,

Notice :

আহ্লান ওয়া সাহ্লান শাহ্রে রমাদান

মাওলানা কাজী মো. শাহেদ আলী এম.এম. ::
পবিত্র রমজান শরিফের মাস আগত। তাই ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসকে জানাই আহ্লান ওয়া সাহ্লান, মারহাবা মারহাবা ইয়া শাহরে রমাদান।
সপ্তাহের দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইয়াওমুল জুম্মাহ শুক্রবার দিন। মাসের মধ্যে শাহরে রমাদান অর্থাৎ পবিত্র রমজান শরিফের মাস। পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত ও বরকত, শান ও মান সম্পর্কে বহু দলিলসমূহ পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরিফে বর্ণিত রয়েছে। তা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
পবিত্র কোরআন শরিফে ছুরায়ে বাকারার ১৮৩নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন অর্থ:- হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর (রমজানের) রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন রোজা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী পরহেজগার হতে পার।
জলিলুল কদর ছাহাবা হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন যখন পবিত্র রমজান মাসের প্রথম রাত আসে তখন মানুষের পরম শত্রু শয়তান ও অবাধ্য জ্বিন সকলকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, উহার কোন দরজাই খোলা হয় না এবং বেহেস্তের দরজাসমূহ খোলা হয়, উহার কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। পবিত্র রমজান মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন- হে আলোর অন্বেষণকারী অগ্রসর হও, হে মন্দের অন্বেষণকারী থেমে যাও।
মহান আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোজখ হতে মুক্তি দেন, আর এটা প্রত্যেক রাত্রিতেই হতে থাকে। (তিরমিজি)।
পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা বুজুর্গী অনেক বেশি। হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহ তায়ালার নিকট মোনাজাত করে জানতে চেয়েছিলেন উম্মতে মোহাম্মদীকে তুমি কোন মাস প্রদান করবেন? আদেশ হলো আমি উহাদিগকে রমজান মাস দান করেছি। হযরত মুসা (আঃ) আরজ করলেন- হে আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের ফজিলত কি? আদেশ হলো- পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত সমস্ত মাসের উপর এইরূপ যেরূপ সমস্ত বান্দার উপর আমার ফজিলত। যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাসের রোজা রাখিবে সমস্ত ফিরিস্তা, পশু পাখি কীট পতঙ্গ ও যত প্রাণী পৃথিবীর উপর আছে এমনকি বৃক্ষলতা ও তার জন্য দোয়া করিবে। হুজুরে পাক (সাঃ) এরশাদ করেন অর্থ:- রোজা ছবরের অর্ধেক আর ছবর ঈমানের অর্ধেক।
মোনাকেবে মোহাম্মদীর মধ্যে আছে পবিত্র রমজান মাসে ১৫টি রহমত নাজিল হয়।
১। রিজিক প্রশস্ত হয়। ২। ধন-জন বৃদ্ধি হয়। ৩। যাহা কিছু এই মাসের মধ্যে খাওয়া যায়, তা আল্লাহর এবাদতের মধ্যে গণ্য হয়। ৪। ইবাদত ও নেক কাজ ইত্যাদি দ্বিগুণ বা ৭০ গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। ৫। আসমান জমিনের সমস্ত ফিরিস্তাগণ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। ৬। সমস্ত শয়তান বন্দী হয়। ৭। রহমতের দরজা অতি প্রশস্ত হয়। ৮। বেহেস্তের দরজা খুলে দেওয়া ও দোজখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। ৯। রমজানের প্রত্যেক রাতে সাত লক্ষ গোনাহগারকে জাহান্নাম হতে মুক্তি করে দেয়া হয়। ১০। রমজানের প্রত্যেক শুক্রবারের রাত্রে এই পরিমাণ গোনাহগার আজাদ হয় যে পরিমাণ সাত দিনে আজাদ হয়। ১১। রমজানের শেষ রাত্রে সমস্ত মানুষের সমূহ গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। ১২। প্রত্যেক মুমিন রোজাদারের জন্য বেহেশত সজ্জিত করা হয়। ১৩। রোজাদারগণের দোয়া কবুল হয়। ১৪। রোজাদারদের শরীর সমস্ত গোনাহ হতে পবিত্র হয়। ১৫। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভ হয়।
পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নিকট আমাদের প্রার্থনা এই, সমস্ত মোমিন মুসলমানদেরকে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করে দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল হাসিল করতে পারি সেই তওফিক আমাদের দান করুন। আমিন ছুম্মা আমিন।
[লেখক :কাজী মো. শাহেদ আলী, অবসরপ্রাপ্ত সুপার (স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত)]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী