,

Notice :
«» ধর্মপাশায় বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণকাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে «» ৩০ তারিখ সারাদিন নৌকা মার্কায় ভোট দিন : এমএ মান্নান «» মহাজোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন : রনজিত চৌধুরী «» বিশ্বম্ভরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান «» নৌকায় ভোট দিলে দেশে উন্নয়ন হয় : জয়া সেনগুপ্তা «» ছাতকে দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার «» ইতিহাসের তথ্যবিকৃতি কাম্য নয় «» মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃপ্ত শপথে বিজয় দিবস উদযাপিত «» জুবিলী ও সতীশ চন্দ্র স্কুলের কোচিংবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের চিঠি «» সুনামগঞ্জ-৪ আসনকে উন্নয়নে বদলে দেবো : পীর মিসবাহ

১৯৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত হয় না মাল্টিমিডিয়া ক্লাস

শামস শামীম ::
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবিষয়কে সহজ, শিখন-শিখানো প্রক্রিয়া অংশগ্রহণ মূলক ও আনন্দদায়ক করতে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠভীতি দূর করে মনোযোগী করতে সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘পিডিইপি-৩’ প্রকল্প থেকে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের উপযোগী হিসেবে তৈরি করেছে। সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রজেক্টর, ল্যাপটপ, মডেমসহ নানা যন্ত্র দিলেও ক্লাস চালানোর অন্যতম অনুষঙ্গ ল্যাপটপ থাকে প্রধান শিক্ষকদের জিম্মায়। বিদ্যালয়ের বদলে সেই ল্যাপটপ অনেক প্রধান শিক্ষকের বাসায় থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানও তারা প্রয়োগ করতে পারছেন না। অনেক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ প্রদান করা হলেও প্রধান শিক্ষকদের জিম্মায় থাকায় বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা কখনো চোখেই দেখেননি ল্যাপটপ। তারা তা প্রধান শিক্ষকের ‘ব্যক্তিগত সম্পদ’ হিসেবেই জানেন। এতে সরকারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদগণ। তাছাড়া বেশ কিছু বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া উপকরণ দেওয়া হলেও ওই বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় উপকরণগুলো কাজ আসছে না।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পিডিইপি-৩ প্রকল্পে ২০০৯ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মডেম, প্রজেক্টর, সাউন্ডবক্সসহ ক্লাস উপযোগী নানা যন্ত্র প্রদান করেছে। সুনামগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৪৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত সরকার ১৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নতমানের ল্যাপটপ প্রদান করেছে। অন্যান্য যন্ত্রগুলো বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত পড়ে থাকলেও ল্যাপটপ আর মডেম প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় থাকে বলে জানা গেছে। নিয়মানুযায়ী আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক কম্পিউটার ব্যবহার করার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকই ল্যাপটপ তাদের বাসায় রেখে দেন। প্রধান শিক্ষকের সন্তানরা সেই ল্যাপটপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ না থাকায় ক্লাস নিতে পারেননা প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন কম্পিউটার ব্যবহার না করায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসসহ প্রযুক্তিক প্রশিক্ষণ ভুলতে বসেছেন। এ নিয়ে কথা বললে প্রধান শিক্ষকরা আইসিটি শিক্ষকদের নানাভাবে হুমকি ধমকি দেন বলেও অভিযোগ আছে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ২০০৯ সালে ১টি, ২০১০ সালে ১টি, ২০১১ সালে ৮টি, ২০১২ সালে ২টি, ২০১৩ সালে ১৮টি, ২০১৪ সালে ১২টি, ২০১৫ সালে ৮১টি, ২০১৬ সালে ৫১টি এবং ২০১৭ সালে ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ প্রদান করে। মাল্টিমিডিয়ায় ডিজিটাল ক্লাস নেওয়ার জন্য ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছর থেকে শিক্ষকদের ১২দিন করে আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সুনামগঞ্জে ২৭৫জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এ পর্যন্ত ৩০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখনো চলমান আছে প্রশিক্ষণ। শিক্ষকদের কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে কিভাবে ক্লাস নিতে হবে প্রশিক্ষণে তা শিখানো হয়। পাঠ্যপুস্তকের ধারণাসমূহ আকর্ষণীয় ও বোধগম্য করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ছবি, চার্ট, ডায়াগ্রাম, অডিও, ভিডিওসহ মাল্টিমিডিয়া উপকরণসমূহ সংযোজন করে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি শিখিয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের উপযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকায় শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পান না।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জগন্নাথপুর উপজেলার আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক শিক্ষক বলেন, প্রশিক্ষণ পাবার পরই আমার বিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রধান শিক্ষকের জিম্মায়। তিনি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপটি আনেন না। তার সন্তানরা ল্যাপটপ চালিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। যে কারণে আমি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিতে পারিনা। সুযোগ না পাওয়ায় ব্যবহারই ভুলে যাচ্ছি। সব বিদ্যালয়েরই একই চিত্র জানিয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকায় স্কুলের সবাই জানেন এটা প্রধান শিক্ষকের সম্পদ। এ নিয়ে বেশি কথা বললে এসিআরে সমস্যা করতে পারেন এই ভয়ে আমরা মুখ বন্ধ করে থাকি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শত্রুমর্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও আইসটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহিত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়ায় অনেক প্রশিক্ষিত শিক্ষকই ভুলে যাচ্ছেন মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের কনটেন্ট তৈরি। নিয়মিত চর্চা না করলে এমন হবেই।
সুনামগঞ্জের সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসসহ প্রযুক্তি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কাজ করার জন্য সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ দিয়েছে। এর স্বত্বাধিকারী প্রধান শিক্ষক নন। এটা স্কুলের সম্পদ। স্কুলের প্রয়োজনে বিশেষ করে আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক কম্পিউটার ব্যবহার করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী