,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

এরশাদ, জাতীয় পার্টি এবং চলমান রাজনীতি

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি একজন মননের কবিও বটে। দীর্ঘ ৯ বছর এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। রাজনৈতিক দল সমূহের দাবির মুখে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে তিনি ’৯০-এ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। সেই জেনারেল এরশাদ বর্তমান সময়ের রাজনীতিতেও এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ক্ষমতায় যাওয়ার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় পার্টি’ এদেশের রাজনৈতিক পরিম-লে শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল।
এরশাদ নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজো তিনি দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারত উপমহাদেশের একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে ‘বিরাষ্ট্রীকরণ’ ও ‘বিকেন্দ্রীকরণ’ রাজনীতি প্রবর্তন করে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিলেন। তাছাড়া তিনি শাসন-শোষণ ও বঞ্চনা থেকে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রাজনীতিকে দেশের গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন- ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’। তাঁর এই স্লোগান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। তিনি উপজেলা পরিষদ গঠন করায় তাঁর অনুসারীরা তাঁকে “পল্লীবন্ধু” খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। একজন সেনা নায়ক থেকে দেশের রাষ্ট্র প্রধান হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি আশাতীত উন্নয়ন সাধন করেন।
এরশাদ রাজনীতিতে আলোচনা ও সমালোচনার মুখপাত্র হিসেবে সবসময় সমধিকভাবে পরিচিত। এখনো তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য ব্যক্তিত্ব। আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার দৃঢ় অভিপ্রায় তাঁর।
আজ তিনি রাজনৈতিক সফরে সুনামগঞ্জ আসছেন। এরশাদের আগমনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আজ জাতীয় পার্টির জেলা সম্মেলন। দীর্ঘদিন পর এই সম্মেলনকে ঘিরে জল-জোছনার শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ক্ষমতায় থাকাকালে এবং তৎপরবর্তী সময়ে এরশাদ বহুবার হাওর অঞ্চলে এসেছেন। হাওর পাড়ের মাটি ও মানুষের সঙ্গে রয়েছে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক।
১৯৮৪ সালে এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ হিসেবে সুনামগঞ্জ মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়। এই শহরের আলোকিত ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত জননেতা মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরী ছিলেন পল্লীবন্ধুর রাজনৈতিক একান্ত সহচর। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে এ অঞ্চলের উন্নয়নে অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করেছেন। জীবনের অন্তিম সময়ে এই সাবেক রাষ্ট্রপতি আবারো আসলেন সুনামগঞ্জে। তিনি আজ রোববার সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। আজ তিনি এ অঞ্চলের গণমানুষের সঙ্গে তাঁর মনের অভিব্যক্তির কথা তুলে ধরবেন। আজ এরশাদের বক্তব্যের দিকে শুধু জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শুধু তাকিয়ে নয়, আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন।
বলতে দ্বিধা নেই, দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে এরশাদ ও তাঁর দল জাতীয় পার্টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের এসময়ে এসে এরশাদ আবারো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এক সমীক্ষায় দেখাগেছে, এরশাদ বিরাষ্ট্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের রাজনীতি প্রবর্তনের পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি থেকে সুনামগঞ্জ ৫টি সংসদীয় আসনে তাঁর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা একাধিক বার লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তন্মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) আসনে বদরুজ্জামান সোজা একবার, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) নাছির উদ্দিন চৌধুরী একবার, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দ.সুনামগঞ্জ) আসনে হুমায়ুন রশীদ ও ফারুক রশীদ, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে পর্যায়ক্রমে মেজর (অব.) ইকবাল হোসেন চৌধুরী, বেগম মমতাজ ইকবাল ও অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে পর্যায়ক্রমে আবুল হাসনাত আব্দুল হাই ও অ্যাড. আব্দুল মজিদ মাস্টার লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। এ থেকে বুঝা যায় সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই এরশাদ ও জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা রয়েছে।
জননেতা এরশাদের জন্ম ১৯৩০ সালে ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটায়। ভারতভাগের পর বাবা-মায়ের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। একাত্তরের ২৫ মার্চ ছুটিতে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন। ছুটি শেষে ফিরে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান দু’জনই তাঁকে সেনাবাহিনীতে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু এরশাদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। জিয়া রাষ্ট্রপতি হয়ে এরশাদকে সেনাপ্রধান করেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে আ ফ ম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্রান্তিলগ্নে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান ব্যর্থ হওয়ায় সঙ্গতঃ কারণেই ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে এরশাদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ক্ষমতায় থাকেন ৯ বছর। দীর্ঘ ৯ বছরে তিনি দেশে অভূতপূর্ব শান্তি-শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
১৯৯১ থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছে এরশাদ ছিলেন খুবই গুরুত্ব¡পূর্ণ।
এরশাদের শাসনামল ও রাজনৈতিক রোজনামচা :
১৯৮৪ সালে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রচলন করেন। উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে। তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেন। কিন্তু দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচন বর্জন করেন। এরশাদ তাঁর জাতীয়পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদকালের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর আগে মে-১৯৮৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয়পার্টি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। তবে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাস করে সেদিন জাতীয় সংসদ সংবিধান পুনর্বহাল করেন।
এরপর ১৯৯১ সালে জেনারেল এরশাদ গ্রেপ্তার হন এবং তাঁকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলে থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। বিএনপি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন।
২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সাথে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হন।
ক্ষমতায় থাকাকালীন সাফল্য :
থানা পর্যায়ে দেশব্যাপী উপজেলা স্থানীয় সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের জন্যই মুখ্যত এরশাদ আমল (১৯৮২-৯০) স্মরণীয় হয়ে আছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি কেন্দ্র হিসেবে থানাগুলোকে সৃষ্টি করে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানের জন্য ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো থানা পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার ইউনিট গঠন করা হয়। প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্থানীয় তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অনুকূলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার্যকরভাবে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রশাসন ও পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাই উপজেলাগুলোকে উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উন্নীত করার মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকরণের এই ধারণাকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে একটি আইনি কাঠামো দাঁড় করাতে ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পুনর্গঠন) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ধাপে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।
এ আইনের আওতায় উপজেলা পরিষদগুলোকে একটি কর্পোরেট সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালানো হয়, যাতে প্রতিনিধিত্বমূলক সদস্য ছাড়াও পেশাজীবী ও প্রায়োগিক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিল। চেয়ারম্যানরা ছিলেন পরিষদের প্রধান নির্বাহী এবং তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন। এর বাইরে উপজেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, উপজেলা কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতির সভাপতি, তিনজন মহিলা সদস্য, একজন মনোনীত সদস্য এবং সরকারি সদস্যবৃন্দ। উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানবৃন্দ ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনকালে জেলা পরিষদসমূহ সক্রিয় ও কার্যকর করার জন্যও এরশাদকে সাধুবাদ দেওয়া হয়।
এরশাদের আরেকটি বড় সাফল্য ছিল দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া, ভারতীয় উপমহাদেশের সাতটি রাষ্ট্র যার সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৭৯ সাল থেকে চার বছরের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষে ১৯৮৩ সালের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমন্ত্রণে এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ঢাকায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সার্ক গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ।
ক্ষমতায় থাকাকালে এরশাদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পের বিরাষ্ট্রীকরণ এবং দেশে ব্যক্তিখাতের বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কারেও এরশাদ সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়। মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার মাধ্যমে দেশে জেলার সংখ্যা ৬৪ করা হয়। এগুলোর অধীনে আবার ন্যস্ত করা হয় ৪৬০টি উপজেলাকে। কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যে এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল একটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিশন গঠন করেন, যার সুপারিশ অনুযায়ী জনপ্রশাসনকে নতুন করে সাজানো হয়।
একটি সমন্বিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকে প্রয়োগিক পার্থক্যের ভিত্তিতে এরশাদ সরকার ৩০টি ক্যাডারে বিভক্ত করে; সিভিল সার্ভিস ক্যাডারসমূহের গঠন ও দায়িত্ব¡ অনুযায়ী তাদের আনুষ্ঠানিক আকার দেওয়ার লক্ষ্যে ক্যাডার কম্পোজিশন ও নিয়োগ বিধি জারি করা হয়। পাশাপাশি এদের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য প্রণীত হয় সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি। নারীসমাজের আর্থ-সামাজিক স্বার্থ সমুন্নত রাখতে এরশাদ সরকার ১৯৮৪ সালে একটি পৃথক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর স্থাপন করে। এরশাদ আমলের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল পুলিশসহ বিভিন্ন সিভিল পদে মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যক সেনা কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ। তবে প্রশাসনের আকার কমাতে তিনি বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় দপ্তর বিলোপ করেন এবং অনেক দপ্তর একীভূত করেন। ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বেঞ্চ বসিয়ে এরশাদ উচ্চতর আদালত বিকেন্দ্রীকরণেরও প্রয়াস চালান, কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় পরে তা খারিজ হয়ে যায়।
এরশাদ সরকার দেশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমি সংস্কারেরও প্রয়াস চালান। এ লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে তার প্রতিবেদন পেশ করে এবং সরকার এই প্রতিবেদনের কয়েকটি সুপারিশ অনুমোদন করে। ১৯৮৩ সালের আগস্ট মাসে ভূমি সংস্কারের জন্য একটি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে আলোচনা ও প্রদত্ত পরামর্শের ভিত্তিতে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৮৪, ভূমি সংস্কার বিধি ১৯৮৪ এবং কৃষি শ্রম (ন্যূনতম) মজুরি অধ্যাদেশ ১৯৮৪ জারি করা হয়। ভূমি সংস্কার সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে ১৯৮৭ সালের মার্চে একটি ক্যাম্পেইন হাতে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী