,

Notice :
«» জেলা প্রশাসকের সাথে রিপোর্টার্স ইউনিটি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ «» সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে : জেলা প্রশাসক «» জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ «» কালনী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার «» স্বেচ্ছাসেবক লীগের আনন্দ মিছিল «» সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনে জরুরি সভা আজ «» দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে «» নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন ৯৪৯৮, চলছে যাচাই-বাছাই «» দ্বিমুখী ক্ষতি থেকে অভিভাবকদের রক্ষা করুন «» টাঙ্গুয়ার হাওর : নৌ মালিক-চালকদের কাছে জিম্মি পর্যটকরা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫১ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।
বৃহ¯পতিবার সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান। যদিও ন্যূনতম মজুরি ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে করার দাবি ছিল পোশাক শ্রমিক সংগঠনগুলোর।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত মজুরির মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা।
পুনর্নির্ধারিত অন্যান্য ধাপগুলোর মজুরির বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিবুল হক বলেন, ডিটেইলস কাজের এখনও বাকি আছে। পূর্ণাঙ্গ কাজ করে আমরা গেজেট করব। গ্রেডগুলো আগের মতোই থাকবে।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি নিয়ে এই মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না। শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে নির্ধারিত হলো এই মজুরি।
এর আগে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই মজুরি কার্যকর হয় একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। ৫ বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে।
পোশাক খাতে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করে, এদের উপর নির্ভরশীল কয়েক কোটি মানুষ জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন আর নেই, প্রধানমন্ত্রী একটা সেক্টরে ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিন বছরে দু’বার মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছেন। এটা গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকগুলো মিটিং করে বাজার বিশ্লেষণ করে সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটা প্রস্তাব যায়, মালিকদের পক্ষ থেকেও একটা প্রস্তাব আসে। অনেক মিটিং হওয়ার পরও তারা ঐকমত্যে আসতে পারেননি।
প্রথমে মালিকদের পক্ষ থেকে মজুরি ৬ হাজার টাকা, এরপর আরও কিছু বাড়াতে বাড়াতে ৭ হাজার টাকায় তারা আটকে যান এবং তারা বলেন, তারা এর বেশি পারবেন না। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১২ হাজার টাকার প্রস্তাব ছিল, তারা বলেছেন ১২ হাজার টাকার কমে হবে না। এই যখন অবস্থা, আমরা দেখলাম অক্টোবরের পর নির্বাচনকালীন সরকার হবে ও নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে, তখন এই কাজগুলো নীতিগতভাবে এই সরকার করতে পারবে না – বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যখন অচলাবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের ডেকে আলাপ করেন। আলাপ করে তিনি সিদ্ধান্ত দেন- আমাদের সব পক্ষকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। গার্মেন্টেসের ক্রেতারা এখন মূল্য কমিয়ে দিয়েছে।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি হবে ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ যে শ্রমিকরা আজতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবে তার মজুরি সব মিলিয়ে হবে ৮ হাজার টাকা। গ্রেড অনুযায়ী বেতন আরও বাড়বে। কোনো শ্রমিককে ৮ হাজার টাকার কম মজুরি দেয়ার সুযোগ কোনো মালিকের নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের জন্যই যুগোপযোগী ও যৌক্তিক মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির নেতা মুজিবুল হক বলেন, বোর্ডের সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর শেষ হওয়ার পর থেকেই এই মজুরি কার্যকর হবে। এ জন্য সময়মতো গেজেট প্রকাশ করা হবে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আশা করি কাক্সিক্ষত এই মজুরিতে আপনারা সন্তুষ্ট হবেন। আপনারা আপনাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে কাজ করে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী