,

Notice :

দ্রুতবিচার আইনে মামলা : ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলসহ ৭ জনের সশ্রম কারাদ-

স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের বহুল আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও একাধিক মামলার আসামি সাহাব উদ্দিন সাহেলসহ ৭জনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সুনামগঞ্জ দ্রুত বিচার আইন আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই দ-াদেশ দেন। তবে প্রধান আসামি চেয়ারম্যান সাহেল পলাতক রয়েছেন। দ-াদেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ছাতক উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা চলছিল। সমন্বয় সভায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমেদ-এর সঙ্গে আক্রমণাত্মক কথা বলেন চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল। সভা শেষে বেরুনোর পথে উপজেলা চত্বরে আরেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাতক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল আহমদসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার উপর অতর্কিত চড়াও হন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেল ও তার লোকজন। প্রকাশ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাদেরকে মারধর করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসও ছিনতাই হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট দ্রুতবিচার আইনে সাহেলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা করেন বিল্লাল আহমদ। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। যুক্তি-তর্ক শেষে বুধবার দুপুরে আদালতের বিচারক সাহাব উদ্দিন সাহেল (৪১), কামারগাঁও গ্রামের আবুল হাসনাত (২৮), গহরপুর গ্রামের বাবুল মিয়া (৩০), কালিপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম (৩০), গহরপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩২), কালিপুর গ্রামের আবুল খয়ের (৪০) ও সাতগাঁও গ্রামের শাহিন মিয়া (৩৫)সহ সাতজনকে ২ বছরের সশ্রম কারাদ- দেন। এসময় অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল পলাতক ছিলেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার নাগ বলেন, যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাদেরকে দুই বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়েছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর ড. খায়রুল কবীর রুমেন বলেন, দ্রুতবিচার আইনের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলসহ ৭জনকে সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ জুলাই ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে ফেসবুক লাইভে এসে খিস্তিখেউড় করেন ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল। লাইভে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আপত্তিকর কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠিত হলে কমিটি তার বিরুদ্ধে ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার প্রমাণ পায়। পরে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ১৫ জুলাই সাহেলকে পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী