,

Notice :

দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে

বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি পরিচিত শব্দ। এই পরিচিতির বহর নিয়ে ভাবনা-চিন্তার কোনও দরকার নেই, চোখ বুজে বলে দেওয়া যায়, এ দেশে, দুর্নীতির পরিচিতি সকল ব্যাপকতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়ে বসে আছে। সেটা বুঝা যাবে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা চুরির তথ্য ফাঁস হওয়ার খবর থেকে। কর্তৃপক্ষ কয়লার এই ঘাটতিকে ১৩ বছরের উৎপাদিত কয়লার টেকনিক্যাল লস (প্রাযুক্তিক ক্ষতি) হিসেবে গণ্য করতে চাইছেন যদিও হিসাবের নথিপত্রে তার প্রমাণ লাপাত্তা। আর কীছু না বলা গেলেও এটিকে একটি আমলাতান্ত্রিক কেরদারিসমা বলে পরিগণিত করলে বোধ করি খুব বেশি একটা দোষণীয় কাজ হয়ে যাবে বলে মনে হয় না। এইরূপ কেরদারিসমা প্রশাসনিক কর্মকা-ের ভেতরে প্রায়ই হচ্ছে, কেউ তার প্রতিকার করবেন কী কোনও হিসাবই রাখছেন না।
রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালকদের জানার বাইরে কীছু কীছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কর্মকা- এভাবেই চলছে এবং মাঝে মাঝেই উদঘাটিত হচ্ছে কেলেঙ্কারির ঘটনা। সরকার, সংসদ, সাধারণ মানুষ অবাক হচ্ছেন, হতবাক হচ্ছেন। তাঁরা ভাবছেন এইসব কা- কী করে এতো দিন সংঘটিত হলো? কেউ দেখলো না কেউ বুঝলো না। নাকি দেখেও না দেখার ভান করে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবেই এইসব করে এতো দিন সংশ্লিষ্ট লোকেরা প্রশাসনের দায়িত্বপূর্ণ কাজে বহাল থেকে বেতন ভোগ করছেন, কার্যত কোনও কাজই না করে।
গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদ শিরোনাম ছিল, “সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ : দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাঘবেড় পশুর হাটে রাজস্ব আদায় শুরু”। এই শিরোনামটি প্রমাণ করে বাঘবেড় হাটটি গত ১৮ বছর যাবৎ প্রকৃতপ্রস্তাবে পশুর হাট থেকে রাজস্ব আদায়ে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তালিকাবহির্ভূত ছিল। তানা হলে এ হাটটি থেকে এতোদিন রাজস্ব আদায়ের কোনও ব্যবস্থা করা হলো না কেন? নাকি সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের আগের বছরগুলো হাটটি অদৃশ্য অবস্থায় বিরাজিত ছিল। সংশ্লিষ্টরা হাটটিকে বাস্তবে দেখতেই পাননি। অথবা এর একটাই অর্থ হতে পারে, এতোদিন বাঘবেড় হাটটিকে প্রশাসনের কাজের আওতার বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছিল, এই এমনি এমনি আর কি। বড়পুকুরিয়া কয়লা প্রকল্পের প্রশাসন ১৩ বছর আর বাঘবেড় হাট থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রশাসন, উভয় প্রশাসন একটি বিষয়ে একই রকমের আচরণে অভ্যস্ত, তাঁরা কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে নিজেদের কাছে অজ্ঞাত করে রেখে দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে কোনও কসুর করছেন না।
এমন চলতে পারে না। সেটা অবহেলা কিংবা গাফিলতি যা-ই হোক কেন। এইরকম কোনও কাজকে বছরের পর বছর, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়ই হোক, দাপ্তরিক কাজের বহির্ভূত রেখে দেওয়া কোনও যুক্তিতেই সঙ্গত নয়। এইসব গাফিলতি রাষ্ট্রীয় কাজে অবহেলার নামান্তর। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। আমরা মনে করি, সকল সেক্টরে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে দেশের স্বার্থে। এ জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা না করতে পারলে, স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রকে এর ক্ষতির ধকল সইতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী