,

Notice :

সংকটের বৃত্ত ভাঙার চেষ্টায় বিএনপি

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সংকটকালীন সময় কাটছে না। বরং নিত্য নতুন সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দলটি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই বৃত্ত ভাঙতেই ভবিষ্যতের নকশা আঁকছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে আন্দোলনে থাকা দলটির সামনে এখন প্রধান নেত্রী কারান্তরীণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের সময় বেশি না থাকায় দলের সামনেও সময় খুব কম। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশে নেই। এই পরিস্থিতি দলের দায়িত্বভার শীর্ষ নেতাদের হাতে। একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে বিএনপি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
তবে দলের নেতারা বলছেন, সংকটে বিএনপি নেই, সংকটে রয়েছে পুরো দেশ। সেটি গণতন্ত্রের সংকট। গণতন্ত্র ফেরাতে না পারলে পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এজন্য গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য নিয়ে আলোচনা করছে। ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ঐক্য গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রাক্তন সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি সংকটে আছে কথাটি একদিক দিয়ে অমূলক নয়। আবার অন্য দিক দিয়ে বললে পুরো দেশই সংকটে আছে। সেটি গণতন্ত্রের সংকট। একটি সরকার দশ বছর ক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্র প্রায় ধ্বংস করে
দিয়েছে। জনগণের আস্থা হারিয়ে তারা ক্ষমতায় থাকছে এবং ভবিষ্যতেও জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। এই পরিস্থিতির কারণেই দেশে গণতন্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের যে চেতনা দিয়ে গেছেন, দলের নেতা-কর্মীরা তা ধারণ করছে। এখন কথা হচ্ছে সেই চেতনা ধারণ করে আমরা কতটা গণতন্ত্র ফেরাতে কাজ করতে পারব। তবে আশা করি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা ভালো ঐক্য হবে। গণতন্ত্রের বৃহৎ প্রশ্নে এটা হতেই হবে। সেটি ভালো ও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে সাফল্য আসবে এবং গণতন্ত্র প্রাণ ফিরে পাবে।
এদিকে আগামী ডিসেম্বরে একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলের সামনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার যেমন তাড়া থাকছে, তেমনি আছে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের চ্যালেঞ্জ। ছয় মাসেরও বেশি সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহিংস কর্মসূচি আসেনি। তবে মানববন্ধন, অনশন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মতো কর্মসূচিতে আছে দলটি। সীমিত কর্মসূচির মধ্যেও দলটি রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। সে অনুযায়ী কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি বড় ঐক্য গড়তে চাইছে বিএনপি। বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা ও দলের পরামর্শক হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন এই দায়িত্বে রয়েছেন। দলের আশা খুব শিগগিরই ঐক্য হবে।
জানতে চাইলে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সময়মতো বিএনপি ঐক্য নিয়ে প্রকাশ্যে আসবে। তবে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চললে আশা করা যায় ভালো কিছু হতে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে জানান এই নেতা।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানান গেছে, দলের এই পরিস্থিতিতে খুব সতর্কভাবে পা ফেলছে বিএনপি। লন্ডনে তারেক রহমানের নির্দেশ ছাড়া কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না নেতারা। এমনকি গণমাধ্যমে কথাও বলছেন খুব হিসাব-নিকাশ করে। আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি গেমপ্ল্যান কী হবে তা যেন কোনোভাবেই লিক না হয় সে বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। দীর্ঘসময় সংকটের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া বিএনপির এখনকার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বৃত্ত ভাঙার।
বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপির বুদ্ধিজীবী ও পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে হচ্ছে। এজন্য বিএনপিকে কর্মকৌশল ও পদক্ষেপ গ্রহণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। কেন্দ্র আর তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে শক্ত হয়ে জনগণকে দাবির সঙ্গে স¤পৃক্ত করতে পারলে ভালো ফল আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী