,

Notice :

মুখরিত বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন এখন নীরব

বিশেষ প্রতিনিধি ::
রোববার বাদে তাহিরপুর সীমান্তের বড়ছড়া শুল্কস্টেশন সপ্তাহে ছয়দিনই শ্রমিকের উপস্থিতিতে মুখর থাকতো। পাশের চারাগাঁও, বাগলি শুল্কস্টেশনেরও জমজমাট অবস্থা ছিল। ভারতীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) পরিবেশ বিপর্যয়জনিত অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মেঘালয় উচ্চ আদালতে মামলার পরই আমদানি অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০১৫ সন থেকে প্রায় স্থায়ীভাবেই কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। মাঝে-মধ্যে অল্প সময়ের জন্য আমদানির সুযোগ দিলেও মুখর হওয়ার আগেই আবার নীরব হয়ে যায়। ফলে এই স্টেশনগুলোর শ্রমিকদের মুখরতা কমে গেছে। তারাও অন্যান্য পেশায় চলে গেছেন।
জানা গেছে তিনটি স্টেশনে অন্তত ১৫-২০ হাজার শ্রমিক নানাভাবে কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রতিদিন এই স্টেশনগুলোতে প্রায় ১০ হাজার টন কয়লা আমদানি হতো। সরকার বছরে শত কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করতো। দেশ-বিদেশের প্রায় ৫ শতাধিক আমদানিকারক নিয়মিত কয়লা আমদানি করতেন। যার ফলে স্টেশনটি জমজমাট থাকতো। শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও স্টেশনকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। কিন্তু স্টেশনটিতে কয়লা আমদানি অনিয়মিত হওয়ার পর ব্যবসায়ী শ্রমিকসহ সুবিধাভোগীদের সকলেরই সমস্যা হচ্ছে। ব্যবসায়ীয়রাও অন্যদিকে ঝুঁকছেন। স্টেশনকে কেন্দ্র করে আবাসিক হোটেল খোলা হলেও গ্রাহক না পাওয়ায় আবাসিক হোটেলও বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কোলাহলহীন হয়ে ওঠে স্টেশনগুলো।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৯৫ সনে শুল্কস্টেশন চালু হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে স্টেশনগুলো। চাঙা হয়ে ওঠে পুরো জেলার অর্থনীতি। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমদানি জটিলতার কারণে শ্রমিক-ব্যবসায়ী সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ সময়ে অল্পদিনের জন্য চালু হলেও আমদানিকারকরাও আগের মতো আন্তরিক নন। এখন কিছু আমদানিকারক কয়লার বদলে চুনাপাথর আমদানি করেন বলে জানা গেছে।
স্টেশনের শ্রমিক আনফর আলী বলেন, স্টেশন বন্ধ থাকায় খুব সমস্যায় আছি আমরা। অনেকেই এখন যাদুকাটা নদীতে গিয়ে বালু-পাথর কুড়ায়। কিন্তু সেখানে রুজি কম। স্টেশনের শ্রমিকরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খয়ের বলেন, জমজমাট স্টেশনটি এখন নীরব। আন্তঃদেশীয় সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি। তিনি বলেন, গত ৩-৪ বছর ধরে মাঝে-মধ্যে কিছুদিনের জন্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময়ে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিতে নিতেই সময় চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী