,

Notice :

চারদিনের বৃষ্টিতে ৭শ হেক্টর আমনের ক্ষতি

বিশেষ প্রতিনিধি ::
গত চারদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ জেলার রোপা আমনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলার চার উপজেলার ৭শ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত। কৃষি বিভাগ বৃষ্টিপাত কমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবেনা বললেও কৃষকরা বলছেন তলিয়ে যাওয়া আমন থেকে কোন ফলন পাবেন না তারা। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতের মালিকরা আমন ধান লাগানোর সময় পাবেন। তাদের মতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিন পর্যন্ত আমন লাগানোর মওসুম।
গতকাল শুক্রবার ঢাকা, সিলেট থেকে কৃষি বিভাগের লোকজন আমনের ক্ষতি পরিদর্শন করতে সুনামগঞ্জে আসেন। তারা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিমজ্জিত ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।
কৃষকরা জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। ফলে চারদিনে বিভিন্ন স্থানে রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ১০-১৪ তারিখ পর্যন্ত যেসব রোপা আমন লাগানো হয়েছে তা নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
মওসুম চলে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরি বা চারা লাগানোর সময় হাতে নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে বীজতলা তৈরির মওসুম চলে গেলেও পর্যাপ্ত চারা মজুদ থাকায় নতুন করে রোপণ করতে সমস্যা হবেনা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭২ হাজার হেক্টর। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার এ পর্যন্ত প্রায় ৭শ হেক্টর রোপা আমন চারদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি না কমায় এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত এই ফসল। বিশেষ করে নতুন লাগানো রোপা আমন চারা সম্পূর্ণ ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
রোপা আমন তলিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস। অন্যদিকে আপৎকালীন দুর্যোগে কৃষকের এই ক্ষতি পোষিয়ে তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ও গৌরারং ইউনিয়নে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মোহনপুর ও জয়গর এলাকায় আমনের বেশ কিছু ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে।
লালপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার দুই কেয়ার আমন জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চারা লাগানোরও সুযোগ নেই। আমার মতো বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষকেরই এমন অবস্থা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বশির আহম্মদ সরকার বলেন, গত চারদিনের বৃষ্টিতে ৭শ হেক্টর জমির রোপা আমন তলিয়ে গেছে। এগুলো নষ্ট হবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত যেসব স্থানে জমি লাগানো হয়েছে তা নষ্ট হবার আশঙ্কা আছে। নতুন করে চারা লাগানোর সময় না থাকলেও পর্যাপ্ত চারা মজুদ থাকায় চলতি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত আমন লাগানোর মওসুম রয়েছে বলে জানান তিনি। বশির আহমদ আরো বলেন, শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত আমন জমি দেখতে ঢাকা ও সিলেটের খামারবাড়ির কর্মকর্তারা এসেছেন। তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী