,

Notice :

শ্রমিকের বদলে মেশিনে মাটি কেটে বরাদ্দ লোপাটের চেষ্টা

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টলামারা খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে হতদরিদ্র, দুঃস্থ, স্বামী পরিত্যক্তা নারীসহ হতদরিদ্র পুরুষদের নিয়ে গঠিত এলসিএস (লেভার কন্ট্রাকটিং সোসাইটি) কর্তৃক খাল খননের নির্দেশনা থাকলেও এক্সেভেটর মেশিনে কাটা হয়েছে মাটি। ফলে শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে মেশিনে মাটি কেটে শ্রমিক দেখিয়ে বিল তোলা হলে বরাদ্দ লোপাট করবে একটি সিন্ডিকেট।
জানা গেছে প্রকল্পে শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটার মাটি ১৩৬ টাকা মূল্যে কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাদেরকে কাজে না লাগিয়ে এক্সেভেটর মেশিন এনে মাটি কেটে এখন ৭২ জন শ্রমিকের নামে মাস্টার রোল করে বিল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ্য এক্সেভেটর মেশিনে প্রতি ঘনমিটার মাটির মূল্য ধরা ছিল ১১৮ টাকা। ১ ফুট গভীর ও ১০ ফুট প্রস্থে মাটি খনন করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ৪-৫ ফুট প্রস্থে মাটি কেটে একদম তীরেই ফেলা হয়েছে। ফলে আবারও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাছাড়া চৈত্র মাসে নিদানের কালে শ্রমিকরা বেকার থাকার পরও তাদেরকে কাজে না লাগিয়ে মেশিনে মাটি কাটানোয় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পে (এইচএফএমএলআইপি) লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের টলামারা খালের (চেইন ৩৫০-১৩৫০মিটার) পর্যন্ত খননের জন্য জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা) প্রায় ১৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮২৬ টাকা বরাদ্দ দেয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলসিএস কমিটির ৭২ জন শ্রমিকদের দিয়ে খাল খনন করার কথা ছিল। গত ১৮ এপ্রিল এই প্রতিবেদক বাস্তবে ওই এলাকায় গিয়ে দেখেন শ্রমিকের বদলে একটি এক্সেভেটর মেশিনে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটানোয় গভীরতা ও প্রস্থ মানা হচ্ছেনা। শানুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি মেশিনের চালককে মাটি কাটার নির্দেশনা দিতে দেখা যায়। এসময় সমিতির সদস্যরা অনিয়মের অভিযোগ করেন।
স্থানীয় এলসিএস সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, আমি সমিতির সদস্য ছিলাম। নারীদের ভোটার আইডি কার্ড ছবিসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। অফিসের কথা অনুযায়ী তাদের বলেছিলাম তারা মাটি কেটে মজুরি পাবেন। কিন্তু আমাদের দিয়ে মাটি কাটানো হয়নি। আমরা এ বিষয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
একই সমিতির অপর সদস্য কান্দাগাঁও গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, প্রথমে শুনছিলাম আমরা মাটি কেটে মজুরি পাব। কাজ শুরুর পর দেখি মেশিন নিয়ে আসা হয়েছে। তাই আমরা আর কাজ করতে পারেনি। এতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্দিষ্ট গভীরতা ও প্রস্থ অনুসরণ করে মাটি কাটা হয়নি। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম কাজ করে যে মাটি তোলা হয়েছে তাও ফেলে রাখা হয়েছে খালের একেবারে তীরে। এখন পানির ঢেউয়ে সেই মাটি আবার খালে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানিয়েছেন সমিতির দুইজন নেতৃস্থানীয় লোক প্রকল্প ও এলজিইডি’র সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে বরাদ্দ লোপাটের জন্য শ্রমিকের বদলে মেশিনে মাটি কাটিয়েছেন। ইতোমধ্যে মারিং-কাটিং করে তারা বেশিরভাগ বরাদ্দ তুলে নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সদর উপজেলা এইচএফএমএলআইপি (হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প) সহকারি মো. মোসাব্বির বলেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী বেশি মাটি কাটা হয়েছে। এখন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুঝা যাচ্ছেনা। প্রস্থ ও গভীরতাও ঠিক রাখা হয়েছে। তবে শ্রমিকের বদলে মেশিনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাটি কাটা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় ৮৫ ভাগ কাজ হয়ে গেছে। পানি চলে আসায় বাকি কাজ করানো যায়নি।
প্রকল্পের এই কর্মী ৮৫ ভাগ মাটি কাটার কথা বললেও সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন ভিন্ন কথা। শতভাগ কাজ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, শ্রমিক ও মেশিনের আলাদা মূল্য নির্ধারিত আছে। এটা সমন্বয় করেই বিল দেওয়া হবে। শ্রমিক না পাওয়ায় মেশিন দিয়ে মাটি কাটানো হয়েছে। এতে কোন দুর্নীতি হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে রানা নামে একজন কর্মকর্তা কাজ করতেন। নানা অনিয়মের কারণে কয়েকদিন আগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই অফিসে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী