,

Notice :

জননেতা আয়ূব বখত জগলুল : স্মৃতির মণিকোঠায় তুমি অমর

ম ফ র ফোরকান
(পূর্ব প্রকাশের পর)
আয়ূব বখত জগলুল-এর অনেক শুভানুধ্যায়ীকে প্রায়ই জুট-ঝামেলার গহ্বরে ফেলে ‘সাইজ করা’র অপপ্রয়াস চালাতেন কথিত ‘জননন্দিত জনপ্রতিনিধি’। এ ক্ষেত্রে তার নীতিটি ছিল ‘সর্প হইয়া দংশন কর, ওঝা হইয়া ঝাড়’। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তিনি প্রায়ই তার বিশ্বস্ত লোকদের লেলিয়ে দিতেন। বাসা-বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে লাগিয়ে দেওয়া ছিল তার মোক্ষম অস্ত্র। এ অস্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে আশাতীত ফায়দা হাসিলও করেছেন তিনি।
শহরের বিভিন্ন মহল্লায় জগলুর বহু কর্মী শিকার হয়েছেন এমন হেনস্তার। সীমানা মাপামাপির মারপ্যাঁচে ডেকে আনা হতো পৌর বিচারপতির আদালতে। তারপর আসতো জায়গা ছাড়ার ফরমান। ফরমান অমান্য করলে যেতো পোষ্য বাহিনী। উদ্যোগ নিত তারা জোর করে দেয়াল তৈরির। এসব ঘৃণিত ঘটনায় জড়িয়ে দিয়ে জগলুর কর্মীবাহিনীকে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত রাখতেন ‘স্বচ্ছ চরিত্রের’ সেই জনপ্রতিনিধি। কর্মীদের জান-মালের হেফাজত করতে জগলুলকেও তাই সোচ্চার থাকতে হতো সব সময়। কারণ নিরীহ কর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন জগলুলই। কর্মীদের বাসা- বাড়ির সীমানা রক্ষায় অনেক জায়গায় জগলুলকে তাই উপস্থিত থাকতে হতো স্বশরীরে। এসব ঘটনা জানা সুনামগঞ্জ শহরবাসীর প্রায় সবার।
শুনলে সুপ্রশিক্ষিত যেকোন লৌহমানবের পক্ষেও না হেসে থাকা সম্ভব নয় যে, জামালগঞ্জ উপজেলার বোরো জমি নিয়ে দু’জনের বিরোধেও নাকগলাতে দ্বিধা করেননি কথিত জননন্দিত জনপ্রতিনিধি। এখানেও সরব ছিলেন ডিসি কামালের তথাকথিত ‘দুর্নীতি ও অনিয়ম’র বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার ছদ্দবেশে জাওয়ার হাওরে অবৈধ দখল বহাল রাখার অপকৌশল প্রয়োগকারী ব্যক্তিটি। তার এক চামচার পক্ষ নিয়ে পৌরসভার স্মারক ধরে তলব করেছিলেন তিনি হাছননগর নিবাসী এক বয়োঃবৃদ্ধকে। সেই তলবে নিরীহ বয়োঃবৃদ্ধকে হাজিরা দিতে হয় মহামতির বিচারালয়ে। ভেবে দেখুন, মগের মুল্লুক আর কাকে বলে? আমরা পৌরসভার স্মারক নম্বর উল্লেখ করে সাপ্তাহিক স্বজনে হাস্যকর এ নোটিশ ও বিচার আয়োজনের সংবাদও প্রকাশ করেছিলাম সে সময়ে।
শুধু তাই নয়, সাবেক চেয়ারম্যানের বিরাগভাজন হয়ে জন্মের শিক্ষা পেয়ে গেছেন তাঁর আবাল্য ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাহিরুল ইসলাম। পৌরসভার সুপরিকল্পনায় জাহিরুল ভাইয়ের বাড়িটিকে পরিণত করা হয়েছিল বদ্ধ জলাশয়ে। বিরোধ দেখা দেওয়ার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় যুগ সময়ের মধ্যে জাহিরুল ভাইয়ের পক্ষে জুতা পায়ে দিয়ে তো দূরে থাক, কোনদিন শুকনো কাপড় পরে বাড়িতে আসা-যাওয়া করা ভাগ্যে জুটেনি তাঁর। একবুক ব্যথা নিয়ে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন কিন্তু বাড়িটিকে জলাবদ্ধতা মুক্ত দেখে যেতে পারেননি।
এককালের জাসদ-বাসদ নেতা বিনোদ দা ছিলেন ‘কথিত জননন্দিত ব্যক্তি’র আরেক প্রাণপ্রিয় বন্ধু। বিনোদ দা নতুন পাড়ায় বাড়ি বানানোতে হাত দেন পৌরসভার সব আনুষ্ঠানিকতা স¤পন্ন করে। ওই ব্যক্তি মেনে নিতে পারেন নি বিনোদ বাবুর ভাগ্যের উন্নয়ন। ফলশ্রুতিতে প্রথমে পাঠান তিনি মৌখিকভাবে নিষেধাজ্ঞা। বিনোদ বাবু সে নিষেধে আমল না দেওয়ায় একদিন পৌরসভার কর্মচারীরা স্বশরীরে গিয়ে জব্দ করে নিয়ে আসে মিস্ত্রিদের সব সরঞ্জাম।
নির্যাতনে পিষ্ঠ হয়েছিলেন আরো একজন। তাঁর নাম কবি আশরাফ। কথিত জননন্দিত ব্যক্তির ছোটবেলার বন্ধু। তাঁর বাড়ির সীমানা দেয়ালটি ভেঙে দিয়ে বন্ধুত্বের ষোলকলা পূর্ণ করা হয়। এসব কাহিনী লিখে লেখার কলেবর আরো বহু গুণ বাড়ানো সম্ভব।
এমন একটি ঘটনায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল এক সময় আমাকেও। ঘটনাটা শুনুন তাহলে।
আমার এক প্রতিবেশী। তাদের ভূমির এক বিরাট অংশ ঢুকে গেছে আমাদের সীমানার ভেতর-এ দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে তারা। বার কয়েক মাপজোকও হয়েছে। সার্ভেয়ারও ছিল তাদেরই বিশ্বস্ত লোক- পৌরসভায় কর্মরত। একচুল ব্যবধানও আবিষ্কার করতে পারেনি বারবার মাপজোক সত্বেও। তৎকালীন চেয়ারম্যানের ইন্ধনে শেষ পর্যন্ত একদল সন্ত্রাসী এসে হাজির হয় আমাদের বাসায়। খোঁজ নেয় আমার। আমি তখন খাবার টেবিলে। নইলে তাদের ডাকে তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়ে আমাকে হয়তো শয্যা নিতে হতো। সন্ত্রাসীরা আমার অপেক্ষায় ড্রয়িং রুমে। তাদের ফিসফিসানী ও সন্দেহজনক আচরণ নজরে পড়ে আমার ছোট ভাই, সে সময়কার আলোড়ন সৃষ্টিকারী পত্রিকা দৈনিক জনকণ্ঠের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি মহিবুর রহমান চৌধুরী ফারুকের। সে পুরো ব্যাপারটি নজরে আনে আমার এক বড় বোনের। বড় বোন যুবকদের আচরণ তাৎক্ষণিক টেলিফোনে অবগত করেন সাপ্তাহিক স্বজন’র স¤পাদক অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরীকে। তাঁর নেওয়া দ্রুত পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমার বাসার সামনে এসে পৌঁছে যায় বেশ কয়েকজন পুলিশ। সন্ত্রাসীদের আর গতি কি? বোরো জমিনের আল ধরে দে ছুট! পড়িমরি দৌড়ে পালাতে দেখা যায় তাদের। বাইরে বেরিয়ে দেখি, আমাদের প্রতিবেশী অর্থাৎ যাদের সঙ্গে সীমানা নিয়ে বিরোধ আমাদের, সেই বাসার সামনে অনেক লোকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন তারুণ্যর প্রতীকের ছাপ্পর মারা সেই ব্যক্তি। হতাশার ছাপ ¯পষ্ট তার চোখে-মুখে। হয়তো পুলিশের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছিলেন তিনি তখন মনে মনে।
ষোলঘর এলাকার একটি পাড়ার প্রায় সবাই জগলুল সমর্থক। এটা খুব ভালোভাবেই জানতেন কথিত জননন্দিত জনপ্রতিনিধি। তাদের শায়েস্তা করতে তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের উপর স্ল্যাব দেয়া হলেও ওই পাড়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদে আর স্ল্যাব দেয়া হয়নি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ড্রেন ময়লায় পরিপূর্ণ হয়ে মশা-মাছির নিরাপদ আবাসস্থল, আর ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সইতে হচ্ছে ওই পাড়ার বাসিন্দাদের।
এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটাতেন সুনামগঞ্জের এক কালের মহাক্ষমতাধর জননন্দিত জনপ্রতিনিধি। উদ্দেশ্য ছিল জগলুর কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি।
২০১১ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র জগলুকে প্রায় ৬ মাস অনেকটা বিচলিত লেগেছিল আমার কাছে। চাটার দল চেটেপুটে নিঃশেষ করে দিয়ে গিয়েছিল পৌর তহবিল। উপরন্তু তারা রেখে গিয়েছিল কোটি কোটি টাকা ঋণ। হাইকোর্টের রায় মোতাবেক তিন শিক্ষিকাকে চাকরিতে পুনর্বহাল, তাঁদের পাওনা পরিশোধ, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন প্রভৃতি ছিল প্রধান প্রধান সমস্যাগুলোর অন্যতম। এরমধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা ছিল আদর্শ শিশু শিক্ষা নিকেতনের তিন শিক্ষিকাকে চাকরিতে পুনর্বহাল। জটিল আলোচনাটি হোঁচট খাচ্ছিল বারবার। কথায় আছে না, সমস্যা বাঁধাতে পারে যে কেউ কিন্তু মিটাতে হিমশিম খেতে হয় অনেক লোকের। অবশ্য এর মূল ভাবার্থ ঠিক রেখে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে। সেই প্রবাদের ভাষাটি একটু রূঢ়, তাই ব্যবহার না করে এড়িয়ে গেলাম।
শিক্ষিকাদের পুনর্বহাল জটিলতা নিরসনে বেশ কয়েকবারই আলোচনায় বসতে হয়েছিল। এরমধ্যে জগলুর অনুরোধে দু’বার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জরুরিভিত্তিতে আমাকে আসতে হয়েছিল সুনামগঞ্জ।
মনে পড়ে, পারিবারিক এক প্রয়োজনে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গেছি, মেয়র জগলুর ফোন পেয়ে জরুরি কাজটিতে হাত না দিয়েই বিকেল ৩টার শ্যামলী পরিবহনে সুনামগঞ্জের গাড়িতে চেপে বসতে হয়েছিল আমাকে। ঐ কাজটির জন্য আবার গেলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পরদিন আবার ফোন। আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুনে কিছুটা যেন অসন্তুষ্ট মেয়র। বললেন, সুনামগঞ্জ আসার ব্যবস্থা করো এখনই। হেসে জগলু বললেন, ফোন করলেই শুনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া! কী ব্যাপার?
মুখ খুলে তো বলতে পারি না, সে তো কথিত জননন্দিত ব্যক্তিটির কারণে। ভূমির লিজ বাতিল করে দেওয়ায় সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইসলামিয়া লাইব্রেরিটি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ অর্থ কষ্টে আছি আমরা। জীবন বাঁচাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু জায়গা-জমি বিক্রির লক্ষ্যে বারবার ছুটতে হচ্ছে আমাকে। পাঠকের নিশ্চয়ই স্মরণ আছে, আগের এক লেখায় উল্লেখ করেছি : ওই জনপ্রতিনিধি আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন, আমার হাতে নাকি ভিক্ষার থাল তুলিয়ে ছাড়বেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন অনেকটা। লাইব্রেরির লিজ বাতিলের কারণে একদিকে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলো, অন্যদিকে মূল্যবান ভূমি হল হাতছাড়া। তার শোকে আমার সব বড়ভাই সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরীর (ইউনুস মিয়া) মৃত্যু ঘটলো হার্ট অ্যাটাকে। পাঠক বুঝুন, কেমন বেসামাল অবস্থায় পড়ে হন্যে হয়ে ঘুরছিলাম। বন্ধু জগলুকে একবারও মুখ খুলে আমার অবস্থাটা জানাতে পারিনি কোনদিন। তাই হয়তো রসিকতার সুরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বারবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ব্যাপারটা কী? মৃত্যুর আগে সে প্রশ্নটির উত্তর জেনে যেতে পারেননি তিনি। কষ্টের কথা কেউ কি সহজে কাউকে বলে? হয়তো বলতে পারে না সবাই। আমার বেলায়ও ঘটেছিল তাই।
যাক সে কথা। জগলুর মৃত্যুর মাস ছয়েক আগে কথা হচ্ছিলো সুনামগঞ্জের উন্নয়নের কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে। জানালেন তাঁর কিছু অভিজ্ঞতা। বললেন, উপরের লেভেলে সুনামগঞ্জের যে কজন উঁচু পদধারী চাকরিজীবী আছেন, তাঁদের প্রায় সবাই সুনামগঞ্জের উন্নয়ন বিষয়ে উদাসীন। ঘুরতে ঘুরতে আমি হয়রান। স্মরণ রাখার মত সহযোগিতা পেয়েছি কেবল দু’জনের কাছ থেকে। একজন হলেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। অন্যজন গোলাম মর্তুজা। তাঁদের উদার, আন্তরিক ও অকৃপণ সহযোগিতার জন্য উপর্যুপরি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের একটি মনোরম চিঠি পড়ে শোনান। এ চিঠির ছত্রে-ছত্রেও আছে সুনামগঞ্জের উন্নয়নের অগ্রগণ্যতার তাগিদ।
জগলুর দৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের উন্নয়নে আরেক পাগলপ্রায় লোক হলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। পৌরসভার নতুন পানি সরবরাহ প্রকল্পে সুনামগঞ্জের এককালের ডিসি জাফর সিদ্দিকের অবদানের কথা স্মরণ করেন মেয়র জগলু পরম কৃতজ্ঞচিত্তে। এ প্রকল্পটিকে ঘিরে চারদিকে ছিল শুধু বাঁধা আর বাঁধা। সব বাঁধা অতিক্রম করে প্রকল্পটি যে আলোর মুখ দেখতে পেরেছে তা সম্ভব হয়েছিল কেবল সুনামগঞ্জের সাবেক জনপ্রিয় ডিসি জাফর সিদ্দিকের বদান্যতায়। জগলু আরো জানিয়েছিলেন, সুনামগঞ্জের আরেক ডিসি ইয়ামিন চৌধুরী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কিচেন মার্কেট নির্মাণকালে। তাঁর সহযোগিতা না পেলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নজরকাড়া কিচেন মার্কেটের বাস্তবায়ন ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
জাতীয় রাজনীতির ঘোলাটে পরিস্থিতি বিষয়ে তাঁর অভিমত, নির্বাচনে সেনা নিয়োগ অনুচিত। তিনি ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তাঁর অভিমত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য রাজনীতিকরা যদি সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়, তাতে কি প্রমাণিত হয়? প্রমাণিত হয় রাজনীতিবিদরা অসৎ, অযোগ্য। যোগ্য হলো সেনাবাহিনী। আর তাই যদি হয় তবে আমাদের দেশ আর পাকিস্তান একই কাতারের দেশে পরিণত হবে। আমাদের আজীবনের সাধনা গণতন্ত্র সেনা বুটের তলায় পিষ্ঠ হতে থাকবে।
জগলু আজ নেই। কিন্তু তার কথাগুলো স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠে প্রায়ই। ভাবি শুধু সুনামগঞ্জ নিয়ে ভাবতেন না তিনি, ভাবতেন দেশের মঙ্গল -অমঙ্গল নিয়েও। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী