,

Notice :
«» জেলা প্রশাসকের সাথে রিপোর্টার্স ইউনিটি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ «» সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে : জেলা প্রশাসক «» জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ «» কালনী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার «» স্বেচ্ছাসেবক লীগের আনন্দ মিছিল «» সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনে জরুরি সভা আজ «» দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে «» নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন ৯৪৯৮, চলছে যাচাই-বাছাই «» দ্বিমুখী ক্ষতি থেকে অভিভাবকদের রক্ষা করুন «» টাঙ্গুয়ার হাওর : নৌ মালিক-চালকদের কাছে জিম্মি পর্যটকরা

বিশ্বকাপের বাঁশি – ২৬ : বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের সাতকাহন ৪

মো. শাহাদত হোসেন::
১৯৮৬ মেক্সিকো (১৩শ বিশ্বকাপ) :
ভাগ্য মেক্সিকোকে প্রথমবারের মত দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ করে দিয়েছে। আসলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছিল কলম্বিয়া। ১৯৭৪ সালে ফিফার সভায় কলম্বিয়াকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সে অনুযায়ীই প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ৪ বছর আগে, ১৯৮২ সালে কলম্বিয়া জানিয়ে দেয় যে, তাদের পক্ষে বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হবে না। ফিফার জন্যে এটি ছিল বড় ধাক্কা।
মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্যে এগিয়ে আসে। কিন্তু যেহেতু সময় কম এবং মেক্সিকোর এর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি আছে, তাই ফিফা স্বাগতিক দেশ হিসেবে মেক্সিকোকেই মনোনীত করে।
এ বিশ্বকাপেও ২৪টি দল খেলে, তবে ফরম্যাটটা গতবারের চেয়ে একটু পরিবর্তিত হয়ে। প্রথমে ২৪টি দল ৬টি গ্রুপে বিভক্ত (প্রতি গ্রুপে ৪টি দেশ) হয়ে খেলে। প্রতি গ্রুপ হতে সেরা দু’দল (১২টি দল) এবং ৬টি গ্রুপ হতে আরো ৪টি দল অর্থাৎ মোট ১৬টি দল খেলে দ্বিতীয় রাউন্ড। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে শুরু হয় বর্তমানের মতো নক-আউট পর্ব। জিত, না হয় বাড়ি যাও। তারপর বিজয়ী ৮ দল কোয়ার্টার ফাইনাল, বিজয়ী ৪ দল সেমিফাইনাল ও বিজয়ী ২ দল ফাইনাল। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকে বিশ্বকাপ আরো বেশি উত্তেজনার, আরো বেশি রোমাঞ্চের, আরো বেশি আনন্দের হয়ে উঠে।
স্বাগতিক মেক্সিকো বেলজিয়াম ও ইরাককে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে আসে। দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়ে দেয় বুলগেরিয়াকে। স্বাগতিক হিসেবে আবারো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে মেক্সিকো। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিশ্বকাপের মিশন শেষ করে। শেষ না করে উপায়ও ছিল না। এ বিশ্বকাপটা যে ম্যারাডোনার, কাপটা যে আর্জেন্টিনার। তাই এখানে আর কারো আসার সুযোগ ছিল না।
প্রকৃত অর্থে বিগত বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ সবচেয়ে আলোচিত বিশ্বকাপ। আলোচিত ফুটবল নায়ক ম্যারোডোনার আবির্ভাবের জন্যে, হ্যান্ড অফ গড গোলের জন্যে, শতাব্দীর সেরা গোলের জন্যে।
গত বিশ্বকাপে অসফল ম্যারোডোনার আর্জেন্টিনা এবার গ্রুপ সেরা হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ডের। কিন্তু খেলা শুরুর তিনদিন আগে থেকেই এ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা চলতে থাকে। কেননা, চার বছর আগে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। সে যুদ্ধের রেশ চলতে থাকে ম্যাচকে ঘিরেও। টান টান উত্তেজনায় ২২ জুন মেক্সিকো শহরের এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ১,১৪,৫৮০ জন দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচ গড়ায় মাঠে। খেলার প্রথমার্ধ থাকে গোলশূন্য।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা চরমে উঠে। ৫১ মিনিটে প্রথম গোল করেন ম্যারাডোনা, যে গোল ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল নামে খ্যাত। এ গোল নিয়ে এখনো আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত আছে। গোলের পর উত্তেজনা আরো চরমে উঠে। রেফারি হ্যান্ডবল না দেয়ায় খেলোয়াড় ও ইংরেজ দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করে। কিন্তু ৪ মিনিট যেতে না যেতেই সব উত্তেজনায় পানি ঢেলে দেন ফুটবল কিংবদন্তি। নিজের অর্ধে বল পেয়ে মাত্র ১১ টাচে ইংল্যান্ডের পাঁচ খেলোয়াড়কে অতিক্রম করে গোলরক্ষককে (৬ষ্ঠ খেলোয়াড়) বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান। ইংরেজ দর্শকরাও বুঝতে পারে, ম্যারাডোনা আসলেই সেরা খেলোয়াড়। তাঁর এ গোলটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে ফিফা স্বীকৃতি দিয়েছে।
সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে এবং ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ ইতালি (১৪শ বিশ্বকাপ) :
বিশ্বকাপটা ইউরোপের কোন একটা দেশে হতে হবে। তাই ইউরোপের অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, জার্মানি, যুগোস্লাভিয়া ও রাশিয়া আগ্রহ প্রকাশ করে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশ তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ইতালি ও রাশিয়ার মধ্যে। ১৯৮৪ সালে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ১১-৫ ভোটে ইতালি স্বাগতিক দেশ হিসেবে মনোনীত হয়। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ইতালি দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায়।
ইতালির ১১টি শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ৫২টি ম্যাচ। প্রথম রাউন্ডে স্বাগতিক ইতালি তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উরুগুয়েকে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। কিন্তু সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায়। স্বাগতিক ইতালিকে তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
এ বিশ্বকাপে আফ্রিকার ক্যামেরুন দারুণ চমক দেখায়। চমকের নায়ক ৩৮ বছর বয়সী রজার মিলা। প্রথম রাউন্ডে ক্যামেরুন রুমানিয়া ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টাল ফাইনাল নিশ্চিত করে। কিন্তু অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যন্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায়। ইংল্যান্ডের দুটি গোল আসে পেনাল্টি থেকে, যার একটি পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক আছে। তখন বিশ্বকাপে আফ্রিকান কোন দেশের এটাই ছিল সেরা সাফল্য। ক্যামেরুনের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফিফা পরের বিশ্বকাপ থেকে আফ্রিকান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। রজার মিলা হয়ে যায় বিশ্বকাপে বুড়োদের নায়ক। পরের বিশ্বকাপে গোল করে এখন পর্যন্ত তিনি সবচেয়ে বেশি বয়সী (৪২ বছর ৩৯ দিন) গোলদাতা।
ইনজুরির কারণে ম্যারাডোনা এ বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। তাছাড়া তাঁকে ৫০ বার ফাউল করা হয়েছিল, যেটি এক টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তবে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠে এবং জার্মানির কাছে হেরে যায়। লোথার ম্যাথাউসরা জিতে নেয় তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী