,

Notice :

সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করুন

সুনামগঞ্জ জেলার খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা সর্বমোট ১৯৯০০ টন। জেলাজুড়ে যেখানে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান ক্রয় শুরু হওয়ার কথা সেখানে আগেভাগেই চাল ক্রয় শুরু হয়েছে ঠিকই ধান ক্রয় শুরু হয়নি এখনও। সরকার নির্দিষ্ট গুদামে চাল ক্রয় শুরু হয়েছে গত ২ মে থেকে এবং নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কারণে একটি একচেটিয়া বাজার তৈরি হয়েছে। অথচ ধান ক্রয়ের নির্দেশ এখনও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের বরাবরে আসেনি। ঘুরেফিরে এর একটাই পরিণতি অর্থাৎ কৃষকরা ধান বিক্রি করতে কৃষক ধান দিয়ে চালের দাম পাবে। কে না জানে ধান থেকেই চাল হয়। এই করে একটি ব্যবসায়িক ফাঁক তৈরি করা হয়েছে। যে-ফাঁক গলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হবে।
সরকারি গুদামে আদেশ পেয়ে চাল ক্রয় শুরু হয়েছে অর্থাৎ ধরে নেওয়া যায় যে-কোনও কারণেই হোক, ধান ক্রয়ের কার্যক্রমের শুরুটা বিলম্বের জটিলতায় আটকে আছে এবং প্রকারান্তরে কর্তৃপক্ষের ধানক্রয় শুরু করতে বিলম্ব হওয়াতে ঠেকায় পড়ে কৃষকরা সংসার চালানোর খরচ জোগাড় করতে গিয়ে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীর কাছে। এবং পরবর্তীতে সরকারি গুদাম ধান নিতে শুরু করলে ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধানটাই গুদামে বিক্রি করবে।
এমতাবস্থায় কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধানক্রয়ের কৃষকবান্ধব কর্মসূচি বলতে গেলে বিলম্বের ফাঁকে পড়ে পুরোপুরি মার খাচ্ছে, কোনও সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছে না। সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহে বিলম্বের ফাঁক তৈরি হওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা মাঝপথে নিজেদের লাভ তোলে নিচ্ছে ঠিকই এবং কৃষকরা ঠকছে বরাবরের মতো। ধান কাটার শুরু থেকেই বিভিন্ন সাংসারিক প্রয়োজনে অভাবগ্রস্ত কৃষকের নগদ টাকার প্রয়োজন হয়। অভাবের তাড়নায় কৃষক ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে অর্থাৎ কালক্ষেপণ করতে না পেরে কয়েকদিন পরের সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে না।
এবারও অন্যান্যবারের মতোই অনেকটা অবস্থাটি এমনই দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে ধান ক্রয় বিলম্বে শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে চাল ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গত ২ মে থেকে। ধান ক্রয় শুরুর সময়টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। কৃষকরা প্রয়োজনের সময় ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না চাল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। এই শুভঙ্করের ফাঁকি বন্ধের খাতিরে সরকারকে তড়িতগতিতে তৎপর হওয়া উচিত। অন্যথায় কৃষকবান্ধব সরকারের সাফল্য ম্লান হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মনে রাখতে হবে, সরকারের পক্ষ থেকেই এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তোলা জরুরি।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন ইতোমধ্যে কৃষকের পক্ষ থেকে দাবি তোলেছে, স্থানীয় পর্যায়ে গুদাম করে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের। সেটা কার্যকর করতে পারলে ভালো হয়। ভেবে দেখা দরকার। সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহের নির্দেশদানে বিলম্ব নয়, এই মুহূর্তেই সরকারি খাদ্যগুদামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া জরুরিভিত্তিতে জরুরি। তাছাড়া কৃষককে বৈশাখের শুরুতে আপতকালীন ঋণ দেওয়া যেতে পারে, যা কৃষক পরবর্তীতে খাদ্যগুদামে ধানের বিনিময়ে পরিশোধ করতে পারবে। এতে করে বিলম্বের ফাঁক তৈরি করে কৃষকের বিপন্নতার সুযোগ নিয়ে তাকে ঠকানোর সুযোগ কেউ পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী