,

Notice :
«» সোমবার শহীদ সিরাজ লেকে ‘ইত্যাদি’র দৃশ্যায়ন «» জামালগঞ্জের দৌলতা ব্রীজ মরণ ফাঁদ «» রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অ্যাড. রুমেন «» আয়কর মেলা সমাপ্ত : ৪ দিনে কর আদায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা «» ‘নীলাদ্রি’ নয় শহীদ সিরাজ লেক নামে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে প্রচারের জন্য স্মারকলিপি «» নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন : সহকারি রির্টানিং অফিসারের কাছে অভিযোগ «» মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসংরক্ষণ কর্মকে প্রবল ও বেগবান করুন «» কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা «» নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা : প্রার্থীরা ঢাকায়, উৎকণ্ঠা উত্তেজনায় কাটছে প্রতি মুহূর্ত «» প্রশাসনের উদ্যোগ : প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যানার পোস্টার অপসারণ

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ


স্টাফ রিপোর্টার ::

আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ৯ম মৃত্যুদিবস। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগে ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি সিলেটের নুরজাহান জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। শাহ আব্দুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দিরাই উপজেলার উজান ধল গ্রামে তাঁর স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। তিনি তাঁর গানে জীবন এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবে বলেন, ‘বাউল আব্দুল করিম বলে জীবন লীলা সাঙ্গ হলে, শুয়ে থাকব মায়ের কোলে তাপ-অনুতাপ ভুলে।’
শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবার এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ উপলক্ষে শাহ আব্দুল করিম পরিবারের পক্ষ থেকে ওইদিন জোহরের নামাজের পর মিলাদ মাহফিল, বিকেল ৩টায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। তাছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত করিম ভক্তদের উদ্যোগে করিম গীতির আসর চলবে।
ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ ইংরেজির ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহ আব্দুল করিম জন্মগ্রহণ করেন। শাহ আব্দুল করিমের জন্ম এক দিনমজুর পরিবারে। পিতা ইব্রাহিম আলী, মা নাইওরজান বিবি। জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই তাঁর বেড়ে উঠা। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তার জীবনে। তাই গ্রামের মোড়লের বাড়িতে গরু রাখালের চাকরি নিলেন তিনি। সারাদিন মাঠে গরু চড়াতেন আর গান গাইতেন। এ গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আব্দুল করিম।
১৯৬৭ সালে শেখ মুজিব পাকিস্তানের দুর্নীতিদমন মন্ত্রী থাকাবস্থায় সুনামগঞ্জে প্রথম সরকারি সফরে আসেন। কোনো এক কারণে সেদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জনসভা বর্জন করেছিলেন। তখন শাহ আব্দুল করিম জনসভাস্থলে এসে গান ধরেন তখন জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে।
১৯৬৯ সালে জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে করিমের গণসঙ্গীত শুনে আবেগে আল্পুত হয়ে শেখ মুজিব মাইকে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে করিম ভাইও বেঁচে থাকবেন, করিম ভাই যেখানে শেখ মুজিব সেখানে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের ভাটি অঞ্চল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে একমাত্র মধ্যমণি ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা যখন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাতে ভাটি অঞ্চলে আসেন তখন তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন শাহ আব্দুল করিম।
১৯৯৫ সালে শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভায় শাহ আব্দুল করিমকে বলেছিলেন, আমার বাবা যার গানের ভক্ত ছিলেন, আমি তাকে উপযুক্ত সম্মান দেব।
২০০১ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে এক কর্মীসভায় বলেছিলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় শাহ আব্দুল করিমের ভূমিকা অন্যতম।
শাহ আব্দুল করিম ১৯৫৪’র নির্বাচন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গণসঙ্গীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মাতৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন। তাঁর গণসঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ থান ভাসানী তাঁর পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন- বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণমানুষের শিল্পী হবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণসঙ্গীত শুনে ১৮৫ টাকা দেন। শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে।
শাহ আব্দুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সঙ্গীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গণসঙ্গীত, ১৯৮১ সালে কালনীর ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী