরশাদ আরো বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সিলেট বিভাগ থেকে ৮টি আসনে জয় লাভ করেছিল। এবার আরো বেশি আসনে জয় লাভ করতে হবে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে, দলীয়করণ হবে না, দেশে গুম-খুন থাকবে না। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। বরাবরের মতো ক্ষমতায় গেলে দেশে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথাও বলেন তিনি।
এ সময় এরশাদ উল্লেখ করে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আমাদের বিরুদ্ধে করা ৫ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ৬ হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে কারো বিরুদ্ধে অন্যায়-অবিচার হবে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা এখন একটা কঠিন সময় পার করছি। দেশে অন্যায়-অবিচার চলবে কিন্তু প্রতিবাদ করা যাবে না, প্রতিবাদ করলেই মামলার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু জাতীয় পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, নানান সমালোচনা হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কিন্তু কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি।
জাপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ সুখে থাকে, শান্তিতে থাকে। তাই আগামীতে লাঙলে ভোট দিন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কথা দিয়েছিলাম সততার সাথে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন করে যাব। আমি আপনাদের কাছে দেওয়া সেই ওয়াদা রক্ষা করেছি। প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের সুখ-দুখের কথা শুনেছি। সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি সাহেব বা নেতা হইনি, একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আপনাদের সেবা করেছি। আবার বিজয়ী হলে আমি আমার এই সেবা অব্যাহত রাখব।
তিনি বলেন, কারো মনে আঘাত দেইনি। কারো সঙ্গে দম্ভ দেখাইনি। চেষ্টা করেছি সবার বিপদে-আপদে পাশে থাকতে। আমার বাড়ির দরজা সবার জন্য দিন-রাত খোলা রেখেছি। সংসদ অধিবেশন ছাড়া ঢাকায় থাকিনি। এলাকায় পড়ে থেকেছি। তারপরও রাজনীতির ‘নাবালক ছেলে’ বলে এই আসন থেকে লাঙল হঠানোর ঘোষণা করেছে একটি পক্ষ। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনা- লাঙল মানুষের হৃদয়ে, মাটির গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। আর মানুষের ভালবাসাই আমার শক্তি। এই শক্তিতে ইনশাআল্লাহ আবার বিজয়ী হয়ে আপনাদের সেবা করব। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ভালবাসায় কাছে টেনেছি। তাই মানুষও আমাকে ভালবাসা দানে কার্পণ্য করেননি।
সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টি নেতা গোলাম হোসেন অভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী